প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফিরোজ আহমেদ: ধর্ষকের সামাজিক ক্ষমতাকে বন্ধ করেই সমাজে ধর্ষণ বন্ধ সম্ভব

ফিরোজ আহমেদ: এটা খুব পরিষ্কার করে বলে রাখি, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড না যাবজ্জীবন হবে, সেটাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেনি। ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনটি গড়ে উঠেছে, ধর্ষণের যে সামাজিক ভিত্তি, যে গুণ্ডাতন্ত্র ধর্ষককে ক্ষমতা যোগায়, যে প্রশাসন ধর্ষককে রক্ষা করবার চেষ্টা করে, যে পরীক্ষা পদ্ধতি ধর্ষককে পার পাইয়ে দেয়, যে বিচার ব্যবস্থা ধর্ষককে রেহাই দেয় এবং যে জবাবদিহিতা, হীনতা ধর্ষকের এই পাহারাদারদেরও নিষ্কৃতি দেয় তার বিরুদ্ধে। ধর্ষক উৎপাদনের কারখানা অটুট রেখে মৃত্যুদণ্ড বা অন্য কোনো দণ্ডে ধর্ষণ বন্ধ হবে না। সাফ কথা। এসিড সন্ত্রাসকে মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করেনি, আজ পর্যন্ত কয়টা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে এসিড ছোড়ার দায়ে? এসিড নিক্ষেপ বন্ধ হয়েছে, এসিডের বিক্রি। প্রাপ্যতাকে কঠিন করার মধ্য দিয়ে। শাস্তির মাত্রা না, অপরাধটাকে কমিয়ে এনেছে অপরাধটা সংঘটনের সুযোগটাকে কঠিন করে দেওয়া।
ধর্ষকের এই সামাজিক ক্ষমতাকে বন্ধ করেই সমাজে ধর্ষণ বন্ধ সম্ভব। সে যদি ভাবে তদন্ত-বিচার ইত্যাদি প্রক্রিয়া রেহাই পাবে, যদি ভাবে তার গুণ্ডাতন্ত্রকে ধর্ষিতা ভয় পেয়ে চুপ করে থাকবে, তাহলে ধর্ষণ ঘটবেই, হত্যাকাণ্ড ঘটবেই। মৃত্যুদণ্ড কিংবা ক্রসফায়ার মাদক বন্ধ করেনি। বরং মাদক-দুর্নীতির পাহারাদার ভোটাধিকারহীন রাষ্ট্র তার গুণ্ডাতন্ত্রকে তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে দিয়ে ধর্ষকদের প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি এই সরকারের মোক্ষ, মাদকবাণিজ্য তৃণমূলে তার সাংগঠনিক অর্থনীতির যোগান দেয়। তাই মৃত্যুদণ্ড কিংবা ক্রসফায়ার মাদককে বন্ধ করেনি। এই গুণ্ডাতন্ত্রকে উচ্ছেদ করলেই সন্ত্রাস-ধর্ষণ, মুক্তরাষ্ট্র পাওয়া সম্ভব। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত