প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভুঁতড়ে বিদ্যুৎ বিলে হতাশ আদিতমারীর গ্রাহকরা!

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ [২] হঠাৎ মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলে হতাশ হয়ে পড়েছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী সাব জোনাল অফিসের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। বিল সংশোধন করতেও ভোগান্তির অভিযোগ।

[৩] জানা গেছে, কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় আদিতমারী সাব জোনাল অফিস। এ জোনাল অফিসের আওতায় আদিতমারী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন এবং কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ও চলবলা ইউনিয়ন মিলে মোট ১০টি ইউনিয়নের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে। প্রতি মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর মিটার রিডিং লিখে তৈরী করে গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি পৌছে দেন বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ ব্যবহার শুরুর পর থেকে চলতি মাসে হঠাৎ কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। যাদের মিনিমাম বিলে কেটে যেতো পুরো মাস। এমন গ্রাহকেরও বিল দেয়া হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। কেউ কেউ কয়েক মাস ধরে এমন ভুঁতড়ে বিলের বোঝা টেনে বেড়াচ্ছেন।

[৪] ভুঁতড়ে এমন বিল সংশোধন করতে আদিতমারী সাব জোনাল অফিসে গিয়েও কর্মচারীদের দুর্বব্যবহারে অতিষ্ট গ্রাহকরা। অনেক সময় টেবিলের পর টেবিল ঘুরেও মিলছে না ভুঁতড়ে বিলের সমাধান। পরিশোধ না হলে বকেয়ার কারনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। বিচ্ছিন্ন সংযোগ সচল করতে অনেক ঝামেলাসহ গুনতে হবে মোটা অংকের টাকা। ফলে হাতাশ হয়ে গ্রাহকরা ভুঁতড়ে বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

[৫] সারপুকুর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক মনোজ কুমার ও মিলন চন্দ্র জানান, বিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হতে প্রতি মাসে সহনীয় বিল পরিশোধ করে আসছেন। হঠাৎ দুই মাস ধরে ২/৩গুন বেশি বিদ্যুৎ বিল আসছে। সংশোধনের জন্য অফিসে গেলে বিলিং শাখার কর্মচারীদের হয়রানীতে দ্বিতীয় বার ওই অফিসের যাওয়ার ইচ্ছা করে না। সমাধান তো দুরের কথা বিল পরিশোধ না হলে সংযোগ বিচ্ছিন্নের হুমকী দেয়া হয়। তাই বাধ্য হয়ে কয়েক মাস ধরে ভুতড়ে বিল পরিশোধ করছেন তারা।

[৬] মহিষখোচা ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের ওবায়দুর রহমানের ছেলে মোস্তফা কামাল বাবু বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে বিল ছিল ৭৫০ টাকা। একই পরিমান ব্যবহার করেও চলতি অক্টোবর মাসে ৬ গুণ বাড়িয়ে বিল করেছে ৪ হাজার ২ শত টাকা।

[৭] নামুড়ি গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, করোনা কালের শুরুর দিকে প্রতি মাসে ৬/৭ শত টাকা বিল এসেছিল। এরপর কয়েক মাস ধরে হঠাৎ ১১/১২ শত টাকা হারে বিল দিচ্ছি। অক্টোবর মাসে আরো বেড়ে বিল দেয়া হয়েছে এক হাজার ৭৫০ টাকা। বিদ্যুৎ ব্যবহার আগের মতই থাকলেও বিল বেড়েছে ৩ গুণ।

[৮] আদিতমারী সাব জোনাল অফিসে গিয়ে দেখা যায়, বিলিং শাখায় ভুঁতড়ে বিল সংশোধন করতে আসা গ্রাহকদের প্রচন্ড ভিড়। কেউ কৌশলে কমিয়ে নিতে পারলেও অনেকে গালিগালাজ শুনে ভুঁতড়ে বিল পরিশোধ করছেন।

[৯] অফিসটিতে সেবা নিতে আসা ইকবাল হোসেন নামে একজন গ্রাহক জানান, করোনাকালে ৮/৯ মাস ধরে অফিসে বসে ইচ্ছামত বিল করে পাঠিয়েছিল। এখন সেই সময়ের জমানো রিডিং এক মাসেই চাপিয়ে দিয়েছে গ্রাহকদের। তাই ৬/৮ গুণ পর্যন্ত বিল বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে এক সাথে যেমন কয়েকগুণ বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। তেমনি প্রথম পর্যয়ের বিলের গ্রাহকদের তৃতীয়/চতুর্থ পর্যয়ের অতিরিক্ত বিল গুনতে হচ্ছে। আবাসিকে ৭৫ ইউনিটে প্রথম পর্যয়ের প্রতি ইউনিট ৪.১৯ টাকা, দ্বিতীয় পর্যয়ে বেড়ে প্রতি ইউনিট ৫.৭২টাকা এবং তৃতীয় পর্যয়ে প্রতি ইউনিট ৬ টাকা করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ প্রতি মাসে না গিয়ে কয়েক মাসের অতিরিক্ত রিডিং এক মাসে চাপিয়ে দিচ্ছে। ফলে তৃতীয় পর্যায়ের বিল করে ইউনিট প্রতি বিল আদায় করছে ৬ টাকা হারে। বিদ্যুৎ বিভাগ নিজের অবেহলার দায়ভার গ্রাহকদের উপর কৌশলে চাপিয়ে দিয়ে মাত্রাতিরিক্ত বিল আদায়ের নামে লুটপাট শুরু করেছে। তিনি ঊর্দ্ধতনমহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

[১০] সাব জোনাল অফিসের বিলিং শাখার নাসরীন আক্তার বলেন, মিটার রিডাররা যা লিখে আনেন সেটার উপরই বিল করা হয়। জনবল সংকটের কারনে প্রতিমাসে প্রতিটি মিটারে গিয়ে রিডিং লেখা সম্ভব হয় না। কোন মাসে কম বা বেশি হলে পরের মাসে তা সমতা হয়ে যায়।

[১১] পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আদিতমারী সাব জোনাল অফিসের সাব জোনাল ম্যানেজার না থাকায় অফিসের দায়িত্ব পালন করছেন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, মিটার রিডাররা অনেক সময় না গিয়েও বিল করে থাকেন। তবে তা পরের মাসেই সমতা হয়ে যায়। মিটার রিডিং এর চেয়ে বিল বেশি হলে তা সমাধান করে দেয়া হয়। দায়িত্বের অবহেলার কারনে কয়েকজন মিটার রিডারকে শোকজ করা হয়েছে। তবে গ্রাহকদের উপর চাপানো দ্বিতীয়-চতুর্থ পর্যয়ের অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।সম্পাদনা : জেরিন আহমেদ

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত