প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] প্রিয়াঙ্কা-সালামাত এলাহাবাদ হাইকোর্টের কাছে হিন্দু-মুসলমান নয়, লাভ জেহাদের মামলা বাতিল করল আদালত

রাশিদুল ইসলাম : [২] ভারতের উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও মধ্যপ্রদেশের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যে লাভ জেহাদের বিরুদ্ধে আইন আনার কথা বলা হলেও বিষয়টি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। গতবছর আগস্টে উত্তরপ্রদেশে সালামত আনসারি নামে এক মুসলিম যুবক প্রিয়াঙ্কা খারওয়ার নামে এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ের পর প্রিয়াঙ্কার বাবা-মা সালামাতের বিরুদ্ধে মামলা করেন যা এলাহাবাদ হাইকোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া

[৩] এলাহাবাদ হাইকোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ বলেছে, কারও ব্যক্তিগত সম্পর্কে বাধা দেওয়া যায় না। তাহলে ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়। দু’জন মানুষের পরস্পরকে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা আছে।

[৪] সালামত আনসারি কুশীনগরের বাসিন্দা। তাকে বিয়ের আগে প্রিয়াঙ্কা ধর্মান্তরিত হন। তখন তার নাম হয় আলিয়া। বিয়ের পরেই প্রিয়াঙ্কার বাবা-মা সালামাতের বিরুদ্ধে এফআইআর করে অভিযোগ আনেন যে সালামাত তাদের মেয়েকে ‘অপরাধীর মতো’ অপহরণ করেছে। প্রিয়াঙ্কা তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছে। অভিযোগ, বিয়ের সময় মেয়েটি ছিল নাবালিকা। তাই সালামাতের বিরুদ্ধে কঠোর পকসো আইনে মামলা করা হয়।

[৫] এফআইআর বাতিল করার জন্য সালামাত আদালতে আবেদন করেন। এলাহাবাদ হাইকোর্ট ১১ নভেম্বর তার পিটিশন বিবেচনা করে ১৪ পাতার এক নির্দেশনায় বিচারপতি বিবেক আগরওয়াল ও বিচারপতি পঙ্কজ নাকভি বলেন, ‘কোনও ব্যক্তি যে ধর্মেরই মানুষ হোন না কেন, তিনি নিজের খুশিমতো জীবনযাপন করতে পারেন। প্রত্যেকেরই ব্যক্তিস্বাধীনতা আছে।’

[৬] গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, চলতি আইনে লাভ জেহাদের কোনও সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা লাভ জেহাদ নিয়ে মামলাও করেনি। কিন্তু গত ৬ নভেম্বর কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা বলেন, লাভ জেহাদের নামে যাতে ধর্মান্তরিত না করা হয়, সেজন্য তার রকার আইন আনতে চায়। একইদিনে হরিয়ানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল ভিজ বিধানসভায় জানান, তার রাজ্যের সরকারও লাভ জেহাদের বিরুদ্ধে আইন করার কথা ভাবছে। হিমাচল প্রদেশের সরকার গত বছরই এক আইন পাশ করে বলেছে, গায়ের জোরে, লোভ দেখিয়ে বা বিয়ের নাম করে কারও ধর্মান্তর করা যাবে না।

[৭] লাভ জেহাদ নিয়ে ইতিমধ্যে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে। কিছুদিন আগে শোনা যায়, ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান রেখা শর্মা মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির সঙ্গে লাভ জেহাদ নিয়ে আলোচনা করে বলেন, মহারাষ্ট্রে ‘লাভ জিহাদ’ বাড়ছে। ভিন্ন ধর্মের নারীপুরুষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিবাহ এবং ‘লাভ জিহাদ’-এর পার্থক্যের ওপরে তিনি জোর দেন। দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠীগুলি ‘লাভ জিহাদ’ বলতে মুসলিম পুরুষের সঙ্গে হিন্দু নারীর বিবাহ বোঝায়। তাদের মতে, এইভাবে কৌশলে হিন্দু নারীদের ধর্মান্তকরণ করা হয়।

সর্বাধিক পঠিত