প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচন: বিদ্রোহী থাকায় বেকায়দায় আ’লীগ প্রার্থী

স্বপন দেব: [২] মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ আসন্ন উপনির্বাচন ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এখন জেলা জুড়ে চলছে দিবারাত্র নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। নির্ধারিত দিনে জেলার ১৫টি ভোট কেন্দ্রে ৯৪৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

[৩] এবার জেলা পরিষদের উপ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান। জয়ের মালা পরতে তিনি ও নেতাকর্মীরা দিবা রাত্র জেলার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত দৌড়ে তেমন সুবিধা করতে পারছেন না বলে নির্ভর যোগ্য সূত্র জানা গেছে। অপর দিকে স্বতন্ত্র(বিদ্রোহী) প্রার্থী এম এ রহিমও কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

[৪] এই উপ নির্বাচনে বিএনপি বা অন্য কোনো দলের প্রার্থী না থাকায় একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এমএ রহিম (সিআইপি) মাঠে রয়েছেন । তবে নিরপেক্ষ ভোট নিয়ে সংশয়ের কথা ব্যক্ত করেছেন এই প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা।

[৫] নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে চশমা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন মিছবাহুর রহমান। অপর দিকে, দলের বিদ্রোহী প্রার্থী এমএ রহিম (সিআইপি) মোটরসাইকেল প্রতীকে লড়ছেন।

[৬] জানা যায়, গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে শাসক দল, বিরোধী দল, স্বতন্ত্র এবং বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে ছিলেন। তবে এবার কিছুটা ব্যতিক্রম, আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। রাতদিন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে যাচ্ছেন আ- লীগের দলীয় প্রার্থী ও কর্মী বাহিনী। জেলার ৬৭টি ইউনিয়ন, ৫ পৌরসভা ও ৭ উপজেলার সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও কাজ করছেন।

[৭] জেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কে সদর উপজেলা, কুলাউড়া, বড়লেখা, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল,রাজনগর ও জুড়ী উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের একাধিক ভোটারদের সাথে কথা বললে তারা জানান, আওয়ামী লীগ করেন এমন চেয়ারম্যান মেম্বারও গোপনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। তারা সামনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে দেখালেও অপর প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কেও টাকা নিয়ে গোপন সমর্থন দিয়ে ভোট আদায়ে কাজ করছেন।

[৮] তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ রহিমের অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে আমার পোস্টার ও বিলবোর্ড ইতিমধ্যে ছিঁড়ে ফেলছে। আমার পক্ষের নেতাকর্মীদের প্রচার চালাতে বাঁধা দেয়া হচ্ছে। কেন্দ্রের টেবিলে ব্যালেট পেপার রেখে ভোট দেয়ার কথা বলা হচ্ছে ভোটারদের। অন্যথায় ওই ভোটারকে কেন্দ্রে ঢোকতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দিচ্ছে প্রতিপক্ষের লোকজন।

[৯] এম এ রহিম আরও বলেন, এ বিষয়ে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা নির্বাচন কমিশনকে আমি লিখিত অভিযোগ করেছি। জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা করেছি। কিন্তু এখনও কোনো পরিবর্তন হচ্ছেনা।

[১০] অপরদিকে, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মিছবাহুর রহমান এ প্রতিবেদককে ফোনে বলেন, আমি দলীয় প্রার্থী। যদি দল করতে হয় তবে আমার সন্মানীত ভোটারদেরকে আমাকেই ভোট দিতে হবে। আর আমি ছাত্রলীগ, যুবলীগ করে বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে দায়িত্ব পালন করছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত প্রার্থী, সেক্ষেত্রে যারা দলের বিভিন্ন পদে থেকে অথবা দলের কর্মী সমর্থক হয়ে দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করার ষড়যন্ত্র করছেন তাদের চিহ্নিত করে দলীয়ভাবেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।তবে আমি আশাবাদী দলীয় ভোটাররা আমার সাথে বা দলের সাথে বেঈমানী করবেন না।

[১১] মিছবাহুর রহমান এর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি আজমল হোসেন বলেন, টেবিলে রেখে ভোটারদের ভোট দেয়ার কথা আমরা কখনই বলিনি। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোন কাজে বিশ্বাসী নই। ভোটের মাধ্যমে জয়-পরাজয় নিশ্চিত হবে এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।

[১২] এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন অফিসার মো: আলমগীর হোসেন জানান, উভয় প্রার্থীই পরস্পরের বিরুদ্ধে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দিচ্ছেন। সেসব আমরা গুরুত্বের সাথে পর্যক্ষেণ করছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে অভিযোগ সম্পর্কে কেউই কোনো প্রমাণপত্র জমা দিতে পারেননি। তিনি নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত