প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুখবর ইস্পাত শিল্পে

সমকাল: যে চীন থেকে এক সময় ইস্পাতের কাঁচামাল বিলেট আমদানি করে রড তৈরি করা হতো, সেই চীনেই এখন বিলেট রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো চীনে ২৫ হাজার টন বিলেট পাঠাচ্ছে বাংলাদেশের জিপিএইচ গ্রুপ। আগামী মাসে ১ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার বা ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের বড় চালান রপ্তানি করে ইস্পাতের বিশ্ববাজারে প্রবেশ করছে লাল-সবুজের দেশ।

বিলেটের লাখো কোটি টাকার বাজার ধরতে চীন, ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, তুরস্ক, ব্রাজিল, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও ইউক্রেনের সঙ্গে এখন প্রতিযোগিতায় নামল বাংলাদেশও।

রড উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হলো বিলেট। এটি উত্তপ্ত করে ছাঁচে ফেলেই রড তৈরি করা হয়। বিলেট উৎপাদনে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে এখন চীন। মোট বাজারের প্রায় অর্ধেক এখন এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে তারা।

ইস্পাত ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্বে বিলেটের বাজার লাখো কোটি টাকার। এই বাজার ধরতে বাংলাদেশের সামনে এখন বাধা আছে তিনটি। রপ্তানির ওপর এখন ৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইনটেনসিভ দেয় সরকার। এই ইনটেনসিভের সর্বোচ্চটুকু চান তারা। এটির পাশাপাশি সমুদ্রবন্দরে বার্থিং ও সড়ক পরিবহনে চান অগ্রাধিকার। বিলেট উৎপাদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সহজলভ্য হলে এ পণ্যটি রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়বে বলে মনে করেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা। আর রপ্তানি বাড়লে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাবে।

জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিলেট উৎপাদনে ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেসের সর্বশেষ প্রযুক্তি কোয়ান্টাম ইএএফ ব্যবহারে আমাদের কারখানাটি এশিয়ায় প্রথম। এটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধুনিক কারখানা। প্রায় ১৫০ একর জায়গা নিয়ে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় গড়ে উঠেছে এ কারখানা। এতে ধাপে ধাপে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হবে প্রায় ১০ হাজার মানুষের।’

জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) মোহাম্মদ আলমাস শিমুল বলেন, ‘ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস কোয়ান্টাম বা ইএএফ কোয়ান্টাম ইস্পাত শিল্পের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। এর চেয়ে উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি এখনও আবিস্কার হয়নি। পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী এ প্রযুক্তিতে একই জ্বালানিকে পুনরায় ব্যবহার করা হয়। তাই জ্বালানির অপচয় হয় না বললেই চলে। এটি কারখানার উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। এতে পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও কম হয়। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় বলে এতে সর্বোচ্চ মাত্রায় পণ্যের মানও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এভাবে মান নিয়ন্ত্রণ করেছি বলেই চীনে প্রথমবারের মতো ২৫ হাজার টন বিলেট রপ্তানি করতে পারছি আমরা। এটির মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। সরকার থেকে নীতি সহায়তা পেলে বিলেটের লাখো কোটি টাকার বিশ্ববাজারে আরও বড় পরিসরে প্রবেশ করতে পারব।’

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত