প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জীবন যুদ্ধে জয়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জোসনা বেগম

তৌহিদুর রহমান: [২] এক সময় অসহায়ত্বের মধ্য দিয়ে দিন কাটলেও নিজের অদম্য ইচ্ছা, আগ্রহ ও চেষ্টায় ভাগ্য বদলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জোসনা বেগম। পরিবারের হাল ধরতে একটি মাত্র ছাগল বাগী (বর্গী চাষী) নিয়ে জীবন সংগ্রামে লড়াই শুরু তার। এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা জোছনা বর্তমানে গড়ে তোলেছেন সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

[৩] প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রতিদিন অর্ধশত যুবতী ও নারীরা ব্লাউজ , পেটিকোট, থ্রি পিছসহ নারীদের বিভিন্ন পোশাক তৈরি করে নিজেদের স্বাবলম্বী করছেন। এছাড়াও এখান থেকে অন্তত ৩শ নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজদের পরিবারের হাল ধরেছেন।

[৪] এলাকার নারীদের কাছে জোসনা এখন এগিয়ে যাওয়ার দৃষ্টান্তের প্রতীক। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের মোঃ আবু তাহেরের মেয়ে মোছাম্মত জোসনা বেগম। পরিবারে ৫ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি।

[৫] ১৯৯৮ সালে একটি ছাগল বাগী নিয়ে কর্মজীবনের শুরু করেন তিনি। পরে ওই ছাগলের একটি বাচ্চা বিক্রী করে সেলাই প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০১ সালে একটি সেলাই মেশিন ক্রয় করে শুরু করেন সেলাই এর কাজ। ঘোচাতে থাকে পরিবারের দুঃখ। পর্যায়ক্রমে সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে নারীদের উন্নয়নে কাজ করতে শুরু করেন। তার উৎপাদিত পণ্য বিভিন্ন স্থানে বিক্রী হয়ে থাকে।

[৬] এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিজ গ্রামসহ আশ-পাশ গ্রামের নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আর প্রশিক্ষন কেন্দ্রের প্রশিক্ষনার্থীদের মতে, পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে কাজ করে ভাল আয় রোজগার হচ্ছে তাদের। এতে লেখা পড়ার খরচ
মেটানোর পাশাপাশি পরিবারকেও আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারছেন তারা।

[৭] জোসনা বেগম বলেন, ইচ্ছা-মনোবল আর সাহস থাকলে যে কোন মানুষ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা দিয়ে শুরু করে আস্তে আস্তে তাঁর পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে নিজের জীবনের সফলতা আনতে পারে। দূর করতে পারে পরিবারে অভাব-অনটন। সে সাথে থাকতে হবে তার দৃঢ.মনোবল। আমি আজ স্বাবলম্বী, সমাজে পাঁচজন মানুষের মত মাথা উঁচূ করে দাঁড়িয়ে চলতে পারছি। আমার এখানে এখন অনেক মেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। সামনে আরো বড় কিছু করার কথা জানান এই নারী জানান নারী উদ্যোক্তা। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত