প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: শিক্ষার্থীরা সব ধরনের শিক্ষা নিয়ে স্কুলের ১০ বছর শেষ করবে, এর চেয়ে ধংসাত্মক সিদ্ধান্ত আর হতে পারে না

কামরুল হাসান মামুন : নতুন পাঠ্যক্রমে মাধ্যমিকে বিভাগ থাকবে না সংসদে শিক্ষামন্ত্রীÑ সংবাদটি পড়ার পর থেকে মনের মধ্যে একধরনের কষ্ট কষ্ট অনুভব করছি। বাংলা মাধ্যম নিয়ে আমাদের সরকারেরা কেন এতো খেলা খেলে? এই বড় লোকের ছেলেমেয়েরা যারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে তারা বঙ্গবন্ধু আর মুক্তিযুদ্ধকে জানলো কিনা ওটা নিয়ে তাদের কিন্তু মাথাব্যথা তেমন নেই।

ওরা বাংলা ভাষা শিখলো কিনা অথবা দেশের সংস্কৃতি জানলো কিনা সেটা নিয়েও তাদের মাথাব্যথা নেই। অথচ এই শ্রেণিটাই হলো রুলিং ক্লাস। তারা হয় ইউরোপ আমেরিকায় চলে যাবে, নয় তো বাপের ইন্ডাস্ট্রির সিইও হবে, নচেৎ এমপি, মন্ত্রী হবে। তাদের যতো মাথা-ব্যাথা গরিবের বাংলা ও মাদ্রাসা মিডিয়াম। গরিবের বৌ সকলের ভাবী হওয়ার মতো অবস্থা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা নবম-দশম শ্রেণিতে আর বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসা এই বিভাগগুলো রাখছি না।’ প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সব ধরনের শিক্ষা নিয়ে স্কুলের ১০টি বছর শেষ করবে। এর চেয়ে ধংসাত্বক সিদ্ধান্ত আর হতে পারে না। এমনিতেই আমরা বিজ্ঞানে মান সম্পন্ন ছাত্রছাত্রী পাচ্ছিলাম না। এখন এই ডাইলুশনের (তরলীকরণের) ফলে ফলাফল আরও খারাপ হবে।

এমনিতেই আমরা মাধ্যমিকে আইসিটি কোর্স নামে একটি অবশ্য পাঠ্য কোর্স দিয়ে সর্বনাশ করা হয়েছে। স্কুলের ছাত্রদের একটা সার্ভে নিয়ে দেখেন অধিকাংশ ছাত্রের সবচেয়ে অপ্রিয় সাবজেক্টের মধ্যে অন্যতম এই সাবজেক্টটি। ইংরেজি মাধ্যমের মতো আমরা যদি সকল বিভাগ তোলে দিয়ে সব কিছুই অপশনাল করে দেই তাহলে কিছুটা ঠিক আছে। কিন্তু আলোচ্য সিস্টেমে আমরা তো অপশন বা স্বাধীনতা রাখছি না।

ইংরেজি মাধ্যমে একটি ছাত্র ইচ্ছামতো পছন্দের সাবজেক্ট নিতে পারে। কিন্তু এখানে বলা হচ্ছে মাধ্যমিকের সব ছাত্রকে সব সাবজেক্ট পড়তে হবে, যেই ছাত্র ইতোমধ্যেই জানে সে বিজ্ঞান পড়বে তাকে কেন একাউন্টিং, ফিনান্স অথবা আর্টসের সাবজেক্ট পড়তে হবে। আর যেই ছাত্র আগে থেকেই জানে তার বিজ্ঞান ভালো লাগে না সে মানবিক সাবজেক্টই প্রিয় তাকে কেন গণিতের মতো সাবজেক্ট পড়তে হবে।

যেহেতু বিজ্ঞানের ছাত্রদের বিজ্ঞানবহির্ভুত সাবজেক্ট পড়তেই হবে তার অর্থ বিজ্ঞানের কোনো না কোনো বিষয়ে ছাড় দিতে হবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যেই পরিমাণ চিন্তা ও গবেষণা করা উচিত সেটা কী করেছে। যদি ইংরেজি মাধ্যমের মতো সাবজেক্ট পছন্দ করার অবারিত স্বাধীনতা দেওয়া হয় খুবই ভালো সিদ্ধান্ত হতো। কিন্তু তাদের উদ্যেশ্য তো ভিন্ন।

তাছাড়া বাংলাদেশের আর্থসামাজিক দিক বিবেচনা ও শিক্ষায় সরকারের বাজেটের কথা মাথায় নিলে পছন্দমতো সাবজেক্ট নেওয়ার অপশন দেওয়া সম্ভব নয়। যারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তাদের কতোজন শিক্ষাবিদ, শিক্ষামন্ত্রী কী শিক্ষাবিদ? এ ধরনের বিশেষায়িত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কেন টেনে আনতে হবে। সব বিষয়েই প্রধানমন্ত্রীকে টেনে আনা কিন্তু ঠিক হচ্ছে না। এই কাজটি একান্তভাবেই দেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদদের করার কথা। আমি রাজনীতি করা শিক্ষাবিদদের কথা বলছি না। তাদের আমি শিক্ষাবিদই মনে করি না। তারা দেশকে সার্ভ করার চেয়ে দলের প্রতি আনুগত্য বেশি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত