প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভাইয়ের দাপট, পদ নেই-আন্দোলন-সংগ্রামেও নেই তবুও দল চলছে তাঁরই ইশারায়!

এএইচ রাফি: [২] ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও কসবা উপজেলা বিএনপির বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জেলার রাজনীতিতেও। এর পেছনে কারণ দলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব আবদুর রহমান সানির বড় ভাই কবির আহমেদ ভূইয়া। কবিরের দলে কোনো পদ নেই, আন্দোলন-সংগ্রামেও নেই সক্রিয় অংশগ্রহণ। তবুও দল চলছে তাঁরই ইশারায়! দলের রাজনীতিতে কবিরের ‘হস্তক্ষেপকে’ উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো মনে করছেন সবাই। বিষয়টি নিয়ে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

[৩] খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন- সেটি নিয়ে দলে চলছে গ্রুপিং-লবিং। সাম্প্রতিক সময়ে সেটি আরও প্রকট হয়েছে। বিশেষ করে দলীয় কর্মকাণ্ডে কবিরের হস্তক্ষেপের কারণে দুই উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠন বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একপক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসনের সাবেক সাংসদ মুশফিকুর রহমান ও কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতা নাসির উদ্দিন হাজারী। আরেক পক্ষকে কবির আহমেদ ভূইয়া ও আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুসলিম উদ্দিন নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

[৪] বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সংসদ নির্বাচনের আগ থেকে কবির তার ভাই সানির প্রভাব খাটাতে শুরু করেন। ওই নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসন থেকে আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুসলিম উদ্দিন মনোনয়ন পান। আর মুসলিম উদ্দিন পাওয়ার পেছনে মূল করিগর তারেক রহমানের একান্ত সচিব সানি বলে এলাকায় প্রচার করতে থাকেন কবিরের সমর্থকরা। যদিও নির্বাচন কমিশন থেকে মুসলিম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মূলত সংসদ নির্বাচনের পরই লাইমলাইটে আসেন কবির। এরপর থেকেই বিভক্ত হয়ে পড়া দল পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিএনপির রাজনীতিতে কবিরের হস্তক্ষেপকে অযাচিত বলে আখ্যায়িত করেছেন দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে ত্যাগী নেতাকর্মীরা লিখিত অভিযোগও করেছেন। অভিযোগে কবির তার ছোট ভাই সানির দাপট দেখিয়ে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন কমিটি করার কথাও উল্লেখ করা হয়।

[৫] আখাউড়া পৌর বিএনপির সভাপতি বাহার মিয়া বলেন, বিগত সংসদ নির্বাচনে নাসির উদ্দিন হাজারী, মুশফিকুর রহমান ও মুসলিম উদ্দিন প্রার্থী হয়েছিলেন। এর মধ্যে মুশফিকুর রহমান ও মুসলিম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। আর নাসির উদ্দিন হাজারীর মাঠে আসার কোনো পরিবেশ-পরিস্থিতি ছিল না। এরপর থেকেই আমাদের মধ্যে দুইটি গ্রুপ হয়ে যায়। একটি মুশফিক-হাজারী গ্রুপ, আরেকটি মুসলিম গ্রুপ। আমরা পৌর বিএনপি-উপজেলা বিএনপির সমস্ত নেতারা একসাথে। ওনি (মুসলিম উদ্দিন) আলাদা বিভিন্ন প্রোগ্রাম করেন। এটার পেছনে নেতৃত্ব দিচ্ছে কবির।

[৬] তিনি আরও বলেন, কবির তার ভাইকে দিয়ে লন্ডন থেকে ফোন করায় বিভিন্ন কমিটি দেয়ার জন্য। সে কখনোই বিএনপির রাজনীতি করেনি। সে ছাত্রলীগ করতো। তার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আওয়ামী লীগের ইন্ধনেই কবির এখন আমাদের দলে গ্রুপিং সৃষ্টি করে দল ভাঙার চষ্টা করছে।

[৭] কসবা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদল এবং যুবদলের সাবেক সভাপতি শরীফুল ইসলাম বলেন, যে তার (কবির) ব্যাগ টানে তাকেই পদ দিচ্ছে। তার ভয়ে সবাই অস্থির। অথচ বিএনপিতে তার কোনো পদই নেই। সে লিখে কসবা-আখাউড়া বিএনপির কান্ডারী। দলের হাইকমাণ্ডকে আমরা একাধিকবার চিঠি দিয়ে বিষগুলো জানিয়েছি।

[৮] তবে কবির আহমেদ ভূইয়া বলেন, আমার ভাইকে কেনো টানা হচ্ছে? এসবের সঙ্গে আমার ভাইয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। আমার ভাই যেখানে আছে সেটা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জন্য গর্ব। আমি বিএনপির একজন সমর্থক। কাজ করার জন্য কোনো পদে থাকা জরুরি না। মনের মধ্যে দলের জন্য ভালোবাসা থাকা জরুরি। আর আমি কোনো কমিটি দেইনি।

[৯] এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা বলেন, দলে প্রতিযোগীতা থাকবে এটাই বাস্তব। বিএনপি অনেক কঠিন ও ব্যতিক্রম। কে গ্রুপিং করছে না করছে সেটি নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথা নেই। আমরা গ্রুপিং বুঝি না, বিএনপি এখন এক আছে। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত