প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চিররঞ্জন সরকার: ‘গুরু আমার মনের ময়লা যাবে কেমনে?’

চিররঞ্জন সরকার: ‘সত্যি শস্য নেই। যা আছে তা যৎসামান্য। শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি।’ ‘লাল সালু’ উপন্যাসে মজিদের জন্মস্থানের বর্ণনা দিতে গিয়ে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এ কথা বলেছিলেন বহু বহু বছর আগে। আজকের বাংলাদেশের দিকে তাকালেও একই চিত্র চোখে পড়ে। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম অফিস বিজ্ঞপ্তি জারি করে তার প্রতিষ্ঠানের পুরুষ কর্মকর্তাদের পায়ের গোড়ালির ওপরে পোশাক পরার এবং নারী কর্মকর্তাদের হিজাবসহ গোড়ালির নিচে পর্যন্ত কাপড় পরিধানের নির্দেশ দিয়েছেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তিনি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিনিধিত্ব করেছেন মাত্র। মুহাম্মদ আব্দুর রহিম বিবিসি বাংলাকে বলছেন, তিনি তার অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচাতে এই নির্দেশনা দিয়েছেন।

সমালোচনার মুখে মুহাম্মদ আব্দুর রহিম দুঃখ প্রকাশ করে ওই অফিস বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বটে। কিন্তু এই ঘটনা আমাদের দেশে সরকারি কর্মকর্তাদের মানসিকতারই প্রতিফলন। যারা ‘চাপের মুখে’ অনেক কিছু মেনে নেন বটে, কিন্তু তাদের অন্তকরণ জুড়ে কেবলই ধর্ম, একজন ধর্মান্ধ মাদ্রাসা ছাত্রের মানের ধর্মবিশ্বাস! ভাবতে কষ্ট হয় তিনি একজন ডাক্তার। আবার বিসিএস ক্যাডার। লেখাপড়া করেছেন বিজ্ঞান নিয়ে। আর তার মন আর মনন জুড়ে আছে ধর্মীয় বিশ্বাস। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালে দেখেছি, আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স ফ্যাকাল্টির শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা মৌলবাদী আদর্শে বিশ^াসী হয় বেশি। পরবর্তী জীবনেও দেখেছি, বুয়েট-মেডিক্যালের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের মধ্যে ধর্মান্ধতা বেশি। বিজ্ঞান-যুক্তি তাদের কেবল তাদের সিলেবাস, কিন্তু মন-মানসিকতা পুরাই ধর্মবিশ্বাসে আচ্ছন্ন।

ধর্মবিশ্বাস যে খারাপ, তা বলছি না। কিন্তু এই ‘বিশ্বাসীরা  ঘুষ-দুর্নীতি-লাম্পট্য সব কিছুতে ষোলো আনায় মশগুল থেকে কেবল বুলি হিসেবে ধর্ম আর ধর্মবিশ^াসকে লালন করেন। যে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘শিক্ষিত’ মানুষ তালেবানি ‘আদর্শে’ লালিত, সেখানে বিজ্ঞান-যুক্তি-ধর্মনিরপেক্ষতা-প্রগতি কীভাবে সম্ভব? আমাদের মন, মনন জুড়ে মৌলবাদী আদর্শ বিকশিত হচ্ছে। শিক্ষিতরা প্রভাবিত করছেন নিরক্ষরদের। আমরা গুটিকয় মৌলবাদী যুদ্ধাপরাধীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছি, কিন্তু সেই রাজাকারি আদর্শের ধারাক-বাহকরা ক্রমেই ফুলে-ফেঁপে উঠছেন। শাসকরাও ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি’র দোহাই দিয়ে গড্ডলপ্রবাহে গা ভাসাচ্ছেন!

দেশে নাকি মোট জাতীয় আয়, প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি বাড়ছে। কিন্তু মন-মানসিকতায় আমরা দিন দিন পিছিয়ে পড়ছি। অনেকে মাদ্রাসা শিক্ষার দোষ দেন। কিন্তু বুয়েট, মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, সচিবালয়ের কর্মকর্তারা যখন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনমানসিকতা লালন করেন, তখন আমরা দোষ দেবো কাকে? আওয়ামী লীগ-বিএনপি নয়, বামপন্থীরা তো নয়ই, আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে মৌলবাদীদের বাংলাদেশ। জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আজ সেই নতুন বাংলাদেশের দিশা দেখালেন! ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত