প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সহকর্মীর ছোড়া পেট্রোলে দগ্ধ যুবকের মৃত্যু, তিনজন গ্রেপ্তার

সুজন কৈরী: রাজধানীর শ্যামপুর জুরাইনে একটি পেট্রল পাম্পে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ায় ঘটনায় দগ্ধ যুবক রিয়াদ হোসেন (২০) মারা গেছেন। এ ঘটনায় জড়িত ইমন, ফাহাদ আহমেদ পাভেল ও শহিদুল ইসলাম রনি নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদরের সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা। ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ নেয়া হয় ঢাকা মেডেকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার জানিয়েছে ঢামেক কর্তৃপক্ষ।

নিহতের পরিবার বলছে, ময়নাতদন্ত শেষে জুরাইনের বাসায় নেয়া নিহতের মরদেহ ও এরপর জুরাইন ক্রস্থানে দাফন করা হবে।

পুলিশ বলছে, ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার ফাহাদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে রিয়াদকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজন অভিযুক্ত স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

জানা গেছে, যে পেট্রলপাম্পে রিয়াদ কাজ করতেন সেখানে ১৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। এরমধ্যে মামলার আসামি তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, এস আহমেদ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড পেট্রল পাম্পে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন নিহত রিয়াদ। পড়ালেখার পাশাপাশি পরিবারকে সহায়তার জন্য চলতি মাসে কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। চাকরি শুরুর পর থেকেই হিসাবরক্ষক ফাহাদ নানাভাবে হেনস্তা করতেন রিয়াদকে। একদিন তীব্র বাগ্বিতণ্ডাও হয় দুজনের মধ্যে। এরপর রিয়াদকে হত্যার পরিকল্পনা করে ফাহাদ। তার অংশ হিসেবে ২৪ নভেম্বর ফিলিং স্টেশনের স্টাফ রুমে নজেল অপারেটর মাহমুদুল হাসান ইমন ও রনি রিয়াদের গায়ে পেট্রল ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে রিয়াদের শরীরে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। তার শরীরের ৪০ ভাগ পুড়ে যায়। পরে তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের ডিসি মো. ওয়ালিদ হোসেন বলেন, নানা অজুহাতে রিয়াদ হোসেনকে মামলার আসামিরা বিরক্ত করতেন। একপর্যায়ে তারা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটায়। যথাযথ তদন্ত করে আমরা আদালতে তদন্ত পেশ করব।

এদিকে এমন করুণ মৃত্যুকে দুষ্টমির ছল উল্লেখ করে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ওখানে ঘুমাইছে দেখে একজন হালকা পেট্রল ঢেলে দিয়েছে, অন্য আরেকজন আবার উঠে ওর গায়ে পেট্রল দিয়েছে। তারপত দুষ্টামি করতে করতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

রিয়াদের বাবা ফরিদ হোসেন বলেন, রিয়াদ সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের শিক্ষার্থী ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম সালাউদ্দিন ফিলিং স্টেশনে কাজ করতো। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল বড়। ছেলের সহকর্মীরা তাকে পেট্রল ঢেলে শরীরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

 

সর্বাধিক পঠিত