প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দেবে চীন, ভারতকে টপকে গেছে বাংলাদেশ, ব্লুমবার্গ সমীক্ষা ও আইএমএফ প্রতিবেদন

রাশিদ রিয়াজ : বাংলাদেশে কর্মবয়সী নারীদের প্রতি ৫ জনে দু’জন শ্রমে যুক্ত, ভারতে ২১ শতাংশ কিন্তু বাংলাদেশে এই হার ভারতের দ্বিগুন। বছরে কমপক্ষে ৮০ লাখ কর্মসংস্থানের জরুরি চ্যালেঞ্জ ভারতের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা।

তুলনামুলক নিম্ন দক্ষতা আত্মবিশ্বাসের ক্ষতি করতে পারে। যে ছোট্ট দেশটিকে ১৯৭১ সালে স্বাধীন করতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ভারত, এখন ঘরের পিছনের সেই দেশটির কাছে ক্ষমতার উচ্চাকাঙ্খি ভারত পরাজিত হচ্ছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের প্রভাব ক্ষয় পেতে পারে। ভুলটা কোথায় হয়েছে? অবশ্যই এ জন্য করোনা ভাইরাস মহামারী দায়ী। নতুন করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মধ্য জুনে বাংলাদেশে পিক-এ বা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। অন্যদিকে ভারতে যেকোন দেশের তুলনায় রেকর্ড উচ্চ হারে সংক্রমণের পর সবেমাত্র প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশে জনসংখ্যা সাড়ে ষোল কোটি। তার মধ্যে কোভিড-১৯ এ মারা গেছেন ৫৬০০ এর চেয়ে সামান্য কম। অন্যদিকে এই জনসংখ্যার তুলনায় ভারতে রয়েছে আটগুণ মানুষ। এখানে মৃতের সংখ্যা বাংলাদেশের ২০ গুণ। আরো খারাপ বিষয় হলো, করোনা ভাইরাসের কারণে যে লকডাউন দেয়া হয়েছিল তাতে অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। প্রকৃত আউটপুটের শতকরা ১০.৩ ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলছে আইএমএফের। বিশ্ব অর্থনীতি এতে যে পরিমাণ ক্ষতির শিকার হবে বলে মনে করা হচ্ছে, এই পরিমাণ তার প্রায় আড়াই গুণ।

আর্থিক কৃপণতা, কম পুঁজির আর্থিক ব্যবস্থা এবং বহুবছরব্যাপী বিনিয়োগে পিছিয়ে আসায় ভারতের করোনা পরবর্তী ক্ষতি মেটানো বিলম্বিত করবে। আরো খারাপ বিষয় হলো, করোনা বাদেও দৌড়ে বাংলাদেশের কাছে হেরে যেতে পারে ভারত। এ বিষয়টি ‘ইন্ডিয়াস এক্সপোর্ট-লিড গ্রোথ: এক্সেম্পলার এন্ড এক্সেপশন’ শীর্ষক একটি নতুন গবেষণাতে বর্ণনা করেছেন পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং ভারতের সাবেক প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রামানিয়ান।

বাংলাদেশ ভাল করছে। এর কারণ, তারা এর আগের এশিয়ান টাইগারদের পথ অনুসরণ করছে। তারা তাদের কম দক্ষতাসম্পন্ন পণ্যের রপ্তানি বজায় রেখেছে, যা গরিব দেশের কর্মবয়সী জনসংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। এর চেয়ে সামান্য এগিয়ে আছে ভিয়েতনাম। কিন্তু মৌলিকভাবে, উভয়েই চীনের কাছ থেকে শিক্ষা নিচ্ছে। কম দক্ষতাসম্পন্ন পণ্যের উৎপাদনের মাধ্যমে বড় আধিপত্য বিস্তার করে, তার মাধ্যমে তারা উচ্চ জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। ভারত অন্য পথ অবলম্বন করেছে। ১০০ কোটি মানুষের কারখানায় কর্ম উপযোগী বা কর্মবয়সীদের কাজে লাগানোর পথ বেছে নেয়নি। ফলে পোশাক খাতে যে পরিমাণ উৎপাদন হারিয়েছে ভারত তার পরিমাণ ১৪০০০ কোটি ডলার, যা দেশটির জিডিপির ৫ শতাংশ।

২০২১ সালে সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ২৬.৮ শতাংশ হতে পারে চীনে। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২৭.৭ শতাংশ। এই বৃদ্ধির ফলেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃদ্ধির হারকে বেশ কিছুটা পেছনে ফেলে দিতে পারে চীন। আর এ বছরেই বাংলাদেশের চেয়ে মাথাপিছু জাতীয় প্রবৃদ্ধি ভারতে কম হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু টুইটে বলেছেন, যেকোনো উদীয়মান অর্থনীতি ভাল করছে এটা শুধু সুখবর নয় বরং অবাক ব্যাপার হচ্ছে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত এখন পিছিয়ে পড়ছে, পাঁচ বছর আগেও যারা অর্থনীতিতে শতকরা ২৫ ভাগ সামনে ছিল।

বলা হচ্ছে ভারত, জার্মানি এবং ইন্দোনেশিয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন অর্থনীতির অবদান ২৩ শতাংশ। চীনের রয়েছে ১৫.৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেমে আসতে পারে ১০ শতাংশের আশপাশে। ১৩ শতাংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপরে উঠে যেতে পারে ভারত। ৯০ এর দশকে অর্থনীতিকে উন্মুক্ত করে দেয়ার পর ভারত চাইছে চীনের দ্রুত বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কিন্তু সেই প্র্রচেষ্টায় এখন বাংলাদেশের চেয়ে ভারত পিছিয়ে পড়ছে। এতে বিশ্বে ভারতের ভাবমূর্তিতে আঘাত লেগেছে। অন্যদিকে চীনের বিরুদ্ধে অর্থপূর্ণ একটি পাল্টা অবস্থান প্রত্যাশা করছে পশ্চিমারা। কার্যত ভারত নিম্ন-মধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকা পড়ছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত