প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিলটন রহমান: ছবিটি দেখার পর আমি এক ঝাঁক পাখির আর্তনাদ শুনলাম

মিলটন রহমান: টোকন দা(কবি ও চলচ্চিত্র পরিচালক টোকন ঠাকুর) থানায়। পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে হাসছেন। কারণ তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছবিটি দেখার পর আমি এক ঝাঁক পাখির আর্তনাদ শুনলাম। মনে হলো সরল একটি হাসির ভেতর দিয়ে কতগুলো পাখি ডানা ঝাপটিয়ে বাঁচতে চাইছে। কিন্তু তাদের বাঁচতে দিতে চায় না আইন। আইন তাদের বিষয়ে কোন ছাড় দেবে না। ছাড় দেবে যারা সরকারী সম্পত্তি অর্থ লুটপাটে সিদ্ধহস্ত তাদের। তারা ডাকাত হিশেবে মার্জনার স্থানে পৌছে গেছে। টোকন ঠাকুর তো কবি, সিনেমা বানায়। সরকার একটি সিনেমা বানানোর জন্য কিছু অর্থ বরাদ্ধ দিয়েছে, সে বরাদ্ধের কাজ সময়মতো শেষ করতে পারেন নি। এতো ভারী অন্যায়! শহীদুল জহিরের গল্প অবলম্বনে ছবি বানাবেন এতো দেরি কিসের? গল্প তো তৈরী আছে! অর্থ বরাদ্ধ দিলে এমন কত কাজ হয়ে যায়। টোকন ঠাকুর সময় মতো কাজ শেষ না করে ভীষণ অন্যায় করেছেন। তিনি যদি নিজেকে লুটপাটের ডাকাত মনে করেন তাতো হবে না! তিনি তো মামুলি একজন কবি! ডাকাত হতে হলে উঁচুতে হাত থাকতে হয়। একজন কবি বড়জোর প্রেমিকার হাত ধরতে পারে কিংবা একটি কচি ঘাসের ডগা। এতো নীচে থেকে ডাকাত হওয়ার চিন্তা করা ঠিক নয়। শহীদুল জহিরের গল্প নিয়ে যিনি সিনেমা বানাতে বছরের পর বছর কাটিয়ে দেন তিনি বড়জোর গল্পের চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলতে পারেন। তিনিতো আর ডাউশ ডাউশ প্রকল্পের বস্তা বস্তা টাকা এখানে সেখানে ভাগ ভাটোয়ারা করতে পারেন না। আইনতো তাঁকেই গ্রেফতার করবে। আইনতো তাঁর জন্য। একজন কবিকে জেলে পুরে দিলে কিচ্ছু হয় না। বরং সরকারী ভান্ডার ছিনতাইকারীরা নিরাপদ হয়ে যায়। কবিতা-সিনেমা দিয়ে কি হয়! প্রকল্পের নামে কাড়ি কাড়ি টাকা পকেটে ভরে বউ-পরবউ নিয়ে বিদেশে ঘুরতে যাওয়া যায়। টোকন ঠাকুরের এসব ক্রিয়েটিভিটি বউ-পর-উয়ের জন্য ওদের কিনে দেয়া একটি অন্তর্বাসের কাছে কিছুই না! কবি টোকন ঠাকুর ভুল করেছেন। তিনি জানেন না যে ছবিটির কাজ তিনি শেষ করে এনেছেন, সেটি যে আবেদন তৈরী করবে তার কানাকড়ি মূল্যায়ন তাদের নেই। পত্র-পত্রিকায়,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর কাজের যে সচিত্র বর্ণনা আমরা দেখেছি তা কোন আবহ তৈরী করতে পারে নি ডাকাতদের গ্রামে! একটি শিল্প-সম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য যেচে বাড়তি সময় দেয়া যে অবশ্যকীয় তাতো বাঁশ দিয়ে ব্রীজ নির্মাতাদের জানার কথা নয়! টোকন দা আপনি দস্যুদের গ্রামে পা রেখেছেন। কিন্তু এও মনে রাখবেন মিল্টনের স্বর্গের পাখিরা নাকি কখনো ধুলো স্পর্শ করে না। আপনি সেই পাখি। কবি এবং কবিশ্বর। পাখির পায়ে শিকল দেয়া যায় না। সে এমনিতেই মুক্ত। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত