প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খেজুরের রস!

সাগর আকন: [২] উপকূলের অন্যতম জেলা বরগুনা জেলার আমতলী-তালতলী, পাথরঘাটা, বামনা-বেতাগীসহ বরগুনা সদর উপজেলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খেজুরের রস।

[৩] এক সময়ে শীত মৌসুমের শুরুতেই গ্রামগঞ্জের মানুষরা খেজুর গাছ কাটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। খেজুর রসে তৈরি নানা প্রকার পিঠা-পায়েস ছিল এ অঞ্চলের মানুষের নবান্নের সেরা উপহার। খেজুর রস দিয়ে অল্প সময়ে তৈরি করা হতো বাটালি গুড়, ভীড় মিঠাসহ নানা রকমের মজার মজার খাবার সামগ্রী।

[৪] খেজুর গাছ কাটার সাথে নিয়োজিতদের এ অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় শিয়ালী অথবা গাছি। সময় বদলে যাওয়ার সাথে সাথে বদলাচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবন-যাপন প্রণালী। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে দেশের প্রচলিত সংস্কৃতি। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এখন অপসংস্কৃতির কাছে জিম্মি।

[৫] আমাদের সুপ্রচলিত একটি প্রবাদ হচ্ছে, আমরা ভাত-মাছে বাঙ্গালি। এক সময় এটাই ছিল বাঙ্গালী জাতির বড় পরিচয়। সে সময় ছিলো বাংলার নানা ঐতিহ্য, যেগুলো আমাদের গ্রাম বাংলাকে করেছিলো সমৃদ্ধ। কালের বিবর্তনের সাথে সাথে এখন গ্রামবাংলার বহু ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস।

[৬] এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলায় বহু খেজুর গাছ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে খেজুর গাছ ব্যবহার করার কারণেও এ গাছ কমে গেছে। ফলে এ অঞ্চলের খেজুর রস ও গুড় দুস্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে।

[৭] এক সময় বরগুনা জেলার আমতলী-তালতলী, পাথরঘাটা, বামনা-বেতাগীসহ বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করত গাছিরা। কিন্তু গত ১৩-১৪ বছর ধরে দক্ষিণাঞ্চলে খেজুর গাছের সংকট দেখা দেয়ায় রস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দিনে দিনে খেজুর রস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামগঞ্জের মানুষ।

[৮] কয়েক বছর আগেও শীত মৌসুমে খেজুর রসের তৈরি নানা প্রকার পিঠা-পায়েসসহ সুস্বাদু নবান্নের খাদ্যসামগ্রী দিয়ে উৎসাহ ও আনন্দের মধ্যে নবান্নকে বরণ করত এ অঞ্চলের মানুষরা। এখন আর খেজুর রস না পাওয়ায় নবান্নের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ শীত মৌসুমে অতিথিদের রসের তৈরি পায়েস দিয়ে আপ্যায়ন করানোর প্রচলন এখন ভুলতে বসেছেন।

[৯] গাছ কাটার কাজে ব্যস্ত বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ছোপখালী গ্রামের মোঃ সাইদুল ইসলাম রাজু জানান, গ্রামে এখন খেজুর গাছ না থাকায় শীতের আনন্দটাই হাড়িয়ে গেছে গ্রাম থেকে। অন্য এক কৃষক হানিফ আকন বলেন, এখন আমার নিজের খেজুর গাছ না থাকায় পরের গাছ কেটে রস সংগ্রহ করতে হয়। গাছের মালিককে সপ্তাহে তিন দিন রস দিয়ে বাকি চার দিন আমি নিয়ে বাজারে বিক্রি করি। এতে আমার শ্রমের মূল্য হয় না। কিন্তু মৌসুমি রসের স্বাদ পেতে গাছ কাটা এখনো ছাড়তে পারিনি। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বাধিক পঠিত