প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোজিনা ছেড়ে দেওয়ায় জোসনা হলেন অনজু

ইমরুল শাহেদ : প্রযোজক ও পরিচালক মতিউর রহমান পানুর প্রধান সহকারী ছিলেন তোজাম্মেল হক বকুল। এজন্য একটা সময়ে এসে পানু অনুভব করলেন বকুলকে একটি ছবি দেওয়া দরকার, যার মাধ্যমে বকুল পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। বেছে নেওয়া হলো ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ যাত্রা পালাটি। সে সময়ে তারকা জগতে জ্বলজ্বল করছিলেন রোজিনা ও মাহমুদ কলি। প্রযোজক হিসেবে মতিউর রহমান পানু ছবিটিতে চুক্তিবদ্ধ করলেন এই দুইজনকেই। এ ছবিটির আরেকজন প্রযোজক ছিলেন আব্বাস উল্ল্যা যিনি মৃত্যুর আগে এটিভি নামে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেল শুরু করেছিলেন। যাহোক রোজিনা ও মাহমুদ কলি একদিন শুটিং করেই ছবিটি বাদ দিয়ে দিলেন।

তাদের কাছে তখন বকুলকে খুব শক্ত পরিচালক মনে হয়নি। তারা ছবিটি না করায় নতুন পরিচালক বেশ বেকায়দায় পড়ে গেলেন বকুল। তিনি ভেঙ্গে পড়েন এই কথা ভেবে যে, তার বুঝি আর পরিচালক হওয়া হবে না। তাকে সাহায্য করতে এবারও এগিয়ে এলেন পানু। তিনি ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে কথা বললেন। কাঞ্চল ছবিটি করতে রাজী হলো। কিন্তু নায়িকা কে হবেন? তিনি কথা বললেন অনজুর সঙ্গে। সওদাগর, নরমগরম, আবে হায়াৎ ছবি করে অনজু তারকা জগতে ঠাঁই করে নিলেও তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। এক পর্যায়ে এসে অনজুর পরপর ১৮টি ছবি মুখ থুবড়ে পড়ে। সে সময় আমাকে অনজুকে নিয়ে আনন্দ বিচিত্রায় একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়। অনজুর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকার কারণে আমি বেশ বেকায়দায় পড়ে গেলাম। সম্পাদকীয় নির্দেশও পালন না করে উপায় নেই।

তাই আমি লেখার মধ্যে একটা পথ বেছে নিলাম যে, আমি অনজুর সাফল্য-ব্যর্থতা তুলে ধরব। সঙ্গে তার একটি সাক্ষাৎকারও দেব। প্রতিবেদক হিসেবে আমি দুকুলই রক্ষা করতে পারলাম। ক্যারিয়ারের সাফল্য ব্যর্থতার মাঝখানেই একটি প্রযোজনা সংস্থা করলেন অনজু। নাম দিয়েছেন অনজু কথাচিত্র। যাহোক, অনজুকে প্রস্তাব দিয়ে পানু বললেন, অনজু যদি ছবিটি করে দেন তাহলে নতুন একজন পরিচালক তৈরি হবে। তবে ছবিটি করতে হবে বাকিতে। অর্থাৎ পারিশ্রমিক দেওয়া হবে ছবি মুক্তির পর। অনজু দ্বিধায় পড়ে গেলেন। তখন পরিচালক নূর হোসেন বলাই এবং আমি অনজুর উত্তরার বাড়িতে অনজু কথাচিত্রের জন্য ঘরের শত্রু নামে একটি ছবির চিত্রনাট্য লিখছিলাম।

মতিউর রহমান পানু স্ট্যাম্পে লিখিত একটি চুক্তিপত্র নিয়ে অনজুর বাসায় হাজির হলেন। অনজু তাকে স্বাগত জানিয়ে ড্রয়িং রুমে বসালেন। ড্রয়িং রুমে বসে তাদের দুজনের মধ্যে কি কথা হয়েছে জানি না। তবে কথোপকথনের এক ফাঁকে অনজু চলে এলেন আমরা যেখানে লিখছিলাম, সেখানে। বললেন, ‘রোজিনা ছেড়ে দিয়েছে, ছবিটা আমার করা কি ঠিক হবে? তারপরও বাকিতে।’ নূর হোসেন বলাই তাকে বললেন, ‘অবশ্যই কর। রোজিনাতো ছেড়েই দিয়েছে। সেজন্য তোমার সমস্যা হবে না।’ এবার অনজু আমার মতামত জানতে চাইলেন। আমি বললাম ‘করা উচিত।

কারণ গল্পটি জনপ্রিয় একটি যাত্রা পালা। এই ছবিটি দর্শক দেখবে।’ আর কোনো না অনজু চুক্তিপত্র সই করে দিলেন। নির্মিত হলো বেদের মেয়ে জোসনা। কিন্তু প্রদর্শকরা পড়ে গেলেন দ্বিধায় - পরিচালক নতুন, অনজুর ছবি চলে না, এক ইলিয়াস কাঞ্চন আর কাঁহাতক টেনে নেবেন। কেউ রাজী হচ্ছিলেন ছবিটি প্রদর্শন করতে। তারপরও পানু-আব্বাসের কাছের কয়েকজন ছবিটি নিলেন। প্রথম দিনের দর্শক সমাসম কম দেখে, যারা ছবিটি চালাননি তারা ভাবলেন জিতে গেছেন। কিন্তু পরের দিন সন্ধ্যার শো হতে দর্শক সমাগম শুরু হলো। বাকিটা ইতিহাস। বেদের মেয়ে জোসনা রুপবানের মতোই এদেশের চলচ্চিত্রের একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠে। ছবি মুক্তির কিছুদিন পর ঢাকা ক্লাবে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনজুকে পারিশ্রমিকের অর্থ প্রদান করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত