প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে এক মাসের মধ্যে ঋণশোধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

রাশিদুল ইসলাম : [২] দু’কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের ওপরে সুদ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য মোদি সরকার সময় চেয়েছিল এক মাস। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বুধবার সরকারকে নির্দেশ দিল, ২ নভেম্বরের মধ্যে সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ এদিন সরকারকে প্রশ্ন করে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে তা কার্যকর করতে এত সময় লাগবে কেন? বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি এম আর শাহ বলেন, সাধারণ মানুষ এবছর দেওয়ালি পালন করবে কিনা, তা স্থির করবে সরকার। টাইমস অব ইন্ডিয়া

[৩] পরে বিচারপতি এম আর শাহ বলেন, সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। যারা দু’কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন, তাদের নিয়ে আমাদেরও চিন্তা হচ্ছে। করোনাভাইরাস ঠেকাতে ভারত জুড়ে যে লকডাউন জারি করা হয়েছিল, তাতে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের অনেকে এখনই ঋণ শোধ করতে পারছেন না। তাদের স্বার্থে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে মোদি সরকারকে।

[৪] ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে জানিয়েছে, ঋণের সুদের ওপরে সুদ মওকুফ করা হবে। তাতে ঋণগ্রহীতারা তো বটেই এমনকি ব্যাঙ্কও সুবিধা পাবে। এদিন সুপ্রিম কোর্টে সরকারি কৌঁসুলি বলেন, এর ফলে ‘বিরাট বোঝা’ চাপবে সরকারের ওপরে। যদিও ঠিক কী পরিমাণে কম অর্থ আদায় হবে তা তিনি বলেননি।

[৫]গত মার্চে করোনা অতিমহামারীর জন্য ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ঋণ শোধের ওপরে তিন মাসের মোরাটোরিয়াম ঘোষণা করে। পরে তার মেয়াদ ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এর মধ্যে ঋণগ্রহীতাদের তরফে সুপ্রিম কোর্টে কয়েকটি পিটিশন জমা পড়ে। তাতে সুদের ওপরে ছ’মাসের মোরাটোরিয়াম জারি করার আর্জি জানানো হয়েছিল। সেই আবেদনের ভিত্তিতে সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে বলে, ঋণগ্রহীতাদের সাহায্য করার জন্য কোনও উপায় ভাবতে হবে।

[৬] বুধবারেই ভারত সরকারের ঘোষণা করার কথা ছিল, কীভাবে মোরাটোরিয়ামের সময়সীমা বাড়ানো হবে, সুদ মকুব করা হবে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রকে কীভাবে রিলিফ দেওয়া হবে। সুদ মকুব করলে অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে, তা জানার জন্য তৈরি হয়েছিল মহর্ষি কমিটি। সেই কমিটির বিভিন্ন সুপারিশের ওপরেও এদিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার শীর্ষ আদালতে বলে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ১৫ নভেম্বর অবধি সময় চাই।

[৭] বিচারপতি অশোক ভূষণ, বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডি ও বিচারপতি এম আর শাহকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ এদিন বলে, “আমাদের মতে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এক মাস সময় লাগা উচিত নয়। এত দেরি করলে সাধারণ লোকের স্বার্থ রক্ষা করা যাবে না।”

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত