প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আনোয়ার হক: করোনা চিকিৎসায় বিড়ম্বনা, হয়রানি এবং বিপরীত চিত্র-৩

আনোয়ার হক: প্রথম হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ১৫ লিঃ অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়া হয়েছিল। সেই মাত্রাটি চলছিল তৃতীয় এবং শেষ হসপিটালের প্রথম দিন পর্যন্ত। দ্বিতীয় দিন লিড ফিজিসিয়ান ২ লিঃ কমিয়ে সহকারীদের বললেন পর্যবেক্ষণে রেখে কয়েক ঘন্টা পর উনাকে জানাতে। ফলাফল সন্তোষজনক হওয়ায় পরদিন সকালে আরো ২ লিঃ কমানোর নির্দেশনা দিলেন। মুখে খাওয়ার ওষুধের সংখ্যা কমতে শুরু করলো।

হাসপাতালের চতুর্থ এবং পঞ্চম দিন ছিল ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য সবচেয়ে বিড়ম্বনাময়! স্ট্রং ডায়রিয়া দেখা দিল শেষ রাতের দিকে। ডিউটি ডাক্তার নাস্তার পর দুটি ট্যাবলেট দিলেন। যথারীতি আটটায় লিড ফিজিসিয়ান এসে সব কিছু শুনে ডিউটি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন বহাল রেখে কলেরার স্যালাইন প্রেসক্রাইপড করলেন। দশ পনের মিনিটের মধ্যে স্যালাইন শুরু হলো। সাথে জাউ ভাত আর কাঁচকলা সেদ্ধ খাওয়ার পরামর্শ। ডায়রিয়ার কষ্ট কমতে কমতে প্রায় পরদিন বিকাল হয়ে গেল। পার্শ-প্রতিক্রিয়া হিসাবে ইলেকট্রোলাইটের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কিছুটা নেমে গেল। যোগ হলো নতুন দুটি ট্যাবলেট এবং ডাবের পানি, মালটার রস আর রাইস স্যালাইন।

প্রধান চিকিৎসক সাহেব প্রতি সকালের রাউন্ডে এসে সহকারীদের পর্যবেক্ষণ আর আমার অনুভূতি শুনে ক্রমাগত অক্সিজেন সাপোর্টের মাত্রা কমাতে থাকলেন। অক্সিজেন সাপোর্ট যখন ৫ লিঃ হলো তখন মাস্কের পরিবর্তে নজাল টিউব ব্যবহার করতে নির্দেশনা দিলেন। অবশ্য শুরু থেকেই খাওয়ার সময়টুকু নজাল ব্যবহার করতে হতো। মাস্কের পরিবর্তে নজাল টিউব ব্যবহার অতিশয় স্বস্তিদায়ক। ৫ লিঃ অক্সিজেন চলাকালীন মাঝেমধ্যে কয়েক মিনিটের জন্য অক্সিজেন না নিয়ে বুঝতে বললেন খুব বেশি খারাপ লাগে কিনা। আমি তাই করতে থাকলাম ডাক্তার সাহেবের দুই রাউন্ডের মাঝের সময়ে।

একদিন দুপুরের দিকে নতুন একজন মহিলা চিকিৎসক এলেন। আলাপচারিতায় অনুমান করলাম তিনি সাইকিয়াট্রিস্ট। অনেক কিছু আলোচনা করলেন। দেওয়ালে ঝুলানো টিভি সেট দেখিয়ে বললেন, “টিভি দেখেন?” বললাম, “না।” তিনি টিভিতে বিভিন্ন গানের অনুষ্ঠান, বিনোদনমুলক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, কৌতুক, কার্টুন ইত্যাদি দেখতে বলে গেলেন। মাঝেমাঝে টিভি অন করতাম। খবর দেখতাম। কিন্তু বেশি দেখতে ভাল লাগতো না।

কেবিনে স্থানান্তরিত হওয়ার পর নিকটাত্মীয়রা দেখা করতে উদগ্রীব হয়ে উঠলো। সবাই ফুল পিপিই সেট কিনে রেডি। প্রতিদিন তিন চার জন করে আসতে শুরু করলো। পিপিইর ভিতরে কে আছে বুঝতে কিছুটা সময় লাগতো … কথা বলা পর্যন্ত। বাসায় যেহেতু এক ঘরেই বাস সেহেতু গিন্নি প্রথম দিন থেকেই কেবিনের এটেন্ডেন্ট বেডে থাকার অনুমতি পেয়ে গিয়েছিলেন।

ICU এর সময়কাল বাদে আর হাসপাতালের খাবার খেতে হয়নি আমাকে। দুই ভাই এর বাসা থে‌কে পালা করে খাবার সরবরাহ চলমান ছিল। খাবারে কোন বাধানিষেধ না থাকায় আমার পছন্দের মজাদার খাবারগুলোই খেতে পেয়েছি জাউ ভাত আর কাঁচকলা খাওয়ার দুই দিন বাদে। হসপিটালের লাল চা খেতাম, কারণ এলাচ, দারুচিনি জ্বাল দেয়া গরম পানিতে টি ব্যাগ দেয়া চা’টা খুবই মজা লাগতো। আমার পিঠাপিঠি ছোট ভাইটির অফিস এবং বাসা হাসপাতাল থেকে এক দেড় কিলোমিটার এর মধ্যে হওয়ায় সে যখন তখন চলে আসতো। ওর উপস্থিতি আমাকে একটু বেশি প্রফুল্ল রাখতো। পিঠাপিঠি ভাই বলে কথা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত