প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদার মনের মানুষ, আমরা কঠোর হতে বাধ্য করি

দীপক চৌধুরী: আগে ধরা হতো না এখন ধরা হচ্ছে। আগে কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখা হতো, ধামাচাপা দেওয়া হতো, এখন প্রকাশ করা হয়। দুর্নীতিবাজদের রক্ষা নয়, রেহাই নয়, শাস্তি চায় মানুষ। আসলে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদার মনের মানুষ, আমরা কঠোর হতে বাধ্য করি। জিয়া-এরশাদ ও বিএনপি-জামায়াত সরকার আমলে দুর্নীতিবাজদের বিচার হতো না, আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া হতো। এখন দুর্দণ্ডপ্রতাপশালীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। মন্ত্রী, সচিব, এমপি, কারাকর্মকর্তা, উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা কারাভোগ করেছেন ও করছেন। এটা কিন্তু একসময় কল্পনাতেও ছিল না। দুর্নীতিবাজ এমপিদের তালিকা তৈরি করে দুর্নীতির তদন্ত চলছে এখন। কয়েকডজন এমপির ‘দুর্নীতির ফাইল’ এখন দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের হাতের মুঠোয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে দুদকে তলব কখনো ছিল? ছিল না, অর্থাৎ যিনি দুর্নীতি করবেন বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাবেন তার শাস্তি হবেই। দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি বা কর্মকর্তাটি যত শক্তিশালীই হোন না কেন– যদি দুর্নীতি প্রমাণিত হয় তাহলে তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে। আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীমসহ বিভিন্ন আসামির সাথে ‘আঁতাত করে জামিন করিয়ে দিয়ে অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ১০টায় তাকে ঢাকার সেগুনবাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বুধবার নোটিস পাঠিয়েছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব নিতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অধিদপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম ও তার ঘনিষ্ঠ চার প্রকৌশলীর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে দুদকের একজন উপ-পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তার হাতে। অনুসন্ধানে নেমে একেক জনের অপ্রতিরোধ্যগতির দুর্নীতি ও এরূপ কর্মকাণ্ড বিস্ময় জাগিয়েছে বলে জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।
আমরা জানি, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার শাসনামলে দুর্নীতিবাজ-অনিয়মকারীদের প্রশ্রয়ের সুযোগ নেই। শুধু যথাস্থানে তথ্য পৌঁছুলেই হয়। কয়েকদিন ধরে আলোচিত বিষয় হাজি সেলিম ও তার ছেলে ইরফান সেলিম। পুরান ঢাকার চকবাজারে অন্তত ১০টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সমিতি রয়েছে। এগুলোর নেতৃত্বে রয়েছেন হাজী সেলিম ও তার পুত্র ইরফান সেলিমের ঘনিষ্ঠজন এবং রাজনৈতিক অনুসারীরা। তাদের অনেকেই সেলিম পরিবারের নানা অপকর্মের ‘ক্যাডার বাহিনীর’ সদস্য হিসেবে স্থানীয়দের কাছে পরিচিত। হাজি সেলিম সরকার দলীয় ঘনিষ্ঠ লোক হলেও কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না বলে শোনা যায়।

সম্প্রতি নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় সেলিমপুত্র ইরফান গ্রেফতারের পরও থেমে নেই সুবিধাবাদী কিছু লোক। চকবাজার এলাকা এখনও রয়েছে তাদের কড়া নজরদারিতে। তবে নিষ্ঠুর প্রকৃতির এসব ক্যাডার চাইলেও আর অধরা থাকতে পারবেন না। বিভিন্ন সময়ে হয়রানি, নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হওয়া লোকেরা হাজী সেলিম পরিবারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস করছেন এখন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উল্টোপথে হাঁটতে শুরু করে। সংবিধান থেকে বাতিল করা হয় রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক স্তম্ভ ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’। একদিকে জাতির পিতার খুনীদের দায়মুক্তি দিয়ে জারি করা হয়েছিল কুখ্যাত ইনডেমেনিটি অধ্যাদেশ, অন্যদিকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে ধর্মভিত্তিক ও যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। পঁচাত্তর পরবর্তী দীর্ঘ সময়ের সেনাশাসনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অসাম্প্রদায়িক চরিত্রকে ছিন্নভিন্ন করা হয়। সেটি এক দীর্ঘ ইতিহাস, অতীত ও দুঃসময়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর বাঙালিকে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউই এতটা আপন করে ভালোবাসেনি এটা প্রমাণিত সত্য। মেধা-মনন, সততা, কঠোর পরিশ্রম, সাহস, ধৈর্য্য, দেশপ্রেম ও ত্যাগের আদর্শে গড়ে উঠেছে শেখ হাসিনার আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। এ দেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা এক আদর্শবাদী দূরদর্শীসম্পন্ন নেত্রী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। আপাদমস্তক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শেখ হাসিনা একজন খ্যাতিমান লেখকও। মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র, এদেশের গণতন্ত্র হত্যাকারী, গণতন্ত্রের বিরোধিতাকারী সামরিক স্বৈরাচার ও স্বৈরশাসন, তথা জীবন থেকে নেওয়া বহু বিষয় নিয়ে তিনি বিপুল সংখ্যক গ্রন্থ লিখেছেন। রাজনীতির ব্যস্ততায় তিনি বাঁধা থাকলেও একই সঙ্গে রাজনীতি ও প্রিয় পাঠকদের কথা মনে রেখে তিনি মানুষের জন্য লিখেছেন। আমরা জানি, লেখক হিসেবে শেখ হাসিনার প্রাণবন্ত উপস্থিতি পাঠকমহলকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করে থাকে। দুর্নীতিকে তিনি সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করেন। তাঁর ‘সহে না মানবতার অবমাননা’ গ্রন্থের একটি প্রবন্ধের শুরুতেই লিখেছেন, ‘একজন মানুষের মৌলিক অধিকার হচ্ছে তার জীবন-জীবিকা, মানসিক শান্তি, জীবনের নিরাপত্তা ও সামাজিক নিরাপত্তা। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান অধিকারের নিশ্চয়তা মানুষের প্রধান কাম্য।’ সম্ভবত ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ( একুশের বইমেলায় পাওয়া গিয়েছিল) বইটি বের হয়েছিল। তিনি যে কতটা দূরদর্শীসম্পন্ন, মানবিক, উদার এবং প্রয়োজনে কঠোর তা এই সরকার পরিচালনায় এসবের দেখা মিলে।

সুবিশাল অর্জনে সমৃদ্ধ শেখ হাসিনার কর্মময় জীবন। এক কথায় বলতে গেলে তিনি জীবন সংগ্রামী একজন জননেতা। বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা ও আস্থার জায়গা। এদেশের মানুষের একমাত্র আশা-ভরসার স্থান। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নতুন পর্যায়ের বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেধা-মনন, সততা, নিষ্ঠা, যোগ্যতা আজ প্রমাণিত। তাঁর কল্যাণমুখী নেতৃত্বে সেই বাংলাদেশ নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলছে। বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং দুর্নীতিবাজেরা তাঁর সরকার আমলে ছাড় পাবে না এটা মানুষ বিশ্বাস করে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের এই সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ বিশাল কর্মযজ্ঞের আয়োজক। মুজিববর্ষে এটাই প্রধান বিষয় হোক, দুর্নীতিবাজদের রক্ষা নেই।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত