প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অমি রহমান পিয়াল: ‘বঙ্গবন্ধুর মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাখ্যা’ হাপিস করে দিলো আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠের জাতীয় সংসদ!

অমি রহমান পিয়াল : জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর উপর বিশেষ অধিবেশন। বক্তৃতা দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু, ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় সংসদের বক্তৃতার অডিও টেপ লাইভ পরিবেশন হচ্ছে। দরাজ গলায় স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ঘোষণা করছেন, ব্যাখ্যা দিচ্ছেন জাতির জনক। শেখ হাসিনা কাঁদছেন। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা। তারপর? তারপর আর কিছু নাই। বঙ্গবন্ধুর মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাখ্যা হাপিস করে দিলো আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠের জাতীয় সংসদ।

প্রচার না করা সেই লাইনগুলা ছিলো: ‘জনাব স্পিকার সাহেব, ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মকর্ম করার অধিকার থাকবে। আমরা আইন করে ধর্মকে বন্ধ করতে চাই না এবং করবও না। ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা এই রাষ্ট্রের কারো নেই। হিন্দু তাদের ধর্ম পালন করবে, কারো বাঁধা দেওয়া ক্ষমতা নেই। বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের কেউ বাঁধাদান করতে পারবে না। খ্রিস্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, কেউ তাদের বাঁধা দিতে পারবে না। আমাদের শুধু আপত্তি হলো এই যে, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।’

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুরে জাতীয় সংসদে এই অপমান না করলে হইতো না? এক কাজ করেন না, ক্ষমতার এমনই যখন মোহ, জাতির পিতারেই অস্বীকার করতে যখন দ্বিধা নাই, তখন বিল আনেন। আওয়ামী মুসলিম লিগে ফেরত যান। এই তামশা করা হবে মনে হয় বঙ্গবন্ধু জানতেন, তাই দূরদর্শিতায় বলে গেছেন-‘আওয়ামী লীগ একটি মাল্টি-ক্লাস পার্টি। আমি তার নামের আগে কৃষক শ্রমিক লাগিয়েছি বৈকি, কিন্তু দলটির চরিত্র এখনও বদলাতে পারিনি, রাতারাতি তা সম্ভবও নয়। আমার দলে নব্য-ধনীরাও আছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় তাদের লুটপাটের সুযোগ বহুগুণ বেড়ে গেছে। আমি তাদের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যই বাকশাল করেছি।

যদি এই ব্যবস্থা সফল করতে ব্যর্থ হই এবং আমার মৃত্যু ঘটে, তাহলে দলকে কব্জা করে ওরা আরও লুটপাটে উন্মত্ত হয়ে উঠতে পারে। এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশের মূলমন্ত্রে শত্রুপক্ষের নীতি ও চরিত্র অনুসরণ করে আওয়ামী লীগেরও চরিত্র ও নীতি পাল্টে ফেলতে পারে। যদি তা হয়, সেটাই হবে আমার দ্বিতীয় মৃত্যু। সেজন্য আগেই বলেছি, আমার দল, আমার অনুসারীদের হাতেই যদি আমার এই দ্বিতীয় মৃত্যু ঘটে, তাহলে দীর্ঘকালের জন্য বিস্মৃতির অন্ধকারে চলে যেতে হবে। কবে ফিরব তা জানি না।’তো আর কী! সাম্প্রদায়িক শক্তিরে ঘাটাবে না আওয়ামী লীগ। এজন্য বঙ্গবন্ধু ও তার মুজিববাদরে কোরবানি দিতে হইলে তাই সই। ধর্মনিরপেক্ষতার মায়রে বাপ কইরা দিতে হইলে তাই সই। আফসোস, কীভাবে নিজের পায়ে কুড়াল মারতে হয় তা এদের দেইখাই শিখতে হবে। তাও মুজিব বর্ষে…।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত