প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] লেনদেনের খাতার ছবি তুলে বিকাশ গ্রাহকের টাকা হাতাতেন তারা, চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

সুজন কৈরী : [২] রাজধানীসহ ঢাকা এবং গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিকাশ প্রতারক চক্রের প্রধানসহ ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. সাইফুল ইসলাম (২২), মো. লিটন হোসেন (২৩), মো. জুবায়ের শেখ (২২), মো. গোলাম কিবরিয়া মন্ডল (১৯), মো. ইমরান মোল্লা (২৩), মো. শাওন হোসাইন মন্ডল (১৮), মিনজারুল ইসলাম মোল্লা (২৫), মো. আশরাফ মোল্লা (২৬) ও সাগর আহম্মেদ (২৫)।

[৩] শুক্রবার অভিযান চালিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মডেলের ৫টি মোবাইল ফোন, ১০টি সিমকার্ড এবং ১টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

[৪] গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের ডিসি মো. ওয়ালিদ হোসেন বলেন, বিকাশ প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রধানত ৪টি গ্রæপে ভাগ হয়ে প্রতারণা করে থাকে। প্রথম গ্রæপ মাঠ পর্যায়ে অবস্থান করে বিভিন্ন বিকাশের দোকানে টাকা বিকাশ করার কথা বলে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে আগে লেনদেনকৃত বিকাশ খাতার ছবি তুলে নেয় তারা। পরে ওই ছবি হোয়াটসঅ্যাপে দ্বিতীয় গ্রæপের কাছে স্থান উল্লেখ করে পাঠিয়ে দেয়।

[৫] দ্বিতীয় গ্রæপটি পাঠানো বিকাশ খাতা থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন নম্বরে বিকাশ দোকানদার সেজে কল করে এবং জানতে চায়, তাদের কাছে পাঠানো টাকা তারা পেয়েছেন কিনা এবং ক্যাশ আউট করেছেন কিনা। যদি বলে পেয়েছে কিন্তু টাকা তুলেনি বা ক্যাশ আউট করেনি তখন প্রতারকরা তাদের প্রতারণার বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার শুরু করে।

[৬] প্রতারণার ছলে বলতে থাকে, আমার দোকান থেকে একই সময়ে কয়েকটি নাম্বারে পাঠানো টাকা নিয়ে অভিযোগ আসায় তাদের নাম্বার লক করতে গিয়ে আপনার নাম্বারও লক হয়ে গেছে। আপনাকে বিকাশ আফিস থেকে ফোন করে আনলক করে দেবে।

[৭] অল্প সময়ের ব্যবধানে তৃতীয় গ্রæপ বিকাশ কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস অফিসার পরিচয় দিয়ে, অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে বিকাশ অফিসের নাম্বার ক্লোনিং করে ফোন দেয়। ফোন করে বিভিন্ন কথার ছলে ওটিপি এবং বিকাশ পিনকোড নিয়ে নেয়। পরে গ্রাহকের বিকাশ এ্যাকাউন্ট হ্যাক করে প্রতারক চক্র এ্যাকাউন্ট আনলক করার কথা বলে ভিকটিমের বিকাশ এ্যাকাউন্ট এবং প্রতারক চক্রের বিকাশ এ্যাকাউন্টে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা দিতে বলে।

[৮] ডিসি ওয়ালিদ জানান, এভাবে হাতিয়ে নেয়া টাকা মাঠ পর্যায়ে থাকা সর্বশেষ অর্থাৎ চতুর্থ গ্রæপের কাছে পাঠানো হয়। যারা বিভিন্ন হাত বদল করে ক্যাশ আউট করে, ফলে প্রতারকদের অবস্থান সনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ওই প্রতারকদের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় মামলা হয়েছে।

[৯] বিকাশ হ্যাকার চক্র থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিকাশ এজেন্ট সেজে কেউ ফোন করে পিন নাম্বার অথবা পাসওয়ার্ড চাইলে না দেয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান পুলিশ কর্মকর্তা ওয়ালিদ হোসেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত