প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] এসআই আকবরের সন্ধান চেয়ে সব ইমিগ্রেশনে পি‌বিআইর ‌চি‌ঠি

সুজন কৈরী : [২] সিলেটের কোতোয়ালি থানার বন্দর বাজার ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ নামে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তের স্বার্থে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে প্রয়োজন। এ জন্য আকবর যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সেজন্য সব ইমিগ্রেশনকে চি‌ঠি দিয়েছে সংস্থা‌টি।

[৩] বৃহস্প‌তিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত পিবিআই’র প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটি প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সিলেটের ঘটনার ডকেট আমরা গত পরশু রাতে পেয়েছি। বুধবার ঘটনাস্থলে সিলেটের পিবিআই টিম তিন থেকে চার ঘণ্টা ছিল। আমরা তদন্ত শুরু করে দিয়েছি, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে মনে হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া উপপরিদর্শক আকবরকে আমাদের প্রয়োজন। আকবর যেন কোনোমতেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে, এ কারণে সব ইমিগ্রেশনে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সীমান্তের বিভিন্ন ইমিগ্রেশন সেন্টারে জানানো হয়েছে। তাকে ধরার জন্য আমরা টিম রেডি করেছি, তাকে আমাদের খুবই প্রয়োজন।

[৪] তিনি আরও বলেন, আমাদের আইজিপি স্যার সব সময় বলেন, করোনার মধ্যে তোমরা যে সুনাম কামিয়েছো। এ সুনাম নষ্ট করো না। আকবর যেহেতু এই অপকর্ম করে বাহিনীর সুনাম নষ্ট করেছে এবং আমাদের কথা চিন্তা করেনি। সুতরাং তার বিষয়ে আমাদেরও কোনও চিন্তা করার সুযোগ নেই।

[৫] ১০ হাজার টাকার কারণেই কি এ ঘটনা ঘটেছে এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছি। একদিনে তো সব কিছু বলা যাবে না। তবে আমরা একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মরদেহ আবার উঠাবো এবং তদন্ত করবো। সংবাদ স‌ম্মেলনে ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও মামলার ফাইল পায়নি। পেলে তদন্ত কাজ শুরু করবো। এ ক্ষেত্রে তদন্তভার সিনিয়র কোনও অফিসারকে দেয়া হবে।

[৬] উল্লেখ্য, গত শ‌নিবার বিকেলে রায়হান নামের ওই যুবককে বন্দরবাজার থানা পুলিশ আটক করে। ওইদিন রাতে ফাঁড়িতে তার ওপর নির্যাতন চালা‌নো হয় এবং রায়হান‌কে ছাড়‌তে টাকা দা‌বি ক‌রে পুলিশ ব‌লে অ‌ভি‌যোগ রায়হা‌নের প‌রিবা‌রের। ‌রোববার ভোরে অপরিচিত একটি মোবাইল থেকে রায়হান তার বাবা‌কে ফো‌নে জানান, ওই ফাঁড়িতে তাকে আটকে রেখে ছেড়ে দেয়ার জন্য টাকা দাবি করা হচ্ছে। বাবাকে টাকা নিয়ে এসে তাকে উদ্ধারের অনুরোধও করে রায়হান। ছেলেকে বাঁচাতে ভোরে তার বাবা টাকা নিয়ে ওই ফাঁড়িতে গেলে তাকে জানানো হয় রায়হান এখন ঘুমাচ্ছে, সকাল ১০টার দিকে আসতে হবে। পরে সকালে এলে তাকে বলা হয় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে যেতে। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তার ছেলে মারা গেছে।

[৭] এরপর মৃত ছেলের শরীরে নির্যাতনের ভয়াবহ চিহ্ন দেখতে পান তিনি। রায়হানের হাতের নখগুলোও ওপড়ানো ছিল। পুলিশ এরপর দাবি করে রায়হানকে ছিনতাইকারী সন্দেহ করে জনতা গণপিটুনি দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশনের ফুটেজে এর কোনও প্রমাণ মেলেনি। রোববার সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে তার ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকেলে ৩টার দিকে ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। সোমবার এ ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। মামলা দায়েরের পর এর তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইকে।

সর্বাধিক পঠিত