প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] যশোর কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতির ধর্মঘট, জনভোগান্তি চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক : [২] যশোর কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি রোববার সকাল থেকে বেলা একটা পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করেছে। দুজন ঔষুধ ব্যবসায়ীকে নকল ঔষধ বিক্রির অভিযোগে পুলিশের আটকের প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি পালন করছে। ফার্মেসি বন্ধ থাকায় ঔষধ নিতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগী ও তার স্বজনদের।

[৩] আটকের প্রতিবাদে দুপুরে জেলা প্রশাসকের সাথে স্বাক্ষাৎ করে কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি স্মারকলিপি প্রদান করে। পরে জেলা প্রশাসক দাবি মানার আশ্বাস দিলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। তবে সমিতির নেতারা জানিয়েছেন হয়রানি বন্ধ না হলে তারা আবার আন্দোলনে নামবেন।

[৪] ২১ নভেম্বর দুপুরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ শহরের জেলরোড এলাকা থেকে কাশেমপুর সার্জিক্যাল অ্যান্ড মেডিসিন হাউজ থেকে ১৪৩ পিস নকল মনটেয়ার-১০ ট্যাবলেট পাওয়ার অভিযোগে দোকানের মালিক ইব্রাহিম সরদার (৩৭) আটক করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্য মতে, একই দিন সন্ধ্যায় এম এম আলী রোডের জমজম ড্রাগ হাউজ থেকে ১০টি মনটেয়ার-১০ ট্যাবলেটসহ ফার্মেসির মালিক জহিরুদ্দিন সুইটকে (৪২) একই অভিযোগে আটক করা হয়।

[৫] এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ৬৯।

[৬] বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি যশোরের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ চাকলাদার ইদুল বলেন, আমরা এখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান করছি। যশোরের ডিসিকে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। তার সঙ্গে আলোচনার পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষনা দেওয়া হবে।

[৭] তিনি আরো বলেন, কোনও ফার্মেসিতে যদি নকল ও ভেজাল ওষুধ থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসন অথবা ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অভিযান পরিচালনা করতে পারেন। কিন্তু পুলিশ কীভাবে বুঝবে এটি নকল ওষুধ। কেননা আমরা কোম্পানির কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে সেগুলো বিক্রি করি।

[৮] নিপু ড্রাগসের স্বত্তাধিকারী ও যশোর কেমিস্টস এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতি’র আহসান নিপু বলেন, সেকলো, মট্রিয়াল, ইনসুলিন যে সব ঔষধকে নকল বলা হচ্ছে সে সব নকল কি আসল সেটা নির্ধারণ করবে ড্রাগ সুপারভাইজার ও জেলা প্রশাসন। এটা নির্ধারনের পুলিশের এখতিয়ার নেই। আমাদেরকে ফাঁসানোর জন্যে পুলিশ অবৈধ ভাবে এটা করেছে।

[৯] যশোর কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, নকল ওষুধ বিক্রি করলে পুলিশ তো তাদের আটক করবেই। এতে যদি তারা ধর্মঘট করে তাহলে কি করার থাকে। তারা যে কোম্পানির নকল ওষধ বিক্রি করছে সেই কোম্পানির প্রতিনিধির উপস্থিতিতে তাদের দুজনকে আটক করা হয়েছে৷ তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে৷ তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে৷

[১০] অপরদিকে ফার্মেসি বন্ধ থাকায় রোগিরা ঔষধ নিতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে জরুরী বিভাগে ভর্তি নতুন রোগীদের ভোগান্তি ছিল অকল্পনীয়।

[১১] জরুরী চিকিৎসা নিতে আসা একজন রোগীর স্ত্রী হালিমা খাতুন বলেন, বার্ধক্য জনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিন্তু ডাক্তারের দেওয়া চাহিদাপত্র অনুযায়ী এখনও কোন ঔষধ জোগাড় করতে পারিনি। আমার রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ কি করবো বুঝতে পারছি না।

[১২] ভূক্তভোগীদের জরুরী ঔষধের জন্যে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভোগান্তি ছিল চরমে। দুপুরের পরে ধর্মঘট প্রত্যাহার হলে ভোগান্তি থেকে মুক্তি পায় সাধারণ মানুষ। সম্পাদনা : জেরিন আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত