প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে সচেতনতার অভাবে ব্রেন স্ট্রোকে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে

ডেস্ক রিপোর্ট: মানুষের প্যারালাইসিসের সবচেয়ে বড় কারণ স্ট্রোক। আর মৃত্যুর দিক থেকে পঞ্চম। তবে, বাংলাদেশে হার্ট অ্যাটাকের পর স্ট্রোকেই সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়। এমন বাস্তবতায় বিশ্ব জুড়ে আজ পালিত হচ্ছে ‘ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক ডে’। এবারের প্রতিপাদ্য, “সক্রিয় থাকি, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাই “। ডিবিসি নিউজ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় মতো চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হলে ৯০ ভাগ ব্রেন স্ট্রোকের রোগীই সুস্থ হয়ে উঠবেন। তবে, এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা। মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিলে আক্রান্ত অংশের কোষ নষ্ট হওয়াকে স্ট্রোক বলে আখ্যায়িত করা হয়।

বিশ্বে প্রতি চারজনের একজনের স্ট্রোকের ঝুকি রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থায়নে ২০১৭ সালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে স্ট্রোকের রোগী ১৯ লাখ। এরমধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ সময়মতো চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়েছেন। ৩০ ভাগ মানুষ স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়েন। ৩০ ভাগ মানুষ স্ট্রোকের পর নানা জটিলতায় মারা গেছেন। এর মূল কারণ, স্ট্রোক সম্পর্কে মানুষের সচেতনতার অভাব।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের নিউরোলজী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সেলিম শাহী জানান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকা, স্থুল বা ওজন বেশি এবং শারীরিক পরিশ্রম কম করা, ধুমপায়ী এবং অ্যালকোহল সেবনকারীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ট্রোক হওয়ার সাড়ে চার ঘন্টার মধ্যে আইভি থ্রমবোলাইসিস দেয়া গেলে ৯০ ভাগ রোগী সুস্থ হয়ে উঠবেন। তবে, সমস্যা হচ্ছে মানুষ স্ট্রোক হলে সহজে তা বুঝতেই পারেন না।

সেক্ষেত্রে কেউ যদি হঠাৎ করে চোখে দেখতে না পান বা অন্ধ হয়ে যান, মুখের একপাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া, কথা আটকে যাওয়া, বমি, প্রচন্ড মাথা ব্যাথা বা শরীরের একপাশ অথবা হাত বা পা অবশ হয়ে গেলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম.এস জহিরুল হক চৌধুরী।

স্ট্রোকের চিকিৎসায় দেশে একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটাল। এর বাইরে আরও কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি হাসাপাতালে স্ট্রোকের চিকিৎসা দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তবে, যেসব কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে তা এড়িয়ে চলার বিকল্প নেই বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত