প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমরা কি বিশ্বমঞ্চে নিজেরাই নিজেদের হাস্যকর বানাচ্ছি?

নাসিম নয়ন: রাজনীতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, একই সাথে কঠিন এবং ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ। ভিলেজ পলিটিক্স থেকে ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স, বলা যায় বিশ্বের প্রায় সবকিছুই রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত। কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত হওয়া আমেরিকার নির্বাচন সে কারণেই বিশ্বের দৃষ্টি এক জায়গায় করে রেখেছিলো। আর এসব কারণেই রাজনীতিবিদগণ হয়ে ওঠেন অত্যন্ত পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। রাজনীতি, রাজনৈতিক ইস্যু কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের প্রতি একটা শ্রেণির আগ্রহ সবসময়ই অনেক বেশি থাকলেও, একটা বড় অংশ এই ব্যাপারে উদাসীন। আর এ জন্যই রাজনীতি কিংবা রাজনৈতিক কারণে কোনো একটি দেশকে আমরা যেভাবে চিনি, অন্যান্য কারণে হয়তো অনেক দেশ কিংবা জাতিকে আমরা আরো ভালোভাবে চিনি।

একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে বর্তমান বিশ্বে খেলাধুলা, মিডিয়া এবং এইসব জগতের তারকারা একটি দেশকে অনেকাংশেই ফুটিয়ে তোলে। আর ইদানিংকালে এসবকিছুই ভেসে আসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। টিভিসেটের সামনে আমরা যতোটা না সময় দিই, তার থেকে অনেক অনেক বেশি সময় দেওয়া হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর মূলত এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই মুহূর্তের মধ্যে আমরা সারা বিশ্বের সকল কিছুর আপডেট পাই। গত ২৫ নভেম্বর ম্যারাডোনা চলে গেলেন! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কেউ কি আছেন যিনি জানেন না। খেলার জগতে অসংখ্য তারকা আছেন অসংখ্য দেশে। অনেক সময়ই সেই তারকার নামে আমরা সেই দেশকে চিনি। যেমন লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা, রোনালদো পর্তুগাল, নেইমার ব্রাজিল, শহীদ আফ্রিদি পাকিস্তান, সৌরভ গাঙ্গুলি ভারত, সাকিব-আল-হাসান বললেই যেমন বিশ্বের অনেক দেশের অসংখ্য মানুষের মনে ভেসে উঠবে বাংলাদেশের নাম। এরকম খেলার জগতের তারকারা স্ব স্ব দেশের জন্য হিরো। এরকম কিছু হিরো থাকেন মিডিয়া জগতে। যেমন হলিউডের ড্যানিয়েল ক্রেগ, ডোয়েন জনসন, চীনের ব্রুস লি, জ্যাকি চান, বলিউডের অমিতাভ বাচ্চন, শাহরুখ খান, আমীর খান, সালমান খান, ঢালিউডের রাজ্জাক, সালমান শাহ, মান্না ইত্যাদি। এরকম গানের জগতেও অনেক বড় বড় শিল্পী আছেন প্রতিটি দেশে। প্রত্যেকের কর্ম আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া যায়। কোনো ভিডিওতে কেমন ভিউজ হলো, শেয়ার হলো, লাইক ডিজলাইক এগুলোর উপরে অনেককিছুই নির্ভর করে।

নির্ভর করে কথাটা এ জন্যই বললাম কারণ আমাদের বর্তমান বিশ্বে অনলাইনের মাধ্যমে অনেককিছুই নিয়ন্ত্রিত হয়, অনলাইন ছাড়া বর্তমান বিশ্ব কোনোভাবেই কল্পনা করা সম্ভব না। আমরা প্রায়শই বলে থাকি,‘মানুষ কি ভাববে!’ কথাটাকে একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আসলেই আমাদের কর্মের উপরে অনেককিছুই নির্ভর করে। আর সেটা হোক অফলাইনে কিংবা অনলাইনে। আমরা কোনো দেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে অবশ্যই সবার আগে গুগল করি কিংবা ইউটিউবে সার্চ করি, আর এর মাধ্যমে একটা ধারণা জন্ম নেয়। সার্চে অবশ্যই সেই ভিডিওটাই সামনে আসে যেটার ভিউজ এবং শেয়ার একটু বেশিই হয়। আচ্ছা একটা প্রশ্ন করি? যদি আপনার নেপালের এক বন্ধু প্রশ্ন করে, ‘তোমাদের দেশের হিরো নাকি হিরো আলম?’ কি উত্তর দিবেন? ভাবার কিছু নেই যে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি কাউকে হইতে হয় না। দেশের বাহিরে আমাদের প্রিয় দেশের হিরো হয়েছে হিরো আলম! ভাবা যায়! এখন আসি, হিরো আলমকে হিরো আলম বানিয়েছে কে? যদি এককথায় বলি, তবে উত্তর আসবে, আমরা, অবশ্যই আমরা। আজকেও দেশের শিক্ষিত সমাজের একটা বড় অংশের ফেইসবুক ওয়ালে যখন হিরো আলমের গান ঘুরে বেড়ায় তখন সারাদেশের অবস্থা কী?

একটা নিউজের শিরোনাম দেখলাম, হিরো আলম বলেছে, তার প্রথম গান ভাইরাল, মানুষ অনেক পছন্দ করেছে, তাই সে সামনের দিনে পুরো এলবাম নিয়ে আসতেছে। ভাবতে পারেন? শুধু হিরো আলম নয়, এরকম অনেককেই, অনেকের অনেক অসুস্থ কর্মকেই আমরা ছড়িয়ে দিয়েছি দেশ থেকে বিদেশে। সহজ বাংলায় যদি বলি আমরাই ডাস্টবিন থেকে মাঝে মাঝেই কিছু পঁচা, নোংরা দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু সামনে নিয়ে আসি আর এজন্যই সেটার দুর্গন্ধ আজ দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গেছে। এরকম অখাদ্য কুখাদ্যগুলোকে সামনে নিয়ে আসার নাম দিয়েছি ‘ট্রল’। অথচ ট্রলের অর্থ এটা ছিলো না। আমরা ভাবছি আমরা ট্রল করছি অথচ বাস্তবতা হচ্ছে এটাকে পুঁজি করে তারাই মূলত নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছে এবং অর্থ উপার্জন করছে। আর দিনশেষে এটার নেতিবাচক প্রভাব আসছে পুরো দেশের উপরে। আমাদের ফেসবুক, ইউটিউব ব্যবহারে আরো যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন, আরো বেশি সচেতন হওয়া জরুরি। আমাদের আবারো ভাবা উচিত, আমরা কি বিশ্বমঞ্চে নিজেরাই নিজেদের হাস্যকর বানাচ্ছি? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত