প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]পিঁয়াজ এখন ব্যবসায়ীদের গলার কাঁটা, [২]আমদানির অর্ধেক দামেও বিক্রি হচ্ছে না

নিউজ ডেস্ক :[৩] গতকাল রাজধানীর শ্যামবাজারে আমদানিকৃত পিঁয়াজের পাইকারি মূল্য ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ভালোমানের পিঁয়াজও ৩০ টাকায় বিক্রি করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ী- ক্রেতারা কেউ পণ্যটি কিনছেন না।

[৪]গত বছরের এই সময়ে যেখানে পিঁয়াজের দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়ে ৩০০ টাকায় উঠছে তখন এক বছর পর একই সময়ে পণ্যটির এই দরপতনে আতঙ্ক বিরাজ করছে ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা চাহিদার তুলনায় অত্যধিক পরিমাণে পিঁয়াজ আমদানির কারণে পণ্যটির দাম কমে যাচ্ছে। এই অবস্থায় দেশি জাতের নতুন পিঁয়াজ উঠলে পানির দামে বিকোতে হবে। রাজধানীর শ্যামবাজারের আড়তদার হাফিজুর রহমান জানান, বাজারে প্রচুর পিঁয়াজ। ক্রেতা নেই, চাহিদাও নেই। আমদানির অর্ধেক পিঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বাকিটা অর্ধেক দামেও বিক্রি করতে পারছেন না তারা। ফলে লাভের পিঁয়াজ এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যবসায়ীদের কাছে। ফরিদপুরের বাখুন্ডা এলাকার পিঁয়াজ চাষি রফিক জানান, তারা এবার ব্যাপকভাবে পিঁয়াজ উৎপাদন করেছেন, তবে দাম নিয়ে শঙ্কায় আছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আমদানিকারক, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে ভারত কর্তৃক পিঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারির পর ব্যবসায়ীরা ভেবেছিলেন, গতবারের মতো এবারও পণ্যটির দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় উঠবে। অতি মুনাফার লোভে অনেক ব্যবসায়ী ঢালাওভাবে পণ্যটি আমদানির ঋণপত্র খুলেন। অপরদিকে গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে এবার আগেভাগেই প্রস্তুত ছিল সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবি। ফলে ভারত নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকেই টিসিবি নিজ উদ্যোগে পণ্যটি আমদানি করতে থাকে। প্রতিদিন প্রায় ৬০০ মেট্রিকটন করে পণ্যটি আমদানি পরিকল্পনা রয়েছে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটির। সরকারি-বেসরকারি এই আমদানির ফলে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পিঁয়াজ দেশে চলে এসেছে। এতে হঠাৎ করে পণ্যটির দাম পড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে পিঁয়াজের খুচরামূল্য ৯০ টাকা থেকে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অথচ দেশে আমদানিকৃত প্রতি কেজি পিঁয়াজের ক্রয়মূল্যই পড়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আমদানি দামেও এখন বিক্রি করা যাচ্ছে না পণ্যটি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন : সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পিঁয়াজ নিয়ে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা ঠেকাতে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে একটি প্রতিনিধি দলকে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ ও চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করে জরুরিভিত্তিতে সুপারিশসহ রিপোর্ট দিতে বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে ওই পরিদর্শন টিম গত ১৯ ও ২০ নভেম্বর পরিদর্শন চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ পরিদর্শন করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই পরিদর্শনকালে যে বিষয়গুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : (১) খাতুনগঞ্জে প্রতিটি আড়তে প্রচুর আমদানি পিঁয়াজ দেখা গেছে; (২) আড়তে রাখা অনেক বস্তার পিঁয়াজে গাছ তৈরি হয়েছে, পচন ধরেছে প্রায় এক তৃতীয়াংশ পণ্যে; (৩) চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় আমদানি মূল্যের অর্ধেক দামে পিঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে; (৪) আমদানি মূল্যের তুলনায় বিক্রয়মূল্য কমে যাওয়ায় পিঁয়াজের কনটেইনার বন্দর থেকে খালাস করছেন না ব্যবসায়ীরা; (৫) ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট সৃষ্টি হচ্ছে; (৬) আবার কনটেইনারে বেশি দিন পিঁয়াজ সংরক্ষিত থাকায় জাহাজ ভাড়ার পাশাপাশি কনটেইনার ভাড়া বাড়ছে; (৭) ফলে পিঁয়াজ আমদানি করে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন উভয় সংকটে; (৮) ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এখন তারা কনটেইনারের বিদ্যুৎ চার্জসহ বন্দরের ফি মওকুফের আবেদন জানিয়েছেন; (৯) আমদানিকৃত মূল্যে এসব পিঁয়াজ যাতে সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবি কিনে নেয় সে আবেদনও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পিঁয়াজ ইস্যুতে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে বন্দর পরিদর্শনের বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহম্মদ ওমর ফারুক বলেন, পচনশীল পণ্য হিসেবে পিঁয়াজ রাখতে হয় রেফার্ড কনটেইনারে (বিশেষভাবে বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত)। বন্দর থেকে ১৬০০ কনটেইনারে এ ধরনের বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আর এসব কনটেইনারের বেশিরভাগ যদি পিঁয়াজ দিয়ে আটকে রাখা হয়, তবে অন্য পণ্যের জন্য সমস্যা তৈরি হয়। তিনি অবশ্য জানান, গত কয়েকদিনে পিঁয়াজের বেশ কিছু কনটেইনার খালি হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী গতকাল পর্যন্ত ৭৯৩টি ৪০ ফিট কনটেইনারে ২২ হাজার ৮৩২ মেট্রিকটন পিঁয়াজ খালাসের অপেক্ষায় আছে। এ ছাড়া ১২৭ কনটেইনার পিঁয়াজ নিয়ে জাহাজ জেটিতে অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত