প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কাঁচাবাজারে সাধারণ মানুষের হাঁসফাঁস

মো. আখতারুজ্জামান: [২] প্রতিনিয়ত বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির দাম। বৃষ্টির তালেতালে দাম বাড়াচ্ছেন সবজির ব্যবসায়ীরা। অনেক সবজি এখন সাধারণ ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে।

[৩] রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে বেশ কিছু সবজি এখন ১০০ টাকার ওপরে। আর অধিকাংশ সবজির দাম ৭০ টাকার ওপরে। কাঁচাবাজার করতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা। দিন যত যাচ্ছে এই তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম বাড়ছে। সেই সঙ্গে কমছে বিক্রির পরিমাণ।

[৪] সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে দাম বেড়েছে ডিম, আলু ও কাঁচা মরিচের। সরকার ৩০ টাকা আলুর দাম বেঁধে দিলেও ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। টমেটো গত কয়েক মাসের মতো এখনও ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। আর শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে।

[৫] আলুর ক্রেতারা এখন ঝুঁকছে পেঁপেতে। কারণ বাজারে এখন কম দামি সবজির তালিকা রয়েছে পেঁপের নাম। প্রতিকেজি পেঁপের দাম ৩৫-৪০ টাকা। আর আলুর বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজে দরে।

[৬] জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজারগুলোয় অভিযান চালানোর পরও এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ১০০ টাকার ওপর। একইভাবে আলুর দাম নির্ধারণ করলেও তা কিনতে হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়। খাদ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে সরু ও মাঝারি চালের দাম নির্ধারণ করে দিলেও খুচরা বাজারে চালের দাম কমেনি। এখনও প্রতি কেজি ভালো মানের মোটা চাল ৪৮-৫০ টাকা, মাঝারি চাল ৫২-৫৪ টাকা এবং সরু চাল ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

[৭] শান্তিনগর বাজারের ব্যবসায়ী রমজান রহমান বলেন, আমরা পাইকারি বাজার থেকে ৪০-৪৫ টাকা দরে আলু ক্রয় করে নিয়ে আসি। এর সঙ্গে আরও কিছু খরচ রয়েছে। ফলে এক কেজি আলু ৫০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব না। একইভাবে বেশি দামে চাল ও পেঁয়াজ কেনার কারণে তারা বেশি দামেই এই দুটি পণ্য বিক্রি করছেন। বাজার স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত মাস খানেক সময় লাগবে। বাজারের এই পরিস্থিতির জন্য তদারকি না থাকাকে দায়ী করেছেন তারা। এছাড়াও বৃষ্টি, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে জিনিপত্রের দাম বাড়তি।

[৮] ব্যবসায়ী মালিবাগ কাঁচাবাজারে রহমান মিয়া বলেন, আমাদের বলে কি লাভ। বাজারে পণ্যে সরবরাহ থাকলে তো আর দাম বাড়তো না। কারণ এটা তো আর অন্য পণ্যের ন্যায় নয় যে মজুদ করে দিনের পর দিন রাখা যায়। আমরা খুচরা ব্যবসায়ী আমাদের তো আর গোডাউন নেই যে মজুদ করে রাখবো। এটা করে থাকে যারা পাইকারি ব্যবসায় করে তারা।

[৯] মগবাজারের কাঁচাবাজারে, বরবটির কেজি গত সপ্তাহের মতো ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনও গত সপ্তাহের মতো ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে উস্তারও। এক কেজি উস্তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

[১০] খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজার তদারকি ব্যবস্থা যদি ঠিক থাকতো তাহলে সরবরাহ বাড়তো। এখন সরবাহ কম, এ কারণে দাম বেশি। তবে বর্ষা, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারণে জিনিসপত্রের দাম চড়া। দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা। আমদানি করা বড় আকারের ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি ৮০ টাকা। পটলের কেজি ৮০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৮০ টাকা। ঝিঙা, কাঁকরোল, ধুন্দলের কেজি বিক্রি ৭০ টাকা। বাজারে নতুন আসা ফুলকপি ও বাঁধাকপির প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। এক হালি কাঁচাকলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, মুলার কেজি ৫০ টাকা।

[১১] মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা মাহবুব জানান, আগে যেখানে কাঁচাবাজারের প্রতিদিনে বরাদ্ধ ছিলো ২০০ টাকা। এখন তা ২৫০ টাকাও হয় না। তার আয় থেকে বাসা ভাড়া দেওয়ার পর যা থাকছে, তা দিয়ে শুধু সবজিও কিনেও মাস পার করতে পারছেন না। করোনাকালে বাসাভাড়া কমায় কিছুটা স্বস্থি এসেছে। এখন যে হারারে সবজির দাম বেড়েছে তাতে তো রাজধানীতে আমাদের মত কম আয়ের লোকদের থাকায় কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত