প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফিরে দেখা, ২১ নভেম্বর ১৯৭২
উদিসা ইসলাম: বাংলাদেশ-ভারতের মানবিকতার ডাক শুনতে পেলো পাকিস্তান

উদিসা ইসলাম : বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ২১ নভেম্বরের ঘটনা। বাংলাদেশ ও ভারতের মানবিক উদ্যোগের জবাবে পাকিস্তান সেখানে আটক ১০ হাজার বাঙালি ও শিশুকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে এক উপজাতীয় অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এমনকি একজন সরকারি মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পাকিস্তান বেতারেও এ ঘোষণা প্রচারিত হয়।পাকিস্তান সরকারের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতে অন্তরীণ পাকিস্তানি বেসামরিক ব্যক্তি ও যুদ্ধবন্দিদের পরিবারের ছয় হাজার নারী ও শিশুকে মুক্তিদানের প্রস্তাব করায়, তার প্রত্যুত্তরে পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মুখপাত্রের মতে, উপমহাদেশের মানবিক সমস্যা সমাধানে এই উদ্যোগ সহায়ক হবে। এর আগে বাংলাদেশ ও ভারত এক ঘোষণায় পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দি এবং বেসামরিক ব্যক্তিদের পরিবারের মহিলা ও শিশুদের ছেড়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়। বিনিময়ে পাকিস্তানের তরফ থেকে এ রকম শুভেচ্ছা নিদর্শন পাওয়ার আশা প্রকাশ করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ অবজারভার, ২২ নভেম্বর ১৯৭২প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে আটক বাঙালির সংখ্যা চার লাখ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ভাষণে তিনি বলেন, ‘মুসলিম বাংলার প্রতি পাকিস্তান যে বিদ্বেষ নয় শুভেচ্ছাই পোষণ করে, এটা বোঝানোর জন্য ১০ হাজার বাঙালি মহিলা ও শিশুকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘যারা সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত, তাদের ক্ষমা করা হবে না।’ তিনি বলেন, ‘এসব সমাজবিরোধীদের শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।’ ১৯৭২ সালের এই দিনে গণভবনে যশোর জেলার কেশবপুর থানা আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করার সময় বঙ্গবন্ধু একথা বলেন। প্রতিনিধি দলটি বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি পদক লাভে অভিনন্দন জানায় ও মাল্যদান করে।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দিনে আবারও বলেছেন, তার সরকার বিশ্ব শান্তি কামনা করে এবং বিশ্ব শান্তির স্বপক্ষে যেকোনও উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে। জাপানের নতুন সম্পর্কের পটভূমিতে এশিয়ায় যে নতুন ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সে সম্পর্কে তার অভিমত জানতে চাওয়া হলে তিনি একথা বলেন। তিনি জাপানের অর্থনৈতিক বিষয়ক দৈনিক পত্রিকার এক প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলছিলেন। এনা পরিবেশিত খবরে বলা হয়— প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘তাঁর সরকারের নীতি সুস্পষ্ট এবং তার সরকার বিশ্ব শান্তির কাজে নিবেদিত প্রাণ। ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’, এটাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা। এই আদর্শের অনুসারী বলেই বাংলাদেশ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে আগ্রহী। বিশেষ করে প্রতিবেশীদের সঙ্গেতো বটেই। জাপান ও বাংলাদেশ সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে জাপান ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরে কোনও এক সময়ে তিনি জাপান সফরে যাবেন।’

জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে জনসংখ্যা সমস্যা এক দারুণ সংকটজনক পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। এর জন্য একটি কার্যকরী জনসংখ্যা পরিকল্পনা কর্মসূচি একান্ত অপরিহার্য।’ তিনি বলেন, ‘দেশের সব নাগরিকের দায়িত্ব আছে। আমাদের এ কথা ভালোভাবে মনে রাখতে হবে যে, আমাদের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত করতে হলে, ভবিষ্যৎ বংশধরদের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হলে, কার্যকরী জনসংখ্যা পরিকল্পনা কর্মসূচি অপরিহার্য।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত