প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনাকে ছাপিয়ে বই উৎসবের জোর প্রস্তুতি

যায়যায়দিন: করোনার কারণে আগামী ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ধীরে ধীরে কাটছে। দুই মাস দেরিতে শুরু হলেও এখন পুরোদমে চলছে বই ছাপার কাজ। গেল সপ্তাহ পর্যন্ত প্রাথমিকের ১০ কোটি বইয়ের মধ্যে ১০ শতাংশ বই দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পাঠানো হয়েছে, বাকি বই পাঠানো হবে নভেম্বরের মধ্যেই। এছাড়াও শিগগিরই শুরু হবে মাধ্যমিকের ২৫ কোটির বেশি বই পাঠানোর কার্যক্রম। এনসিটিবি ও মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এনসিটিবি কর্মকর্তারা বলছেন, কাজ পাওয়া প্রত্যেকটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান তার সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করছে। তবে ভালো কাগজের জন্য তাদের সমস্যা হচ্ছে। পেপার মিলগুলো সিন্ডিকেট করে কাগজ আটকে রাখায় তা নিরসনে এনসিটিবি, শিক্ষা, গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ মহলকেও অভিহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, বই ছাপার কাজ পুরোদমে চলছে। করোনাসহ নানা জটিলতায় একটু দেরি করে কাজ শুরু হলেও ডিসেম্বরের মধ্যে সিংহভাগ বই বিভিন্ন উপজেলায় পৌঁছানো হবে। তিনি আরও বলেন, কাগজ নিয়ে একটু জটিলতা তৈরি হয়েছে, তবে তা সমাধানে এনসিটিবি যা করা সম্ভব তা সবই করছে।

এ প্রসঙ্গে এনসিটিবির বিতরণ শাখার কর্মকর্তারা বলেছেন, চলতি বছর কাগজের মানের একটু পরিবর্তন এসেছে। বাস্টিং ফ্যাক্টর (বিএফ) ১৪ থেকে ১৬ করার কারণে চলতি বছর টনপ্রতি কাগজের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। এতে পেপার মিলগুলোর কাছে নিম্নমানের কাগজ চাচ্ছে মুদ্রণকারীরা। কিন্তু তারা দিতে রাজি হচ্ছে না। কারণ নিম্নমানের কাগজের ছাড়পত্র মিলছে না। এতে পেপার মিলগুলো এনসিটিবির সঠিক মাপের কাগজ না নিলে কাগজ বিক্রি করছে না। এটা নিয়েই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্যার সমাধান

হলে বই ছাপার আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।

কর্মকর্তারা জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বইয়ের প্রচ্ছদে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন এবং সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের বিভিন্ন স্থিরচিত্র ক্যাপশনসহ কালার করে ছাপানো হবে। সেজন্য বেশ কিছু ছবি বাছাই করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেজন্য মুদ্রণকারীদের জন্য বাড়তি অর্থের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাই এবারের বইয়ের মানের কোনো হেরফের যেন না হয়, এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

এনসিটিবির তথ্যমতে, চলতি বছর প্রাথমিকে ১০ কোটি ২৫ লাখ ৫৩৪ এবং মাধ্যমিক স্তরে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার কপি বই ছাপা হবে। এর মধ্যে প্রাথমিকে ৯৮টি লট আর মাধ্যমিকে ২১০, ৭৫ এবং ১৭৫ লটে ভাগ করে কাজ দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিকে ৫৬টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে। তার মধ্যে ১০টি বড় প্রতিষ্ঠান মোট কাজের সিংহভাগ করবে। গত ৬ অক্টোবর মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যাদেশপত্র দেওয়া হয়েছে। এরপর বই ছাপার জন্য তারা প্রাথমিকে নিয়মিত ৯৮ দিন ও মাধ্যমিকে ৬০ দিন সময় পাবে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই বই ছাপানো হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুদ্রণকারীরা। এ ব্যাপারে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রত্যেকটি প্রেসের এক মাসের মধ্যে সব বই ছাপানোর সক্ষমতা আছে। আশা করি তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই বই দিতে পারবে। আনুষ্ঠানিকভাবে বই উৎসব না হলেও বছরের প্রথম দিন যাতে শিক্ষার্থীরা বই পায় এবং তাদের উৎসাহে যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে সেই চেষ্টা করছি।’

জানা গেছে, এবার বইয়ের মান ঠিক রাখতে মাধ্যমিকের ‘ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন’ ৫২টি প্রেসে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে আলাদা ৫২ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে। যাদের কাজ হবে প্রেসে নিম্নমানের কাগজ-আর্টপেপার যাতে না ঢুকাতে পারে সেটা নিশ্চিত করা, ছাপা হওয়ার পর বইয়ের মান চেক করে ডেলিভারির অনুমতি দেওয়া। এরপর উপজেলা বই পৌঁছানোর পর সেখান থেকে স্যাম্পল নিয়ে তা আবার পরীক্ষা করা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে কোনো প্রতিষ্ঠানই প্রেসে সার্বক্ষণিক লোক রাখার কাজটি করেনি। এতে ছাড়পত্র পাওয়া কাগজ বদলে গভীর রাতে নিম্নমানের কাগজ দিয়ে বই ছাপানো হতো। সেটা ঠেকাতে ইনডিপেনডেন্ট এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

এদিকে চার স্তর তদারকির প্রথম স্তরে কাগজের মান দেখা হয়। পরিদর্শন এজেন্সি প্রেস থেকে কাগজের তিন কপি নমুনা সংগ্রহ করে এক কপি প্রিন্টার্স, এক কপি এনসিটিবি এবং অন্য কপি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। কাগজের মান ভালো হলে ছাড়পত্র, না হলে তা বাতিল করে প্রেস থেকে সেই কাগজ সরিয়ে ফেলা হয়। কাগজের ছাড়পত্রের পর বই ছাপা পর্যন্ত প্রতিটি রুল তদারকি করতে একজন ২৪ ঘণ্টা ওই প্রেসে অবস্থান করছে। ছাপার পর ডেলিভারি পর্যন্ত তা নজরে থাকে। এখানেই শেষ নয়, বই উপজেলায় পৌঁছানোর পর সেখান থেকে নমুনা বই সংগ্রহ করা হবে এবং আগের বইয়ের সঙ্গে মান মিলানো হবে। এভাবেই কঠোর তদারকি চলছে এবারের পাঠ্যবইয়ের। এসব স্তরে আগে নানা কারসাজি হতো। পরিদর্শন টিম ও মুদ্রণকারীদের যৌথ কারসাজিতে নিম্নমানের বই ছাপানো হতো এবং তা সরবরাহ করা হতো।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত