প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] টানা বিদ্যুৎহীনতায় সিলেট নগরে বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ

আহমেদ শামীম : [২]  পানির জন্য হাহাকার করছেন নগরের বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ না থাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকেই বাসা-বাড়ি, মসজিদসহ নানা স্থানে পানিসহ নানা সংকট সৃষ্টি হয়।

[৩] বিদ্যুতের অভাবে অনেক গৃহস্থালী কাজ ব্যাহত হয়। হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ জরুরি সেবা ব্যাহত হয়। অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় যানবাহন জ্বালানি সমস্যায় পড়েছে। বিশাল এলাকায় জনজীবনে মারাত্মক দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

[৪] দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। মোবাইল চার্জ, মোমবাতি বিক্রয় বেড়ে গেছে।

[৫] জিন্দাবাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের সমাগম কমে গেছে। বাসা থেকে জানিয়েছে পানির সংকট। পানি বাইরে থেকে কিনে নিতে হবে।’

[৬] গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কুমারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ উপ কেন্দ্রের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর ৭টি ইউনিট একঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে দুপুরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পর থেকেই সিলেট জেলাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রেেছ। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর থেকেই ৪০০ কর্মী কাজ করছেন।

[৭] এদিকে কুমারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ উপ কেন্দ্রের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের কারণ নিরূপণে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগ- ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে আহ্বায়ক করে এ তদন্ত কমটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে নির্বাহী পরিচালক (ওএন্ডএম) পিজিসিবি বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

[৮] পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের উপ-মহাব্যবস্থাপক (এইচআরএম) রূপক মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ্ জায়েদী স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

[৯] জানায যায়, গ্রিডে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন উপ-কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা। আগুনে প্রায় ৭০ কোটি টাকার ২৫/৪১ এমবিএ দুটি ট্রান্সফরমার পুড়ে গেছে। ট্রান্সফরমারগুলোর বাইরের অংশ পুড়লেও ভেতরে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ৩৩ কেভি ফিডার ও বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষাধিক গ্রাহক দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

[১০] সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোকাম্মেল হোসেন জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে তাদের ৪০০ কর্মী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত