প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘মৌলবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করা উচিত নয়’, সাকিবের পুজো উদ্বোধন বিতর্কে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম

ডেস্ক রিপোর্ট : কলকাতায় একটি কালীপুজোর উদ্বোধন করায় বাংলাদেশের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে সে দেশের পুলিশ। বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলা থেকে বছর আটাশের মহসিন তালুকদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) যৌথ বাহিনী। বুধবার থেকেই সাকিবের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। তাঁর অনুশীলনের সময়ও সঙ্গে ছিল সশস্ত্র পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

এদিন ফিরহাদ এ প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে কিছু না বলেননি। তবে তাঁর কথায়, ‘যে কোনও মৌলবাদই ভয়ংকর। কোন মৌলবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করা উচিত নয়। আমার জানা নেই ঘটনাটি সম্পর্কে। তবে এ ধরনের ঘটনা না হওয়াই বাঞ্ছনীয়।’

 

 

এদিন এ রাজ্যে বিজেপির রণকৌশল প্রসঙ্গেও ফিরহাদ বলেন, ‘মিডিয়া এ নিয়ে প্রচার করছে বেশি। অনেক পঞ্চপান্ডব এসেছে। অনেক হনুমান এসেছে। তাতে কিছু যায় আসে না, ওরা আসবে যাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন, আছেন, থাকবেন।’ ছটপুজোয় আদালতের নির্দেশ প্রসঙ্গেও ফিরহাদের প্রতিক্রিয়া, ‘গত বছর ভোট ছিল না, তবু আমরা ছটপুজোর পক্ষে ছিলাম। এবছর কলকাতার উত্তরে দক্ষিণে নানারকম বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ মেনে ব্যবস্থা করবে প্রশাসন। আমি ছোটবেলা থেকে কালী পুজো করি কি ভোটের জন্য? এখন দুর্গা পুজো করি এত বড় সেটা কি ভোটের জন্য?’

উল্লেখ্য, কলকাতার একটি পুজোর উদ্বোধনের পর থেকেই ধর্মীয় মৌলবাদীদের একাংশ সাকিবকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ। তাঁকে প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সাকিব ক্ষমা চেয়ে নেন। একটি অনলাইন ফোরামে বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমি মঞ্চে খুব বেশি হলে দু’মিনিট ছিলাম। লোকে এটি নিয়ে কথা বলছে এবং অনেকেই মনে করছেন আমি পুজোর উদ্বোধন করেছি। আমি সে কাজ করিনি এবং একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আমি এ কাজ কখনওই করব না।’ এর পরেই সাকিব বলেন, ‘হয়তো আমার ওখানে যাওয়া উচিত হয়নি। আমি সে জন্য দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।’ নিজের ধর্মের প্রতি আনুগত্য বোঝাতে বলেন, ‘একজন মুসলিম হিসেবে ধর্মের প্রতিটি রীতি-রেওয়াজ আমি মেনে চলি। আমি যদি কোনও ভুল করে থাকি, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’ সাকিবের বক্তব্য, ‘সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া এবং সর্বত্র বলা হচ্ছে আমি উদ্বোধনে গিয়েছিলাম। বিষয়টি আদৌ তা নয়। পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন কলকাতার মেয়র। আমি ওই পুজোর প্রধান অতিথিও ছিলাম না।’

 

এই মুহূর্তে একদিনের ক্রিকেটে এক নম্বর এবং টি-টোয়েন্টিতে দু’নম্বর অলরাউন্ডার অবশ্য ততক্ষণে প্রাণনাশের হুমকি পেতে শুরু করে দিয়েছেন। পুলিশের দাবি, হাতে একটি বিশাল, ধারালো ছুরি নিয়ে ধৃত মহসিন সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকিটি দিয়েছিল। বলেছিল, সাকিব কালীপুজো উদ্বোধন করে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছেন। তাই তাঁকে হত্যা করা উচিত। এর পরে অবশ্য সে ভিডিয়োটি সরিয়ে নেয় এবং আর একটি ভিডিয়োয় ক্ষমা চেয়ে নেয়।

কিন্তু ততক্ষণে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের একটি অংশ সাকিবের পাশে দাঁড়ায়। ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ভারত-বাংলাদেশ সৌহার্দ্যের যুক্তিতে তাঁরা সাকিবকে দেওয়া হুমকির প্রবল প্রতিবাদ জানান। সাকিব ক্ষমা চাওয়ার পরে লেখিকা তসলিমা নাসরিন টুইট করেন, ‘কলকাতায় কালীপুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য সাকিবের ক্ষমা চাওয়া উচিত নয়। ওঁর ক্ষমাপ্রার্থনা কট্টর ইসলামিদের হাত মজবুত করবে, যারা সেইসব মুসলিম যাঁরা পুজোর মণ্ডপে যান বা হিন্দুদের প্রতি সহানুভূতিশীল, তাঁদের হত্যা করে থাকে। সাকিবের বলা উচিত, তিনি যা করেছেন ঠিক করেছেন। প্রেম উদ্‌যাপন করব, ঘৃণাকে ত্যাগ করব।’

সাকিবকে হুমকি দেওয়ার পরে নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশের চাপ আসে শেখ হাসিনা ওয়াজেদের সরকারের উপরেও। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদউজ্জামান খান বলেন, ‘পুরো বিষয়টি আমরা দেখেছি। সাকিবকে যে বা যারা এই ধরনের হুমকি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেব আমরা। সাকিব হোন বা যে কেউ, এই ধরনের হুমকি আমাদের সংস্কৃতির পরিপন্থী এবং এই ধরনের শক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য।’ এর পরেই অভিযুক্তের খোঁজে বাংলাদেশ জুড়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়। হুমকি ভিডিয়ো সরিয়ে এবং ক্ষমাপ্রার্থনার ভিডিয়ো আপলোড করে মহসিন তালুকদার গা-ঢাকা দিয়েছিল। লাগাতার ২৪ ঘণ্টা তল্লাশির পরে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সূত্র- এইসময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত