প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লী কুড়িগ্রাম: কওমি মাদ্রাসাগুলো স্কুলের মতো করা যেতে পারে না?

লী কুড়িগ্রাম: কয়েকটি কওমি মাদ্রাসায় শিশুদের থাকার জায়গাগুলোতে উঁকি দেওয়ার কয়েকবার চেষ্টা করেছি। গুয়ানতানামো বে তে কয়েদীদের রাখার ভিডিও, ছবি দেখেছি, অনেক আর্টিকেল, লেখালেখি পড়েছি। এই শিশুদের সঙ্গে মিল গুলো খোঁজার চেষ্টা করেছি তখন। শিকল পরিয়ে রাখা, ইটের উপর হাঁটু মুড়িয়ে বসিয়ে রাখা, উল্টাদিকে ঝুলিয়ে রাখা, চাবুক দিয়ে পেটানো, লাত্থি মেরে অজ্ঞান করে ফেলা এগুলো সেখানে নৈমিত্তিক। কাউকে সারারাত ঘুমাতে না দিয়ে বসিয়ে রাখাও অবাধ্য হওয়ার শাস্তি। আর যৌন শোষণ তো আছেই। যেন এক একটা অনিবন্ধিত কারাগার। আজকাল শিশু বলাৎকারের খবর দেখে দেখে যারা নিজেদের সন্তানকে রেখেছেন কওমি মাদ্রাসায় তাদের কয়েকজনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি। এই মা-বাবাগুলোও এতো বিশ্বাসী যে হুজুর যদি তাদেরকেও ডেকে নেয় বিছানায় তারা বিনা বাঁধায় চলে যাবেন। প্রত্যেক শুক্রবার সকালেই বাসার চারদিক থেকে ৫-৬ টি মাদ্রাসার নাম করে শিশুরা এসে দরজায় দাঁড়ায়। ছুটির দিন বলে সেসময় অনেকেই ঘুমেই থাকে। শিশুরা কতোভাবে আকুলিবিকুলি করে ভিক্ষা চায়। মাঝে মাঝে দরজা খুলে জোরে ধমক দেই। ৭-১৩ বছরের শিশুগুলোকে শুধু সালাম দিয়ে মাটির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখি। কোনো প্রশ্ন করলে চোখ না তুলেই মিনমিন করে।

এতো কম বয়সের শিশুদের এটুকু বয়স থেকেই অন্যের কাছে হাত পাততে বাধ্য করা, মারপিট, যখন তখন যৌণ নিপীড়ন করাতে ওদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান বলে কিছু থাকে না। চোখের সামনে ভাসা কয়েকজন আলেমকে কল্পনা করি, যারা কওমি মাদ্রাসা থেকে বড় হয়েছেন। তারা ভীত, চুপচাপ, শান্ত। তাদের পেশা ধর্মভিত্তিক। তার বাইরে সব সময় যেন তারা সমাজ এড়িয়ে চলে। কওমি মাদ্রাসাগুলো স্কুলের মতো করা যেতে পারে না? শিশুরা ৯ টা- ৫টা ক্লাস করে নিজের নিজের বাসায় ফিরে যাবে। তাতে একদিকে যেমন শিশুদের বাড়ি বাড়ি, পথে পথে ঘুরিয়ে ভিক্ষা করানো বন্ধ হবে, অন্যদিকে শিশুরা তাদের দেখা শোনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পীর হুজুরদের বলাৎকার থেকে রক্ষা পাবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত