প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শাহ্ আলী ফারহাদ: এক শতাংশেরও কম উগ্রবাদীর জন্য পৃথিবীর দেড়শ কোটিরও বেশি মুসলমানের যে বদনাম হয়, সেটা তারা বুঝতে পারছে

শাহ্ আলী ফারহাদ : মানুষ সজাগ হচ্ছে। ৭-৮ বছর আগের সাথে তুলনা করলে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি পার্থক্য। ধর্মের দোহাই দিয়ে অনলাইনে যেকোনো আজেবাজে কথাই আগে আনচ্যালেঞ্জড থাকতো। অ্যাক্টিভিস্টরা বাদে কেউ মন্তব্য করতো না। ভাবতো থাক কী দরকার এসব নিয়ে কথা বলার। কিন্তু দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে তখন মানুষ বলতে শুরু করে। এখন তারা বলছে।

ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দেরিতে হলেও মানুষের মন্তব্য শুরু হয়েছে। যদিও সেই আওয়াজ আরও বলিষ্ঠ হতে হবে, বার্তার কাঠিন্যও আরও জোরদার করতে হবে, কিন্তু শুরুটা যে হয়েছে তা অন্তত বলাই যায়। এই কয়েক বছর আগেও যেকোনো নিউজ পেজের মন্তব্যের সেকশন থাকতো এসব উগ্রবাদীদের একচ্ছত্র দখলে। হতাশ হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া কিছু করার থাকতো না।

কিন্তু দিনের পর দিন মেয়েদের নিয়ে যা তা বলা, তাদের শিক্ষা বা কর্মসংস্থান নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা, অন্য ধর্মের শুধু না একই ধর্মের ভিন্ন মতের মানুষদের নিয়েও কুৎসা করা। ধর্মের নাম ব্যবহার করে দেশে বিদেশে সহিংসতা উস্কে দেয়া, জঙ্গিদের সন্ত্রাসবাদের সমর্থন করা, শিল্প-সাহিত্য, বিজ্ঞান বা ইতিহাস নিয়ে অজ্ঞের মতন মন্তব্য করা, দিনের পর দিন মাদ্রাসার বাচ্চাদের ধর্ষণ করা, অন্যের দয়া-দাক্ষিণ্যের উপর নির্ভরশীল থেকে নিজে কোনো প্রোডাক্টিভ কাজ না করে সারাদিন রাষ্ট্র, সরকার সহ এর-ওর ভুল ধরা।

কথাবার্তা পছন্দ না হলেই যারে তারে নাস্তিক, মুরতাদ ও কাফের ঘোষণা করা এরকম অনেক বিষয়েই সাধারণ মানুষ আজ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। এখন তারা জবাব দিতে শুরু করেছ। এর কারণ বাংলাদেশের মানুষ শিক্ষিত হচ্ছে। পৃথিবী সম্পর্কে জানছে। ধর্মের মূল স্পিরিট সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছে। ধর্মের অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে ধর্মের প্রকৃত বাণী তারা নিজেরাই জানতে পারছে, অনুধাবন করতে পারছে। এক শতাংশেরও কম উগ্রবাদীদের জন্য সারা পৃথিবীতে দেড়শ কোটিরও বেশি মুসলমানের আজ যে বদনাম হতে হয় সেটাও তারা বুঝতে পারছে। তাই অনলাইনে প্রতিরোধ (সীমিত আকারে হলেও) শুরু অন্তত হয়েছে। মানুষ রং নম্বর চিনতে শুরু করেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত