প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আলুর দাম এখন ৬০ টাকা : ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করবে টিসিবি

ডেস্ক রিপোর্ট : আলুর দামের লাগাম টানতে এবার টিসিবির মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে ২৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করা হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বিকেলে সচিবালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বেঁধে দেয়া দাম বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করবে। আর বর্তমান দাম অস্বাভাবিক স্বীকার করে ব্যবসায়ীরা মনে করেন, আলুর দাম খুচরা পর্যায়ে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা হলে যৌক্তিক।

এদিকে, লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে আলুর দাম। প্রতিকেজির দাম এখন ৬০ টাকা, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি’র তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় এবার আলুর দাম বেড়েছে ১১১ শতাংশ। শুধু আলুর দামই যে বেড়েছে তা নয়, বাড়ছে অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও। সবজিসহ বেশকিছু পণ্যের দাম বেড়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ। দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও সব ধরনের সবজির দাম। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সীমিত আয়ের মানুষজন পড়েছেন বিপাকে। জিনিসপত্রের বাড়তি এই দাম নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে অনেকেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।

লকডাউনে মানুষ আলু খেয়েছে বেশি!

আলুর দাম বেড়ে যাওয়ার অন্তত পাঁচটি কারণ মনে করা হচ্ছে। কোল্ড স্টোরেজের মালিক, আলু ব্যবসায়ী ও আলু চাষিরা এই পণ্যটির দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য কেউ কেউ লকডাউনের সময় বেশি বেশি আলু খাওয়াকে দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, লকডাউন চলাকালে সবাই ঘরে বন্দি থেকে বেশি বেশি আলু খেয়েছেন। ওই সময় সবাই বেশি পরিমাণে কেনার কারণে এখন আলুর সংকট দেখা দিয়েছে।

আলুর উৎপাদনও কম হয়েছে

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের চেয়ে এবার ৪০ লাখ মেট্রিক টন আলু কম উৎপাদন হয়েছে। জানা গেছে, গত বছর এক কোটি ২০ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছিল। এবার উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৮৫ লাখ মেট্রিক টন। এছাড়া, গত বছর কৃষকরা আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে এবার আলু চাষ করেননি অনেকে, যার ফলে আলুর সংকট দেখা দিয়েছে। তবে হিমাগারগুলোতে প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন আলু ফেলে রেখেছেন বেপারিরা। যে কারণে আলুর বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের নেতা মোস্তাকিম আশরাফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিবছর এই সময়ে এক প্রকার নতুন আলু বাজারে আসে। এবার বৃষ্টির কারণে সেই আলু লাগাতে পারেননি কৃষকরা। ফলে পুরনো আলু দিয়ে সব কাভার করতে হচ্ছে। এই সুযোগটা নিয়েছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।’ তিনি বলেন, ‘আলু ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর আগস্ট মাসে কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু বের করে নেন। এ বছর মূলত লকডাউন চলাকালে আলুর চাহিদা অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় দুই মাস আগেই অর্থাৎ জুন মাসেই ব্যবসায়ীরা কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু বের করে নিয়েছেন। তবে হিমাগারে এখনও ৪০ লাখ মেট্রিক টন আলু রয়েছে। এই আলু অনেকেই বাজারজাত না করার কারণে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।’ মোস্তাকিম আশরাফের মতে, অসৎ কিছু আলু ব্যবসায়ী এই সুযোগে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

হিমাগার থেকে আলু বের করছেন না অনেকে

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে হিমাগারগুলো এবার ৪০ লাখ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করে। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ আলু বাজারজাত হয়েছে। তার মধ্যে ১০ লাখ টন বীজ আলু। বাকি আলু এখনও হিমাগারগুলোতে রয়ে গেছে। যদিও বাজারে আলুর দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায় রবিবার (১১ অক্টোবর) হিমাগার থেকে আলু বাজারজাত করার জন্য বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন সংগঠনের সদস্যদের চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমান বাজারে আলুর চাহিদা থাকা সত্ত্বেও হিমাগারে সংরক্ষণকারী কৃষক, বেপারী ও ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করছেন না। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কোনও অঞ্চলে হিমাগার থেকে অত্যন্ত ধীরগতিতে আলু সরবরাহ হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তাদের সুবিধার্থে হিমাগার থেকে আলু সরবরাহ নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হলো।

অবশ্য আলুর দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য অনেকেই সবজির দাম বেড়ে যাওয়াকেও কারণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, আলু এক ধরনের সবজি।

এ প্রসঙ্গে পাইকারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি আলুর ব্যবসা করি না। তবে মনে হয়, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে মানুষ আলুর ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। ফলে আলুর ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে।’ তবে ২০ টাকার আলু ৬০ টাকা হওয়া উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।

সিন্ডিকেট

২০ টাকার আলুর দাম ৬০ টাকা হওয়াকে অস্বাভাবিক বলছেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তাকিম আশরাফ। তিনি বলেন, ‘সার্বিক বিচারে ২০ টাকার আলু বড়জোর ৩০ টাকা হতে পারে। কোনোভাবেই ৫০ বা ৬০ টাকা হওয়া উচিত নয়।’ এ দাম বৃদ্ধির পেছনে যৌক্তিক কোনও কারণ নেই বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণেই মূলত এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, দেশে বন্যা দীর্ঘায়িত হওয়ায় এবার আবাদ প্রায় এক মাস পিছিয়েছে। আগের বছর কিছু পণ্যের উৎপাদনও কিছুটা কম ছিল। ফলে মৌসুম শেষে এর সুযোগ নিয়েছেন মজুতকারী মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা। তাদের কাছে মজুত থাকা পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন ইচ্ছেমতো।

এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজির বাড়তি দাম থেকে বাঁচতে মানুষ আলুর ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। এর সঙ্গে অতি-মুনাফাখোরদের সিন্ডিকেটের কারণে এই পণ্যটির দাম ৬০ টাকায় ঠেকেছে।’

এদিকে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও চাল ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে লাগামহীন। এতে বিপাকে পড়েছেন করোনা পরিস্থিতিতে আয় কমে যাওয়া সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। দ্রব্যমূল্যের এমন ঊর্ধ্বগতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ওপর।

বাজারে সবজির দামে এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত তো বটেই, অনেক ক্ষেত্রে উচ্চবিত্তরাও চাপে পড়েছেন। বাজারে শিম, টমেটোসহ পাঁচ থেকে সাত ধরনের সবজির দাম শতকের ঘরের ওপরে রয়েছে। বাজারে ভালো মানের বেগুন কিনতে লাগছে ১৪০ টাকা কেজি, উচ্ছে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি। কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ টাকার ওপরে।

সূত্র- সময়.টিভি ও বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত