প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফিরে দেখা, ২৫ নভেম্বর ১৯৭২
উদিসা ইসলাম: মুক্তিযুদ্ধে ১০ লাখ নারী ‘সর্বহারা’

উদিসা ইসলাম: বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন, আজ পড়ুন ‘আমাদের নতুন সময়’ ওই বছরের ২৫ নভেম্বরের ঘটনা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে প্রায় চার লাখ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে শতকরা ২০ ভাগ নারী সমাজ কর্তৃক পরিত্যক্ত হয়েছেন বা সম্পত্তি হারিয়েছেন, অথবা তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম পুরুষকে হারিয়েছেন।

এছাড়া আরও প্রায় ১০ লাখ নারী অর্থনৈতিক দিক দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। জাতীয় পরিবার-পরিকল্পনা সেমিনারের ষষ্ঠ ও শেষ দিনের অধিবেশনে পেশ করা এক নিবন্ধে বাংলাদেশ মহিলা পুনর্বাসন প্রকল্পের জাতীয় বোর্ডের প্রশাসনিক পরিচালক এস জাহাঙ্গীর হায়দার এই তথ্য প্রকাশ করেন। মহিলা পুনর্বাসন বোর্ডের বিভিন্ন জেলা অফিস কর্তৃক সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীর হায়দার এ নিবন্ধ প্রস্তুত করেন বলে জানান।

নিবন্ধে বলা হয়, দুই লাখ ৬৯ হাজার ২৫০ জন নির্যাতিতা নারীর মধ্যে শতকরা ৮ দশমিক ৩ ভাগ নারী ধর্ষণের শিকার ও শতকরা ৪৯ দশমিক ৫ ভাগ তার পারিবারিক সম্পত্তি হারিয়েছেন। নিবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নির্যাতনের শিকার নারীদের মধ্যে শতকরা ৬ দশমিক ৪ ভাগ নারী মেট্রিক বা তার ওপরে শিক্ষিত। নির্যাতনের শিকার নারীদের মধ্যে শতকরা ৭০ দশমিক ২ ভাগ পল্লির বাসিন্দা। জাহাঙ্গীর হায়দার বলেন, ‘আরও বহু ধর্ষণের শিকার নারীর হিসাব সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

কারণ, সামাজিক লজ্জায় অনেকে তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া যানবাহন ও যোগাযোগের অসুবিধার জন্য স্বাধীনতার পরপরই কর্মচারীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরেজমিনে তদন্ত করতে না পারার ফলে বহু হিসাব সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।’ বাংলাদেশ অবজারভার, ২৬ নভেম্বর ১৯৭২ বঙ্গবন্ধুকে সম্মান জানাবে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লিটারেচার’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবরে প্রকাশ করা হয়। এই সম্মান জানাতে একটি বিশেষ সমাবর্তন উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গবন্ধু যাতে নিজে উপস্থিত থেকে উপাধি গ্রহণ করতে পারেন, সেজন্য তার সুবিধামতো সময়ে সমাবর্তন উৎসবের তারিখ ঠিক করা হবে।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু ছাত্রজীবনে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় আইন কলেজের ছাত্র ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য এস এম সেন। তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে সম্মানসূচক ডক্টরেট লিটারেচার প্রদানের জন্য আগামী ৫ ডিসেম্বর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান ডাক দেয়। দৈনিক ইত্তেফাক, ২৬ নভেম্বর ১৯৭২বাধ্যতামূলক যৌন শিক্ষা প্রবর্তনের সুপারিশ। ঢাকায় পরিবার-পরিকল্পনা সংক্রান্ত জাতীয় সেমিনার সমাপ্ত হয়েছে। সেমিনারে বর্তমানের ভ্রান্ত ধারণা অপসারণ করে জীববিদ্যার পাঠক্রমের সব পর্যায়ে বাধ্যতামূলক যৌন শিক্ষা প্রবর্তন করে সুস্থ রীতিনীতি উৎসাহিত করার সুপারিশ করা হয়।

জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে ব্যাপক আইনি সংস্কার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে অনুসন্ধান, সুপারিশ ও প্রস্তাব পেশের জন্য সেমিনারে সর্বসম্মতভাবে একটি সার্বক্ষণিক কমিশন গঠনের জন্য সুপারিশ করা হয়। সেমিনারে স্বাস্থ্য ও মানবিক কারণে গর্ভপাত আইন সহজ করার সুপারিশ করা হয়। দৈনিক বাংলা, ২৬ নভেম্বর ১৯৭২বাঙালিদের প্রতি নজর দিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ পাকিস্তানে আটক পাঁচ লাখ নিরাপরাধ অসহায় বাঙালিদের বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য বিশ্বের সংবাদপত্রের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

লন্ডনের ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে সামাদ আজাদ এ আহ্বান জানান। এদিকে বাংলাদেশ ও উত্তর ভিয়েতনাম পরস্পর পরস্পরকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় এই দিনে। বিকালে হ্যানয় ও ঢাকা থেকে যৌথভাবে স্বীকৃতির কথা ঘোষণা করা হয়। এই খবরে উল্লেখ করা হয় যে, উত্তর ভিয়েতনাম সরকারের এই স্বীকৃতি নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী দেশের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯৫টিতে।

 

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত