প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীর ইশারায় খুন

ডেস্ক রিপোর্ট : চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গত ৩ অক্টোবর খুন হয় কথিত ঠিকাদার শিরু মিয়া। দেশের বাইরে পলাতক মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে তিনি বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করতেন। কখনো কখনো চাঁদাবাজির এই টাকা সেই বসকে না দিয়ে আত্মসাৎ করতেন। সর্বশেষ ওই শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা নেন শিরু। এই খবরও বসকে জানাননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার বস বিদেশে বসেই অনলাইনে শিরুকে হত্যার নির্দেশ দেন। সেই বসের নির্দেশে ৮ শিষ্য শিরুকে বাসা থেকে ডেকে এনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এমনকি শিরুর মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলাও কেটে ফেলা হয়। এই হত্যার পুরো দৃশ্য ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বন্দি হয়ে যায়।

গত ৬ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানী ও পিরোজপুর থেকে শিরু হত্যায় সরাসরি জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে এই খুনের রহস্য। গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে চারজন হত্যার দায় স্বীকার করে এরই মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি মৃত্যুঞ্জয় দে সজল আমাদের সময়কে বলেন, গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি শিরু হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা কীভাবে হত্যা করেছেন সেই কথাও বলেছেন তারা। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটি এখনো তদন্তানাধীন। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।

পুলিশ জানায়, গত ৩ অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একতা হাউজিংয়ের ৮ নম্বর গলিতে খুন হন শিরু মিয়া। এই ঘটনার তদন্ত শুরুর পর ঘটনাস্থলের পাশের একটি বাসার ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। সেখানে দেখা যায় কিলিং মিশনে থাকা ৮ সন্ত্রাসী শিরু মিয়াকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করছে। তবে ফুটেজে কারও চেহারা স্পষ্ট ছিল না। এই ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৬ অক্টোবর শ্যামলী এলাকা থেকে প্রথমে অহিদুর রহমান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একদিন পর ৭ অক্টোবর মোহাম্মদপুরের বছিলা থেকে সুজন মিয়া এবং মো. সজীব ওরফে রুবেল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৯ অক্টোবর পিরোজপুর থেকে সুমন শেখ ওরফে বাকেট সুমন এবং তানভীর নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। হত্যায় অংশ নেওয়া তিন খুনি এখনো পলাতক। গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে ১৩ অক্টোবর অহিদুর, ১৪ অক্টোবর সুজন মিয়া ও সজীব ওরফে রুবেল এবং ১৫ অক্টোবর তানভীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, হত্যায় অংশ নেওয়া ৮ জনই শিরুর পরিচিত। তারা এক সঙ্গে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে চাঁদাবাজি করে আসছিল। সেই সন্ত্রাসী কখনো থাইল্যান্ড আবার কখনো মালয়েশিয়ায় অবস্থান করেন। ঘটনার দিন হত্যাকারীদের একজন ‘ফিটিং আছে’ বলে মোবাইল ফোনে শিরুকে বাসা থেকে ডেকে আনেন। তারপর একতা হাউজিংয়ের ৮ নম্বর গলিতে কুপিয়ে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা শিরুর গলা কেটে দেন। ঘটনার ১০-১২ দিন আগে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। হত্যা করতে নতুন চাপাতিও কেনে ঘাতকরা।

পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার রওশানুল হক সৈকত আমাদের সময়কে বলেন, খুনিরা শিরুকে মোবাইলে কল করে বাসা থেকে ডেকে আনেন। পরে তাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিরা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিরু ও খুনিরা একসঙ্গে চাঁদাবাজি করতেন। চাঁদাবাজির টাকার ভাগ-ভাটোয়ারা এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে।

ভিন্ন ভিন্ন পেশার আড়ালে চাঁদাবাজি : পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের দ্বন্দ্বের জেরে শিরু মিয়া খুন হন। শিরু মিয়া সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেম হাসুর সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তবে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে। শিরু নিজেকে ঠিকাদার পরিচয় দিলেও মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে বিভিন্ন এলাকায় তিনি চাঁদাবাজি করতেন। যারা তাকে হত্যা করেছে তাদের সঙ্গে নিয়েও তিনি চাঁদাবাজি করতেন এই কাজকে তারা ‘ফিটিং’ বলতেন।

এদিকে শিরু খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচর আসামির মধ্যে অহিদুর মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ করতেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। সুজন অটোরিকশাচালক, সজীব টাইলস মিস্ত্রি, বাকেট সুমন স্যানেটারি দোকানের কর্মচারী এবং তানভীর গাড়ি চালান। এসব পেশার আড়ালে তারা আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে মোহাম্মদপুর ও আদাবরে চাঁদাবাজি করতেন।দৈনিক আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত