প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুম রহমান: আমরা আমাদের গোলাম মুস্তাফা, খলিল, ফরীদির মতো বিশ্বমানের শিল্পীকে ফুটপাতের মানে এনে ফেলেছিলাম

মুম রহমান : অভিনেতা অবশ্যই গুণি মানুষ, শিল্পী। কিন্তু গুণির কদর না করলে কোনো কাজেই আসে না। একজন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে কাজে লাগানো হয়েছিলো। সত্যজিৎ রায় একাই তাকে ১৪টা সিনেমায় চৌদ্দভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন। মৃণাল সেন, অজয় কর, তপন সিংহ, তরুণ মজুমদার থেকে সমকালের নন্দিতা রায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় গণ সৌমিত্রকে কাজে লাগিয়েছেন।

শিল্পীকে উপযুক্ত কাজ দেওয়া, কাজের প্রেক্ষাপট তৈরি করে দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তোসিরো মিফুনেকে আমরা চিনতাম না আকিরা কুরোশাওয়া না থাকলে, মার্সেলো মায়েস্ত্রোয়ানিকে চিনতাম না একজন ফেদেরিকো ফেলিনিকে। সৌমিত্রকেও চিনতাম না সত্যজিৎ রায়কে না থাকলে। আমাদের গোলাম মুস্তাফা, হুমায়ুন ফরিদী এমনকি মোশাররফ করিমকেও কাজে লাগানোর মতো যোগ্য পরিবেশ ছিলো না, নেই।

ফরিদীর মতো অভিনেতাকে আমরা মার্সেলো, মিফুনে কিংবা সৌমিত্রের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিতেই পারিনি। ফরিদী তো দূরের কথা মোশাররফ করিমকেও আমরা তার উপযুক্ত চরিত্র দিতে পারিনি। আমি নিজের চোখে দেখেছি মনিটরের পেছনে বসে ডিরেক্টর পদবী ছেলেটি মোশাররফকে নির্দেশনা দেওয়ার ধৃষ্টতাও দেখায় না, যোগ্যতাও নেই তার। মোশাররফ সময় মতো শুটিং আসছে, শর্ট দিচ্ছে এটুকুতেই অধিকাংশ পরিচালক খুশি।

খুশির ঠেলায় তারা ডিরেকশন দেওয়ার বদলে দুপুরের খানায় গরুর কালা ভুনায় মনোযোগী হয়। আফসোস, গুণি অভিনেতার স্থান দেওয়ার মতো কাজও হয় না এ দেশে। অপু, ফেলুদা, উদয়ন মাস্টার ইত্যাদি চরিত্রে ফরিদীকে নেওয়া হলে কি বিচিত্র ব্যাপারটাই না ঘটতো কল্পনা করেও আমি শিহরিত হই।

প্রাচীন ভরত নাট্যশাস্ত্রে আছে, দেহপট সনে নট সকলি হারায়। কিন্তু এ কথা সৌমিত্র, উত্তম, ব্রান্ডো, মিফুনে প্রমুখের জন্য সত্য নয়। কারণ জীবিতকালেই তারা কিংবদন্তী হয়ে গেছেন, অমর হযে গেছেন। তারা যোগ্য কাজ ও সম্মান পেয়েছেন। আমাদের দেশে গোলাম মুস্তাফা, খলিল, ফরিদীর মতো বিশ্বমানের শিল্পীকে আমরা ফুটপাতের মানে এনে ফেলেছিলাম। গৎবাঁধা স্ক্রিপ্ট আর ডিরেকশনে বেঁধেছিলাম বিশ্বমানের শিল্পীতে। কেননা, আমরা যোগ্যকে অসম্মান করে নিজেদের সম্মান বাড়াই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত