প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাসান মোরশেদ: মুক্তিযুদ্ধ কেবল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়, এর চেয়েও অনেক গভীর কিছু

হাসান মোরশেদ: মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনলাইনে যারা লেখেন তাদের প্রায়ই বিব্রত করে, বিভ্রান্ত করতে চায় কিছু কোমল খচ্চর। খুব বিনয় সহকারে এমন কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় যেগুলোর উদ্দেশ্য উত্তর পাওয়া নয়-সংশয় সৃষ্টি করা। উদাহরণসহ এমন দুটি প্রশ্ন এবং সম্ভাব্য উত্তর দেখা যাক।

[এক] ‘কিন্তু ভাইয়া মুক্তিযুদ্ধ তো হয়েছিলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ। ধর্মনিরপেক্ষতা তো পরে জুড়ে দেওয়া হয়েছে’। উত্তর : মুক্তিযুদ্ধ কেবল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না, এর চেয়ে অনেক গভীর কিছু। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হলে প্রত্যেকদিন মুক্তিযুদ্ধ হতো। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিলো ধর্মীয় জাতীয়তার পরিচয়ে। কিন্তু ১৯৪৮ থেকেই এদেশের মানুষ বুঝতে শুরু করেছে ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়, ধর্মের ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয় হয় না।

ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে শিক্ষা আন্দোলন, ৬ দফা, গণ-অভ্যুত্থান, ৭০ সালের নির্বাচন, ৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন হয়ে মুক্তিযুদ্ধ নির্মাণ করেছে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতি পরিচয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় জাতীয়তাবাদকে মুছে দিয়েছে। এটাই ধর্ম নিরপেক্ষতা। ধর্ম ব্যক্তিগত আচার, জাতি পরিচয় নয়। সে জন্যই মুক্তিযুদ্ধে স্লোগান ছিলো জয় বাংলা। ‘তুমি কে আমি কে- বাঙালি বাঙালি’। ‘বাংলার হিন্দু, বাংলার মুসলিম, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার খ্রিস্টান আমরা সবাই বাঙালি। বাঙালি জাতীয়তাবাদ মানেই ধর্ম নিরপেক্ষতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধ। তাই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা-ধর্মনিরপেক্ষতা। এটা এতো ওতপ্রোত যে আলাদা করে বলার কিছু নেই।

[দুই] ‘কিন্তু ভাইয়া, একজন অমুসলিম মুক্তিযোদ্ধাকে কী শহীদ বলা যায়’? উত্তর : মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ধর্ম নিরপেক্ষতা। এই রাষ্ট্র সৃষ্টির জন্য যেমন প্রাণ দিয়েছেন সিরাজ, তেমনি প্রাণ দিয়েছেন জগতজ্যোতি। তুমি যদি কুল্লাপাথর, বাঁশতলা, ডলুরার মতো মুক্তিযোদ্ধা সমাধিতে যাও দেখবে একই সাথে কবরস্থ হয়েছেন হিন্দু মুসলমান মুক্তিযোদ্ধারা। সেদিন কেউ এসব প্রশ্ন তোলেনি। এটাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। পাকিস্তান আর রাজাকারদের কাছে ১৯৭১ ছিলো ধর্মযুদ্ধ ‘জেহাদ’, মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে না।

মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এ যুদ্ধ ছিলো মানবতার। তাই এ রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছেন যারা নিজেদের প্রাণ দিয়ে, আমরা তাদের মধ্যে কোনো বিভাজন করি না। শ্রদ্ধাবশত আমরা তাদের সবাইকে ‘শহীদ’ সম্বোধন করি। শেষ বিচারে কে কোথায় যাবেন সেটা আল্লাহ নির্ধারণ করবেন। তুমি, আমি না। ওটা আল্লাহর এখতিয়ারে থাক। মানুষ হিসেবে আমরা সকল শহীদকে সমান মর্যাদা দেবো। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত