প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জবির বোটানিক্যাল গার্ডেন পরিচর্যার অভাবে পরিত্যক্ত

রকি আহমেদ: [২] জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণায় ব্যবহৃত ‘বোটানিক্যাল গার্ডেন’ পরিচর্যার অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকতে দেখা গেছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিনে দিনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ এই বাগানটি।

[৩] সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের পাশে এটির অবস্থান। তবে এর চারপাশে নির্মিত সীমানা প্রাচীর একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাগানের টবগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ। বিভিন্ন ধরনের আগাছা, লতাপাতা এবং একটি গাছ ভেঙ্গে অন্য গাছের উপর পড়ায় বাগানটির সৌন্দর্য কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া এসময় বাগানের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বোতল যত্রতত্র পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর আগে অধিকতর গবেষণার জন্য বাগানটিতে ‘নেট হাউজ’ তৈরি করা হলেও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে শিক্ষার্থীদের গবেষণায় ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

[৪] জানা যায়, জবির পুরো ক্যাম্পাসের জন্য মালি রয়েছে মাত্র দুইজন। ক্যাম্পাস পরিষ্কার রাখার জন্য নিয়োজিত এ মালি দুইজন শুধু বাগানের বাইরের অংশটুকু পরিষ্কার করেন। অথচ গবেষণার জন্য ব্যবহৃত এ বাগানটির আলাদা কোনো রক্ষণাবেক্ষক বা মালি নেই।

[৫] ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আয়তনে ছোট এই বাগান দিয়ে পর্যাপ্ত উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, বোটানিক্যাল গার্ডেনের জন্য আরও বিস্তৃত জায়গা প্রয়োজন, যা এখানে নেই। তবে আয়তনে ছোট এ ক্যাম্পাসে বাগানটি বর্ধিত করা সম্ভব না হলেও পরিচর্যার মাধ্যমে সঠিক ব্যবহার করা যাবে বলে মনে করছেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

[৬] এ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বোটানিক্যাল গার্ডেন হচ্ছে অসংখ্য জানা অজানা উদ্ভিদের সমাহার। আর এটা বোটানির স্টুডেন্টদের জন্য অনেক প্রয়োজনীয়। আমরা সাধারণত বইয়ে বিভিন্ন গাছ নিয়ে পড়াশোনা করে থাকি। কিন্তু এই পড়াটাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে গার্ডেন আমাদের সুযোগ করে দেয়।

[৭] তারা বলেন, বিলুপ্তপ্রায় অনেক প্রজাতির গাছ যেগুলো সচরাচর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না, তা এখানে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এতে প্রজাতির ধারা অক্ষুণ্ন থাকে। আর বিলুপ্ত গাছ যার অস্তিত্ব নেই, সেসব গাছের নমুনা এখানে রাখা আছে হারবেরিয়ামে। তবে গার্ডেনের কয়েক রকমের গাছের সঙ্গে নেমপ্লেট নেই। এতে গাছ চিনতে সমস্যা হয় বলে তারা জানান।

[৮] বাগানটির রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘বাগানটি তো উদ্ভিদবিজ্ঞানের আন্ডারে। মালি নিয়োগ বা পরিচর্যার দায়িত্বও ওই বিভাগের।’

[৯] এ বিষয়ে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী সাখাওয়াত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বাগানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা সতর্ক আছি। কারণ পূর্বে বাগানের ভেতরে বহিরাগতদের প্রবেশ করার ইতিহাস আছে। রাতের বেলায় একজন কর্মচারী বাগানের ভেতরে থাকে। সে রাতের বেলা দেখাশুনা করে। কিন্তু বাগানের দেখাশোনা করার জন্য নির্দিষ্ট করে আলাদা কোনো লোক নেই।’

[১০] তিনি আরও বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে বাগানের পরিচর্যায় একটু সমস্যা হচ্ছে। বাগানের ভিতর বহিরাগতরা প্লাস্টিক ফেলতে পারে। ক্যাম্পাসের যে দুইজন মালি পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত তারা শুধু বাগানের বাইরের অংশটুকু পরিষ্কার করেন। তবে এগুলো পরিষ্কার করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি এসময় জানান।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত