প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খাজা নিজামুদ্দিন: আওয়ামী লীগের ‘মার্কিন স্ট্র্যাটেজি’

খাজা নিজামুদ্দিন: রাজনীতিতে মার্কিন স্ট্র্যাটেজিকে এক লাইনে বলে দেওয়া যায়, তা পরে বলছি। ১২ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মার্কিন স্ট্র্যাটেজির একটা দারুণ ছাপ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সরকারের এমন কয়েকজন উপদেষ্টা আছেন (যেমন মাননীয় উপদেষ্টা গওহর রিজভী এবং তাকে বেশ পছন্দ করি) তারা অতি উঁচু মাপের স্কলার, হার্ভার্ড থেকে শুরু করে দুনিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করা মানুষ আছে। মুশকিলটা হলো এই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজি নিয়ে পড়াশোনা করে তাদের নিয়ে। ব্যক্তিগতভাবে আমি দুজন হার্ভার্ড থেকে পড়া মার্কিন প্রফেশনালদের সাথে কাজ করেছি। তাদের স্বভাবের মধ্যে দেখি একটা লিডারশিপ লিডারশিপ ভাব। তারা যেন লিড করতেই দুনিয়াতে এসেছেন। নিঃসন্দেহে তাদের স্ট্র্যাটেজির সাথে পাল্লা দেওয়া আমাদের দেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের পাতলা ডাল খেয়ে যারা বড় হয়েছি আমরা তাদের পাল্লা দেওয়া কঠিন না, একেবারে অসম্ভব। এই হার্ভার্ডের লোকজনদের একটা কমন চরিত্র থাকে তা হচ্ছে এরা নেটওয়ার্কে ওস্তাদ। আওয়ামী লীগ সম্ভবত এর কতোগুলো সুবিধা পেয়েছে।

প্রথম ২ বা ৩ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগের কট্টর শত্রুুদের আওয়ামী লীগ ম্যানেজ করে ফেলে, বলা যায় তাদের পকেটে ভরে ফেলে অবশ্য মার্কিন পন্থী যারা লীগের পকেটে ঢুকেছে, তারা একে বলে ইউন ইউন স্ট্র্যাটেজি। এদিকে লীগও সাবধানে তাদের হ্যান্ডেল করছে, তাদের প্রচুর সুবিধা, টাকাপয়সা, সম্মান, প্রকল্প বিস্তর দিয়ে যাচ্ছে। এটা হলো মার্কিন স্ট্রাটেজির অন্যতম একটা ধাপ। আপনি কাউকে বশ করতে চান, তাকে দিয়ে দিয়ে অভ্যস্ত করে দেন এক সময়ে আর বের হতে পারবে না। যেমন বাংলাদেশে কমিউনিস্ট বা ইউনিয়ন করা লোকজনদের অনেক এনজিওসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রচুর ফান্ড দিয়েছে, ব্যবসা করার নানা চ্যানেল করে দিয়েছে। দেখা গেছে, ২৫ বা ৩০ বছর পরে এসব কমিউনিস্টরা একদিকে মিউ মিউ সুরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক মুখে বলে, আর অন্যদিকে মার্কিন সুবিধা নিতে নিতে এগুলো চরম দালালে পরিণত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ হয়তো এই কাজটিই করছে গত ১২ বছর। ১২ বছর আওয়ামী লীগ থেকে কে না সুবিধা নিয়েছে? বিএনপির বহু নেতা বহু সুবিধা নিয়েছে। তারেক জিয়ার বন্ধুদের বহু প্রতিষ্ঠান ১২ বছরে ফুলেফেপে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে যারা লীগের কট্টর সমালোচনা করে, এরাও সরকারের নানা প্রজেক্ট পায় এবং সেখানে চাকরি করে, আর সকাল বিকাল ফেসবুকে সরকারের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে যাতে পরের প্রজেক্ট পায় অথবা তার চাকরিটা চলতেই থাকে। জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীরা সীমাহীন সুবিধা নিয়েছে। বামপন্থীরা কতো প্রজেক্ট পেয়েছে তার হিসেব নেই। পদ্মাসেতুর চেয়ে ৫ গুণ বড় রূপপুর প্রজেক্টে বামপন্থীরা অনেক কিছু পেয়েছে। জামায়াত শিবির ইতিহাসের সর্বোচ্চ টাকার মালিক হয়েছে গত ১২ বছরে। শিক্ষাখাতে বছরে ১ লাখ কোটি টাকার বাজার পুরোটাই জামায়াত শিবিরের দখলে। এছাড়া গার্মেন্টস, চিকিৎসা, পণ্য পরিবহণ, পরিবহণ, আইটি খাত, নৌ বাণিজ্যতে একদম বাধাহীন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে জামায়াত শিবির।

ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে কী পরিমাণ সুবিধা পেয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই সুবিধা লীগ, বিএনপি, জামায়াত শিবির, বামপন্থী, আমলারা সবাই পেয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সুবিধা ইতিহাসে কল্পনাতীতিভাবে বাড়িয়েছে। ২৪ হাজার কোটি টাকা থেকে আজ বেতন দিচ্ছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। আর নানা সুবিধা তো আছেই। তাহলে আওয়ামী লীগ কাকে দেয়নি? এটাই হলো মার্কিন স্ট্র্যাটেজি। সবাইকে দিতে থাকো। দিয়ে যাও। কট্টরপন্থা ভালো নয়। নিজের জন্য সবাইকে খুশি রাখো। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় সাফল্য সব রাজনৈতিক দল, সব পেশা, সব ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের সীমাহীন সুবিধা দিয়েছে। আর প্রান্তিক মানুষের জন্য অনেক কিছু করেছে, তাও সত্যি। কৃষকদের সুবিধা দিয়েছে, তাতে উৎপাদন বেড়েছে অনেক। সেখানেও দুইটা কথা আছে।

কৃষি খাতে যে মধ্যস্বত্বভোগী দালাল টাউটরা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে। সেই দালালদের মধ্যেও আছে সব দলের সব লোভী, দুর্নীতিবাজ টাউটরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটা কাজ করে তা হলো সবাইকে অনেক কিছুই দেয়, তারপরে নেয় কিন্তু অনেক বেশি। আওয়ামী লীগ সেটা করবে না, সেই প্রত্যাশা করি। আর বড় প্রত্যাশা করি, এইসব সুবিধাবাদীদের নিশ্চয় একদিন সুতা টান দিয়ে ঝুলিয়ে দিবে। সব দলের সব দুর্নীতিবাজ, সব পেশার সব দালাল, কমিশনভোগী সব দালালদের বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড়া করাবে। ১২ বছর তো হলো। এবার ফিরে যাক বঙ্গবন্ধুর শোষণমুক্ত বাংলা গড়ার কাজে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত