প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনাকালে বন্ধ হয়েছে ১১৭ গার্মেন্টস কারখানা

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনা শুরুর পর বিশ্বব্যাপী পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানিমুখী কারখানাগুলো ব্যাপক চাপে পড়েছে। এর ফলে অন্তত ১১৭টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বন্ধ হওয়ায় এসব কারখানার ৪৪ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পমালিকরা জানিয়েছেন, বন্ধ হওয়া কারখানার বেশির ভাগই ছোট মূলধনের এবং ঠিকা ভিত্তিতে (সাবকন্ট্রাক্ট) কাজ করা কারখানা। করোনার ধাক্কায় রপ্তানি আদেশ স্থগিত হওয়ায় আর্থিক চাপ সইতে না পেরে এসব কারখানা বন্ধ হয়েছে।

গার্মেন্টসের বাইরে অন্য খাতের আরো ৬ হাজার ১৯৪টি কারখানা বন্ধের তথ্যও জানিয়েছে ডিআইএফই। তবে তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর হিসাবে, তাদের সদস্যভুক্ত ৩০০ কারখানা বন্ধ হয়েছে। যদিও করোনার ধাক্কা সামলে ভালো অবস্থানে ফিরতে শুরু করেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি। গত জুন থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি আদেশ বাড়ছে। সর্বশেষ জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।

ডিআইএফইর হিসাবে, বর্তমানে সব মিলিয়ে ৩ হাজার ৭৫৬টি গার্মেন্টস কারখানা চালু রয়েছে। এর বাইরে অন্য খাতের কারখানা চালু রয়েছে ২১ হাজার ৭১০টি। দেশব্যাপী বিশেষ পরিদর্শনে কারখানা বন্ধ হওয়ার এ তথ্য উঠে এসেছে। যোগাযোগ করা হলে ডিআইএফইর যুগ্ম মহাপরিদর্শক মো. সামশুল আলম খান বলেন, সম্প্রতি পরিদর্শনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এ তথ্য করোনার সময়ে বন্ধ হওয়া কারখানারই।

অবশ্য এই সময়ে নতুন কোনো কারখানা চালু হয়েছে কি না কিংবা কত সংখ্যক কারখানা চালু হয়েছে—সে তথ্য ডিআইএফইর কাছে পাওয়া যায়নি। সামশুল আলম খান বলেন, অনেকেই তথ্য দিতে চায় না।

ডিআইএফইর হিসাবে, গার্মেন্টস কারখানা সবচেয়ে বেশি বন্ধ হয়েছে ঢাকায়, ৪১টি। এছাড়া গাজীপুরে ২৫টি, নারায়ণগঞ্জে ১১, চট্টগ্রামে ২৪, ময়মনসিংহে ১৩, কুমিল্লায় ১, নরসিংদীতে ২টি কারখানা বন্ধ হয়েছে।

গত মার্চে দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর আগেই চীনে করোনার প্রকোপ বাড়ায় বাংলাদেশের কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হয়। তবে মার্চে বিশ্বব্যাপী করোনা বাড়তে থাকায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য আমেরিকা ও ইউরোপের খাদ্যপণ্য ও ওষুধসহ নিত্যপণ্য বাদে অন্যান্য দোকান বন্ধ হয়ে যায়। টানা কয়েক মাস এ পরিস্থিতি চলতে থাকে। ফলে পুরো সরবরাহ চেইন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশই আসে এ খাত থেকে। করোনা শুরুর পর বিশ্বব্যাপী পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ায় অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশের মতো একের পর এক ক্রয়াদেশ স্থগিত হতে থাকে বাংলাদেশের। বিজিএমইএর হিসাবে, তাদের প্রায় সোয়া ৩০০ কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েক ধাপে এ খাতের জন্য প্রণোদনা হিসাবে সরকার ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ সহায়তা দিয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় অনেক কারখানাই ফের পুরোদমে কাজ করছে।

কারখানাগুলো নতুন করে শ্রমিকও নিয়োগ দিচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পোশাক খাতের একজন উদ্যোক্তা বলেন, ৩০০ কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে বিজিএমইএ থেকে তথ্য শুরুর দিকের। পরবর্তী সময়ে রপ্তানি আদেশ ফিরতে শুরু করলে কারখানাগুলোর বেশির ভাগই চালু হয়েছে। করোনায় স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত এমন কারখানার সংখ্যা ৪০-এর মতো হতে পারে।

যোগাযোগ করা হলে বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, বন্ধ হওয়া কারখানা মূলত সাবকন্ট্রাক্ট ভিত্তিতে কাজ করা এবং স্বল্প মূলধনের। তারা সরাসরি রপ্তানিও করে না কিংবা রপ্তানি করলেও নতুন বাজারের কিছু দেশে। অবশ্য বন্ধ হওয়া এসব কারখানার শ্রমিকরা এখন বেকার নেই দাবি করে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে ক্রয়াদেশ ফিরতে শুরু করলে এসব কারখানার শ্রমিকরা অন্য কারখানায় কাজ পেয়েছে। কেবল যেসব শ্রমিক গ্রামে গিয়ে আর ফেরেনি, তারাই এখন কাজে নেই। আমরা এখন শ্রমিক খুঁজছি।ইত্তেফাক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত