প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] যৌতুক মামলায় জামিন পেলেন নীলফামারীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

র‌হিদুল খান: [২] আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জামিন নিলেন নীলফামারীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা।

[৩] দ্বিতীয় স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় বুধবার যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তিনি। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দীন হোসাইন তার জামিন মঞ্জুর করে মামলাটি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে বদলি করেন। একই সঙ্গে আগামী ১৬ নভেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়।

[৪] মাসুদ রানা পাবনার সাথিয়া উপজেলার আফতাবনগর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে। বর্তমানে তিনি নীলফামারী জেলায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত আছেন।

[৫] গত ১৪ সেপ্টেম্বর যশোর আদালতে তার স্ত্রী ফারজানা নাসরিন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, রানা ২০১৯ সালের ২১ জুন শামসি নাহিদ নামে এক নারীকে প্রথমে বিয়ে করেন। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর মাত্র সাড়ে চার মাসের মাথায় তাকে তালাক দেন। এরপর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই মামলার বাদী যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা নাসরিনের সঙ্গে তার পরিচয়। ফারজানা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়ার ইকরামুল হকের মেয়ে।

[৬] তিনি অভিযোগ করেন, মাসুদ রানা প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখেছিলেন নাসরিনের কাছে। পরে পারিবারিকভাবে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ফারজানা নাসরিনের সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্যে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নাসরিনের বাবা পাঁচ লাখ টাকার মালামাল ও দুই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দেন। কিছুদিন সংসার করার পর ঢাকার পূর্বাচলে প্লট কেনার জন্য নাসরিনের কাছে দশ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন মাসুদ রানা। নাসরিন বাবার বাড়ির লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করে তার স্বামী মাসুদ রানাকে পাঁচ লাখ টাকা দেন। বাকি পাঁচ লাখ টাকা দিতে না পারায় নাসরিনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন স্বামী। এই পর্যায়ে গত ২৯ আগস্ট বিকেল পাঁচটার দিকে মাসুদ রানাকে ডেকে এনে যৌতুক ছাড়া বাদীকে নিয়ে সংসার করার অনুরোধ করেন। কিন্তু যৌতুক ছাড়া তাকে নিয়ে সংসার এবং দেনমোহর-খোরপোষও প্রদান করা হবে না বলে মাসুদ রানা চলে যান। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর ফারজানা নাসরিন বাদী হয়ে যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন।

[৭] অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর মাসুদ রানা পাবনার সাথিয়া উপজেলার আফতাবনগর গ্রামের জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী রানী খাতুনসহ তিনজন যশোর শহরের পালবাড়ি মোড়ে ফারজানা নাসরিনের বাসায় আসেন। ওই সময় যৌতুকের টাকা নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ফারজানা নাসরিনকে মারপিট করে হত্যার চেষ্টা করেন মাসুদ রানা ও তার সহযোগীরা। বাসার অন্যরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। এর পর ফারজানা নাসরিন ২২ সেপ্টেম্বর যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ আরো একটি মামলা করেন। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত