প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফার লন্ডনে সাড়ে ৫বিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদের তথ্য ফাঁস

রাশিদ রিয়াজ : ফাঁস হয়ে যাওয়া এক তথ্যে জানাগেছে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও আবু ধাবির আমির শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের লন্ডনে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আছে। ব্রিটিশ মিডিয়া গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানে এ তথ্য বেরিয়ে আসে। ৭২ বছরের শেখ খলিফর লন্ডনে বেশ কয়েকটি অভিজাত এলাকায় বাড়ি রয়েছে। রয়েছে অর্থ সম্পদ। এগুলোর মধ্যে মেফেয়ারে বার্কলে স্কয়ার, কেনসিংটন গার্ডেন ও নাইটসব্রিজ হাউজিং এলাকায় বাড়িগুলো উল্লেখযোগ্য। কেনসিংটন গার্ডেন এলাকায় শেখ খলিফার একটি এ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে যার মূল্য ১৮ থেকে ২৬ মিলিয়ন পাউন্ড। বিশে^র সবচেয়ে পুরোনো বেন্টলে কার ডিলারশিপের মালিকানা ছাড়াও এ্যানাবেলে একটি নাইটক্লাব, নিউ বন্ড স্ট্রিটের টাইম লাইফ বিল্ডিং ও হার্মেস লাক্সারি গুডস স্টোরও শেখ খলিফার। মিডিল ইস্ট আই

গার্ডিয়ান বলছে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের এসব সম্পদের মালিকানার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই গোপন ছিল। বেশকয়েকটি কোম্পানি এসব সম্পদের দেখাশোনা করে আসছে। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে লন্ডনের অভিজাত ল’ ফার্ম ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইসল্যান্ডের কয়েকটি কোম্পানি। মালিকানা হিসেবে শুধুমাত্র ‘ দি ক্লায়েন্ট’ পরিচয় দেয়া হলেও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট বা শেখ খলিফার নাম ব্যবহার করা হয় না। কর প্রদান ছাড়াও বিভিন্ন দাফতরিক কাজে শেখের পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়। খলিফার ব্যবসায়িক কাজের সাথে একটি সূত্র গার্ডিয়ানকে জানায় বহুবছর ধরে এসব মালিকানা গোপন রাখা হয়েছে। তবে খলিফার সঙ্গে গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কোনো ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন তিনি।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ব্রিটেনে খলিফার মত ধনী বিনিয়োগকারীদের পক্ষে তার বাড়ি কিংবা ফ্লাটগুলোতে হাজার খানেক ভাড়াটিয়া নিয়ে বিস্তৃত সাম্রাজ্য গড়ে তোলা কিভাবে সম্ভব তাও লন্ডনের শীর্ষ আইন সংস্থাগুলোর চোখ এড়িয়ে ও একটি জটিল কাঠামোকে অতিক্রম করে অতি গোপনের সঙ্গে তা বুঝে ওঠা মুস্কিল। ২০১৬ সালে ব্রিটেনে প্রথম খলিফার সম্পদ গড়ে তোলার ইচ্ছার কথা জানা যায়। পানামা পেপার ফাঁস করে দিয়ে গার্ডিয়ান তা জনসমক্ষে নিয়ে আসে। তখন জানা যায় অন্তত ১.২ বিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ রয়েছে খলিফার দেশটিতে। কিন্তু ওই সম্পদের পরিমান এখন ৫ গুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০০৫ সালে খলিফা একাই ১ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেন ৫টি বাড়ি কিনতে। এসব বাড়ি থেকে বছরে বাড়ি ভাড়া আদায় হয় ১৬০ মিলিয়ন পাউন্ড।

ব্রিটেনে এধরনের সম্পদ গড়ে তোলা বৈধ তবে এতে স্বচ্ছতার প্রয়োজন পড়ে কারণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে সঠিক তথ্যের দরকার হয়। খলিফার সম্পদ দেখাশোনা করে এমন একটি ফার্ম ল্যান্সারের মুখপাত্র গার্ডিয়ানকে জানান এসব সম্পদ বৈধভাবেই কেনা হয়েছে। এভারশেডস নামে আরেক ল’ ফার্ম জানায় কঠিন ভাবে ব্রিটিশ আইন মেনে এবং সবসময় বৈধপথেই এসব সম্পর্দ রক্ষণাবেক্ষণও করা হয়।

সর্বাধিক পঠিত