প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দীর্ঘ সাড়ে সাত বছরেরও গঠিত হয়নি চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

রাজু চৌধুরী : [২] চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে সেই অনেক বছর আগে।

[৩] ২০১৩ সালের ১৪ জুলাই ঘোষিত হয়েছিল ১০১ সদস্যের নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হয়েছিল তিন মাসের জন্য কিন্তু সম্মেলন করতে ব্যর্থ প্রায় সাড়ে ৭ বছর। শুধু তাই নয় ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ৬ টি ওয়ার্ডে সম্মেলন করেছে আহ্বায়ক কমিটি।

[৪] বিতর্ক, সংঘর্ষ, গৃহ বিবাদে জর্জরিত একসময় প্রকাশ্য রুপ নিয়ে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ জাতীয় দিবসগুলোয় তিন- চার ভাগে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচী পালন করেছে মহানগর যুবলীগ।

[৫] দিন যতো গড়াচ্ছে গ্রুপিং ততই চাঙা হচ্ছে কোন্দল ক্রমশ বাড়ছে। ৫ জনের আহবায়কের মধ্যে দুই গ্রুপে আলাদা বলয় নিয়ে কর্মকাণ্ড চালানোয় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও উল্লেখযোগ্য কারোই ঠাঁই হয়নি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নিয়ম।

[৬] ১৯৮৯-৯০ সালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের ৬৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি নোমান আল-মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শফিকুল হাসান। এরপর ২০০৩ সালের জুলাই মাসে মহানগর যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়।

[৭] কিন্তু কমিটি ঘোষণা নিয়ে সংঘর্ষ আর বিতর্কের দেড় বছর পর চন্দন ধরকে আহ্বায়ক ও মশিউর রহমানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের জুলাইয়ে মহিউদ্দিন বাচ্চুকে আহ্বায়ক ও ফরিদ মাহমুদসহ চারজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে আবারও ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় যুবলীগ।

[৮] কিন্তু তিনমাসের সেই আহ্বায়ক কমিটি ২০২০ সালে এসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে সম্মেলন করতে পারেনি। তবে কেন্দ্রীয় যুবলীগ সূত্রে জানা গেছে, খুব শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের। এদিকে কমিটি কোন প্রক্রিয়ায় হবে তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান এবং সৃষ্ট নেতৃত্বের জট, দীর্ঘদিন ধরে নতুন কমিটি না হওয়ার প্রভাব বলে মনে করেন অনেকেই। আভাস পাওয়া যাচ্ছে, এবার কমিটিতে ত্যাগী, জনমুখী, সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য, দলে অবদান রয়েছে এমন নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়া হবে।

[৯] চট্টগ্রামে মহানগর কমিটির এবার অনেক নেতাই পদ প্রত্যাশী তাই আগামীর সম্মেলন ইলেকশন নাকি সিলেকশন কোন প্রক্রিয়ায় হবে সেটা নিয়ে সন্দিহান কেন্দ্র! করোনার পরিস্থিতির একটু উন্নতি হলে শিগগিরই প্রক্রিয়া চালু হতে পারে। চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, আমরা সব সময় প্রস্তুত ছিলাম। কেন্দ্র নির্দেশ দিলেই সম্মেলন করবো।

[১০] অনেকেই মহানগর কমিটিতে স্থান পাওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে রয়েছেন। সাবেক মহানগর ছাত্রলীগ এবং বর্তমান যুবনেতা সুরঞ্জিত বড়ুয়া লাভু দ্রুত পূর্ণাঙ্গ নগর কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়ে বলেন, তৃণমূলের নেতারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

[১১] আর সময়ক্ষেপন না করে দলীয় সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। সাবেক ছাত্রনেতা এবং বর্তমান যুবনেতাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অনেক বৃদ্ধি পাবে।

[১২] তিনি আরও বলেন, সাংগঠনিক নীতিমালা না মানায় দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন স্থবির। সময়মতো চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলে চট্টগ্রামে যুবলীগের রাজনীতি আরও চাঙ্গা হতো। চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন নগর যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মাহবুবুল হক সুমন, সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য দেবাশীষ পাল দেবু, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম, সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য আব্দুল মান্নান ফেরদৌস, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুরঞ্জিত বড়ুয়া লাভু, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, আরশাদুল আলম বাচ্চু এবং আজিজুর রহমান আজিজ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত