প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিশু চুমকি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

আফরোজা সরকার: [২] রংপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়ুয়া প্রথম শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে আসামি রিয়াদ প্রধানের (২৪) ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছড়া ওই মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এক নারীকে বেকসুল খালাস দেওয়া হয়েছে।

[৩] মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মোস্তাক পাভেল রায়হান এ রায় দেন। এসময় অভিযুক্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

[৪] রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরকারি কৌঁসুলি অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মাফজিয়া হাসান দিবামণি।

[৫] আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণাকে ঘিরে সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণে বারতি নিরাপত্তা নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পূর্বে বিচারকের এজলাসের বাহিরে প্রজেক্টর পর্দার মাধ্যমে ৪৬ পৃষ্টার রায়ের কপি প্রদান করা হলো। বাহিরে উৎসুক মানুষের উপচে পড়া ভির দেখা যায়।

[৬] এদিকে মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের দিনমজুর শাজাহান আলীর শিশু কন্যা তানজিলা খাতুন চুমকি স্থানীয় দুরামিঠিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

[৭] ঘটনার দিন ২০১৬ সালের ১৪ জুন বিকেলে বাড়ির সামনের গাছ বাগানে খেলছিল শিশু চুমকি। এসময় প্রতিবেশি মমিন প্রধানের ছেলে রিয়াদ প্রধান আম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিশুটিকে নিজ বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এসময় শিশুটি চিৎকার করলে ভয়ে আসামি রিয়াদ তাকে শ্বাসরােধে হত্যা করে।

[৮] পরে বাড়ির গৃহকর্মী ধলি বেগমের (৫০) সহয়াতায় সিমেন্টের বস্তায় ভরে খাটের নিচে গর্ত খুঁরে মাটি চাপা দিয়ে রাখেন। ওইদিন সন্ধ্যার চুমকির কোনো খোঁজ না পেয়ে পুরো গ্রামে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করে তার উদ্বিগ্ন পরিবার।

[৯] এর তিন পর ১৭ জুন সকালে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিয়াদ প্রদানের বাড়ির খাটের নিচ থেকে চুমকির মরদেহ উদ্ধারসহ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর গৃহকর্মী ধলি বেগম পলিয়ে থাকলেও বেশ কিছুদিন পর ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

[১০] ঘটনার তদন্ত শেষে ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নজির হোসেন। চার বছর বিচারাধীন থাকার পর মঙ্গলবার চুমকি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এতে মৃত্যৃণ্ডাদেশ ছাড়াও এক লাখ জরিমানা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

[১১] বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাওছার আলী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফাঁসির আদেশ দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।

[১২] অন্যদিকে আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী অ্যাডভোকেট কাজী মাহফুজুল ইসলাম, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান। সম্পাদনা: সাদেক আলী

 

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত