প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দড়ি দিয়ে বেঁধে ছাত্রকে মারধর করলেন শিক্ষক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে দড়ি দিয়ে বেঁধে শিক্ষকের মারধরে আহত এক মাদ্রাসাছাত্রকে (১৫) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক গা-ঢাকা দিয়েছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মোহাম্মদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানান, ছয় মাস আগে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ‘মা’আরিফুল কুরআন ওয়াল সুন্নাহ মাদারাসা’র কার্যক্রম শুরু করেন হাসান আহমদ ওরফে দুলাল নামের এক ব্যক্তি। তিনিই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।

ওই মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদ্রাসায় ৮০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ জন মাদ্রাসায় থাকে। বুধবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা পড়ার সময়ে নাফিসুজ্জামান নামের ওই শিক্ষার্থীর কাছে আরেক শিক্ষার্থী সময় জানতে চায়। পড়ার সময় কথা বলায় নাফিস বিরক্ত হয়। এ নিয়ে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক হাসান আহমদ ওই শিক্ষার্থী সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সে শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং তর্কাতর্কি করে। পরে সে প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে যেতে চাইলে তারা তাকে আটককে রাখে। এ সময় দড়ি দিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে তার অভিভাবককে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে অভিভাবকরা গিয়ে সেখান থেকে ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়েছে।

ওই ছাত্রের বাবা নুরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আমার ছেলেকে কয়েকজন শিক্ষক দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করেছেন। তার পিঠে ও হাতে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এখন সে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমরা থানায় মামলা করবো।’

এ ব্যাপারে কথা বলতে ওই প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা হাসান আহমদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে ওই প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষক নবীর হোসাইন ও শাহেদ আলী জানান, তারা ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেননি। সে যাতে বের হয়ে যেতে না পারে এজন্য দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছিলেন। পরে অভিভাবকরা এসে তাকে নিয়ে যান।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সহিদুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ওই মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। ওই ছাত্রের পরিবার অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত