প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী : খিচুড়ি-রান্না বা ঘাস-চাষ শেখা অথবা সুউচ্চ বিল্ডিং দেখার জন্য বিদেশ সফর হাস্যকর

দীপক চৌধুরী: বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভারত-পাকিস্তানের গণমাধ্যমে যখন প্রশংসা করছে ঠিক তখনই নানারকম নেতিবাচক সংবাদ তৈরি হচ্ছে আমাদের এখানে। প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি এসব সংবাদ সৃষ্টির নেপথ্যে থাকেন সবসময়। দেখলাম, ‘ঘাস চাষ শিখতে বিদেশ যাবেন ৩২ কর্মকর্তা’ এমন সংবাদ সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের মধ্যে তিন কোটি ২০ লাখ টাকা খরচ হবে শুধু কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে। ‘খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশ সফরের আয়োজন করা হয় এর আগে। ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পেই এমন ব্যবস্থা ছিল। বিদেশে সুউচ্চ বিল্ডিং দেখতে বিদেশ সফরের প্রস্তাব, খাল খনন শেখা, পুকুর খনন শেখা, কাজুবাদাম চাষ পদ্ধতি শেখা, মৎস্য চাষ প্রযুক্তি হস্তান্তর শেখা, সড়ক উন্নয়ন শেখা ও দেখার প্রস্তাব সম্পর্কিত বিষয়গুলো ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ঘাস চাষ শেখা কী এমন কোনো প্রযুক্তিগত বিষয়? ঘাসের চাষ শিখতে, খিচুড়ি রান্না শিখতে, বিদেশে সুউচ্চ বিল্ডিং দেখতে বিদেশ সফরের আয়োজন হাস্যকর। আর যাই বলি না কেন, বিদেশ সফরকে যেন ‘প্লেজার ট্রিপ’ করে তোলা হচ্ছে। অবশ্য শোনা যাচ্ছে, অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ ও নির্দেশে কাটছাঁট হচ্ছে বিভিন্ন প্রস্তাব। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রশ্ন উঠতেই পারে- ঘাস চাষে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর কতটুকু প্রয়োজন? উন্নত জাতের ঘাস চাষ সম্প্রসারণ ও লাগসই প্রযুক্তি হস্তান্তর শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজন করা হয় ৩২ সরকারি কর্মকর্তার বিদেশ সফরের। এরমূল উদ্দেশ্য প্রাণী পুষ্টির উন্নয়ন। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিতে পড়ায়ই এ ক্ষেত্রে কমছে ব্যয়ও। তাঁর প্রতি দেশের মানুষের আস্থাকে আরো বৃদ্ধি করার চেষ্টা তো প্রশাসনের লোকদেরই করার দায়িত্ব। গুলি-গ্রেনেড- পেট্রল বোমা নিক্ষেপকারীরা লুফে নেবে- এমন কাজ কী কারো করা উচিৎ।

সবকিছুই যেন আমরা দায়সারা গোছের ‘কাজ’ হিসেবে সম্পাদন করতে চলেছি। বিদেশ সফরকে ‘আনন্দ সফরে’ পরিণত করছি কেবল ব্যক্তিস্বার্থে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার চেষ্টা তো নয়ই বরং পরিকল্পিতভাবে ‘দুর্নীতি’র পথ প্রসারিত করছি। দেশের কাজে বা উন্নয়নের কোনো লক্ষ্যে অর্থায়ন ও বরাদ্দ কোনো সমস্যা নয়। এটিকে বিভ্রান্ত করতেই নানা কৌশল। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে কর্মকর্তার সংখ্যাও কমাতে হবে।
পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে যাওয়া সড়ক সামনের দিকে। মহাসড়কে পা রেখেছি আমরা। অগ্রগতিকে পেছনে টেনে নিতে হাঁটছি কেন? জনগণের অর্থের মূল্য অনেক। এই অর্থ ভীষণ কষ্টের।

কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের বিষয়ে বহুবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কেবল একান্ত প্রয়োজনে বিদেশে পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের ব্যয়ও কমাতে হবে। কিন্তু কেন যেনো ছদ্মবেশী দুর্নীতিবাজদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। অন্যায়ের মাত্রাকে নতুনভাবে বিচার বিশ্লেষণের প্রয়োজন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত