প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় বিধিমালা হচ্ছে

আনিস তপন: [২] সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সরকারি সম্পত্তির রেকর্ড হালনাগাদকরণসহ সুষ্ঠুভাবে তা ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ‘সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্তের বিধিমালা, ২০২০’ তৈরী করছে সরকার। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন অনুযায়ী এই বিধিমালা তৈরী করছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

[৩] আইনের আওতায় দেশের যে কোনো নাগরিক প্রস্তাবিত বিধিমালার অধীনে নির্ধারিত ফরমে আবেদন ও হলফনামার মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে ইজারা নিতে পারবেন। তবে দেশের শহরাঞ্চলে জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট আছে এমন ব্যক্তি বা সংগঠন আবাসিক প্রয়োজনে শহরাঞ্চলে কোনোরূপ অকৃষি সম্পত্তি ইজারা পাওয়ার যোগ্য হবেন না।

[৪] সরকারি সম্পত্তি বিক্রয় বা স্থায়ী ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট হোল্ডিং/খতিয়ানভুক্ত সেই ভূমির উত্তরাধিকার সূত্রে সহ-অংশীদারকে (যদি থাকে) অগ্রাধিকার দেয়া হবে। আর যদি সহ-অংশীদার না থাকে তবে যিনি বিক্রয়ের পূর্বে ইজারাসূত্রে ভোগদখল করতেন তাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বিধিমালাতে।

[৫] তাছাড়া সরকারি প্রয়োজনে কৃষি/অকৃষি সরকারি সম্পত্তি সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্বশাসিত দপ্তর/সংস্থাকে বাজার মূল্যে স্থায়ী ইজারা দেয়া যাবে বলা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, এতিমখানা, আশ্রম, কবরস্থান, শ্মশানঘাট স্থাপনের প্রয়োজনে বাজারমূল্যেও অর্ধেক মূল্যে স্থায়ী ইজারা দেয়া যাবে।

[৬] আবাসিক প্রয়োজনে কোনো ব্যক্তিকে মেট্রোপলিটন/সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ ও মেট্রোপলিটন/সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে সর্বোচ্চ আট শতাংশ সরকার প্রধানের অনুমতি নিয়ে বাজারমূল্যে স্থায়ী ইজারা দেয়া যাবে।

[৭] আবার উপযুক্ত বিবেচনায় বাজারমূল্যে একই শ্রেণী বা একই বৈধ পেশার কমপক্ষে ১০ জন বা তদূর্ধ্ব সংখ্যক ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত সমবায়কে মেট্রোপলিটন/সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৩ শতাংশ এবং জেলা-উপজেলা সদরে ৬৬ শতাংশ স্থায়ী ইজারা দেয়া যাবে। পাশাপাশি বাড়ি ও কারখানা সংলগ্ন ভূমি সংশ্লিষ্ট বাড়ি ও কারখানা মালিকের অনুকূলে বাজারমূল্যেও দ্বিগুণ মূল্যে স্থায়ী ইজারা দেয়া যাবে।

[৮] মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনকে বাজারমূল্যের অর্ধেক মূল্যে ও গৃহহীনদের পুর্নবাসনের লক্ষ্যে সরকার আশ্রায়ন, গুচ্ছগ্রাম বা এরূপ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চাইলে বিনামূল্যে সরকারি সম্পত্তি বরাদ্দ করতে পারবে সরকার।

[৯] জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি সরকারি সম্পত্তির বাজারমূল্য নির্ধারণ করবে বলা হয়েছে বিধিমালায়।

[১০] ইজারাগ্রহীতা (স্থায়ী/অস্থায়ী) ইজারা মূল্য ছাড়াও বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট ভূমিতে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের আরোপিত কর, পানি, সুয়্যারেজ, গ্যাস, বিদ্যুত বিল ছাড়াও সরকার আরোপিত কোনো কর বা ফি যথাযথভাবে পরিশোধ করবে।

[১১] ইজারা অনুমোদনের পর নির্ধারিত সময়ে মূল্য পরিশোধে ব্যর্থতা, শর্ত আংশিক/সম্পূর্ণ ভঙ্গ করলে, ভূমি সংক্রান্ত প্রচলিত আইন, বিধি, আদেশ লঙ্ঘন, ইজারা গ্রহল প্রক্রিয়ায় বা গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন বা জালিয়াতি বা মিথ্যা তথ্য দিলে, যে উদ্দেশ্যে ইজারা নেয়া হয়েছে তা অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করলে স্থায়ী/অস্থায়ী ইজারা বাতিল করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব

 

সর্বাধিক পঠিত