প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ব্রহ্মপুত্রে চীন-ভারতের পাল্টাপাল্টি বাঁধ নির্মাণ, বাংলাদেশকে নদী কূটনীতি শক্তিশালী করতে বললেন বিশেষজ্ঞরা

লিহান লিমা: [২] তিব্বতে ব্রহ্মপুত্রের বাহে চীনের ৬০ গিগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোপাওয়ার বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের পাল্টা পদক্ষেপে অরুণাচলে ১০ গিগাওয়াটের বাঁধ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে ভারত। তিব্বত থেকে ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা ব্রহ্মপুত্রের বাহে চীনের বাঁধ নির্মাণ বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের জন্যই উদ্বেগের। রয়টার্স/হিন্দুস্তান টাইমস/সাউথ এশিয়ান মনিটর

[৩] ভারতে চীনের দূতাবাসের মুখপাত্র জি রং বলেছেন, ‘ইয়ারলুং তাসাংবো নদীতে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের পূর্বে অন্য দেশগুলোর স্বার্থের কথা বিবেচনা করবে চীন।’ তিনি আরো বলেন, ‘জলবিদুৎ প্রকল্প প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। উজান ও ভাটির দেশগুলোতে এই বাঁধের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে।’

[৪] যদি চীন-ভারত দুই দেশ নদীর পানি আটকে রেখে ও প্রবাহ বন্ধ করে একে অপরকে শাস্তি দেয়ার লক্ষ্যে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় তবে ভাটির দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ।

[৫]ভারত থেকে বাংলাদেশে বয়ে চলা ৫৪টি আন্ত-সীমান্ত নদীর মোট পানির মধ্যে ৬০ শতাংশ পানিই আসে ব্রহ্মপুত্র হয়ে। সম্ভাব্য এ ধরনের প্রকল্প বাংলাদেশের নদী বৈচিত্র ও যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর নির্ভর করে জীবন-যাপন করা শতশত মানুষকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

[৬] ইতোমধ্যেই ভারতের নির্মাণকৃত ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশকে চরমভাবে ভোগাচ্ছে। অক্টোবরে হঠাৎ করে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় গোড়াই নদী এখন পলিমাটির স্তর। এই এলাকার বাংলাদেশের ১২৩টি নদী মৃতপায়। যার ফলে বার্ষিক ক্ষতি গুণতে হচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিও ঝুলিয়ে রেখেছে।

[৭] আন্তর্জাতিক আইনে আন্ত:সীমান্ত নদীতে সব দেশের সমান অধিকাার রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশকে অতিসত্ত্বর প্রস্তাবিত বাঁধ নির্মাণে দুই দেশের উদ্যোগে প্রত্যক্ষভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। পানি বণ্টন কূটনীতিতে পূর্বের স্থবিরতা থেকে বের হয়ে নদী কূটনীতি শক্তিশালী করতে হবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত