প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সাত মাস ধরে ইরাকের মর্গে প্রবাসীর লাশ, দেশে নেয়া কিংবা দাফনের নেই উদ্যোগ

সাইদুল ইসলাম: [২] ইরাকের রাজধানী বাগদাদের একটি হসপিটালের মর্গে ৭ মাসেরও বেশি সময় ধরে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ইরাক প্রবাসী বাংলাদেশীর লাশ পড়ে আছে। জাহাঙ্গীর আলমের লাশ দেশে নেয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশে দাফনের জন্য নেই কোনো উদ্যোগ।

[৩] লাশটি দেশে ফিরিয়ে নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েক দফা মৌখিক ও লিখিত আবেদনের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো ইরাক দূতাবাস লাশ দেশে ফিরিয়ে নিতে পরিবারের কাছে পাঁচ হাজার ডলার দাবি করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই টাকা দিতে অপারগতা জানিয়ে ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে লাশ দাফনের আবেদন করলেও এখনো পর্যন্ত দাফন করতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি ইরাকের বাংলাদেশ দূতাবাস। দাফনের জন্য তারা এক হাজার ডলার চেয়েছে পরিবারের কাছে।

[৪] জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি বাংলাদেশের লক্ষীপুর জেলার সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার অন্তর্গত বসুদুহিত্রা গ্রামে। তিনি মৃত ফজলুর রহমান ও সখিনা খাতুনের ছয় সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। তাঁর পাসপোর্ট নাম্বার AA2708878। বর্তমানে জাহাঙ্গীরের লাশ ইরাকের রাজধানী বাগদাদের ফরেনসিক মেডিসিন হসপিটালের মর্গে আছে।

[৫] এ বছরের ১৭ মার্চ কামাল হোসেন নামের আরেক প্রবাসী মারা যান ইরাকের বসরায়। বর্তমানে তাঁর লাশ বসরা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আছে। কামাল বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার, বাসাইল উপজেলার কলকলিয়া গ্রামের মৃত সুলতান আহমদের ছেলে। তাঁর পাসপোর্ট নাম্বার BR0477407।

[৬] মৃত কামালের স্ত্রী পারভীন কামালের মৃতদেহ ইরাকে দাফনের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যান বোর্ডে আবেদন করেন গত ২৩ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এখনো এই লাশের কোনো সুরাহা হয়নি। কামালের স্ত্রীর ভাই আবদুল করিম আমাদের সময় ডটকমের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধিকে বলেন, “আমরা আমাদের বোন জামাইর লাশ দেশে আনতে আমার বোন টাঙ্গাইল জেলা কর্সংস্থান ও জনশক্তি অফিসের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তারা ৫ হাজার ডলার চায়। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখ আবার আবেদন করেছি লাশ দাফনের। কিন্তু তারা এখনো দাফন না করে আজ করবে কাল করবে বলে সময় আশ্বাস দিয়ে যায়”।

[৭] জাহাঙ্গীরের বড় ভাই সৌদি আরব প্রবাসী মাহবুব আলম আমাদের সময় ডটকমের এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, এ বছরের এপ্রিলের ৪ তারিখ ইরাক সময় ভোর রাতে ঘুমের মধ্যে মারা যান তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম (২৮)। আত্মীয় স্বজন ও সহকর্মীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে তার ভাইয়ের লাশ দেশে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে আবেদন করেন খালাতো ভাই জহিরুল ইসলাম। ইরাক দূতাবাসের সঙ্গে ব্যাক্তিগতভাবেও যোগাযোগ করেছেন তারা। লাশ দেশে নিতে ইরাক দূতাবাস থেকে পাঁচ হাজার ডলার দাবি করা হয়েছে। এই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট দেশে লাশ দাফনের আবেদন জানালেও আরো এক হাজার ডলার চায় ইরাক দূতাবাস। সবমিলিয়ে দীর্ঘ ৭ মাসেও তার ভাইয়ের লাশ দেশে নিতে কিংবা দাফন করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও ইরাক দূতাবাস।

[৮] এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপসচিব, প্রশাসন ও উন্নয়ন পরিচালক মুশারাত জেবীনের কাছে গত শনিবার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলে তিনি উষ্মা প্রকাশ করেন এবং ব্যাক্তিগত ব্যাস্ততা দেখিয়ে পরের দিন কল দিতে বলেন। পরের দিন অফিস সময়ে কল দিলে জাহাঙ্গীর আলমের লাশ ইরাকে দাফন করতে দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং দাফন করতে কোনো টাকা লাগবে না জানিয়ে দ্রুত লাইন কেটে দিয়ে এই প্রতিবেদকের মোবাইল নাম্বার ব্লক করে দেন।

[৯] ইরাকের বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারী ইমরান আহমদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইরাকে শুধুমাত্র জাহাঙ্গীর আলমের লাশ ৯ আরো অনেক প্রবাসীর লাশ আছে। মোট কত লাশ আছে প্রশ্ন করলে তিনি তথ্য অধিকার আইনে আবেদনের পরামর্শ দেন। দূতাবাসের লেবার কনস্যুলার মোহাম্মদ রেজাউল কবির বলেন, দূতাবাসে পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় এবং ঢাকা থেকে অনুমতি না পাওয়ায় তিনিরা লাশ দেশে প্রেরণ করতে কিংবা দাফন করতে পারছেন না। ঢাকা থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলে এই সপ্তাহের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমের লাশ দাফন করার কথা জানান মোহাম্মদ রেজাউল কবির।

[১০] এই বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবদুল মোমেন ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদকে কয়েক দফা মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

[১১] বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও ইরাক শাখার সমন্বয়ক সুলতান সরদার এই প্রতিবেদককে বলেন, “জাহাঙ্গীরের লাশ সহ ইরাকে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি লাশ মর্গে পড়ে আছে বলে আমরা ধারণা করছি। দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে চেষ্টা করেছি লাশগুলোকে দেশে পাঠাতে। কিন্তু দূতাবাস থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এমনকি এসব বিষয় নিয়ে দূতাবাসে ফোন দিলে এণ কেউ ফোন রিসিভ করে না”।

[১২] সংগঠনে কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির হোসেন বলেন, “গত ছয় মাসে প্রবাসী অধিকার পরিষদের বিভিন্ন দেশের সদস্যদের অর্থায়নে মালেশিয়া, সৌদি, কুয়েত ও মরিশাস থেকে ৬ টি লাশ দেশে প্রেরণ করা হয়েছে। অথচ এই লাশগুলো দেশে নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। এখনে থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর যদি প্রবাসীদের লাশ দেশে ফিরিয়ে নিতে ব্যার্থ হয় তাহলে আমরা বিশ্বের দেড় কোটি প্রবাসী সরকারি খরচে প্রবাসীদের লাশ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার এক দফা দাবিতে বিশ্বব্যাপী আন্দোলন গড়ে তুলবো”। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত