প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘মুগ্ধকর এবং হৃদয়বিদারক’, বিলাসবহুল বৃহদাকার জাহাজগুলো ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে

রাশিদ রিয়াজ : তুরস্কের আলিয়াগা বন্দরটি এখন বড় বড় বিলাসবহুল জাহাজগুলো যেগুলো ‘ক্রুজশিপ’ নামে পরিচিত সেসবের ভাগাড় হয়ে উঠেছে। কোভিড মন্দা এর জন্যে দায়ী। জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের জন্যে হয়ত এ পরিস্থিতি পোয়াবারো। ইতিমধ্যে তুরস্কের ওই বন্দরে বেশ কয়েকটি বৃহদাকার জাহাজ ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, বাকিগুলো ভাঙ্গা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে যাত্রীদের নিয়ে এসব জাহাজ সাগর পাড়ি দেয়ার কথা ছিল। এসব শিপিং কোম্পনি লাটে উঠেছে। অথচ করোনাভাইরাসের আগে এসব কোম্পানির আয় ছিল বিলিয়ন ডলার আর বিশ^ব্যাপী নামদামও ছিল বেশ। সিএনএন/বিল্ডস

যারা ‘টাইটানিক’ সিনেমা দেখেছেন তারা সহজেই আঁচ করতে পারবেন এসব জাহাজ সম্পর্কে। কি নেই? সুইমিং পুল, খেলার মাঠ, শপিং মল, জিম যেন এক ছোট শহর। কয়েক মাসের টিকিট কিনে ধন্যাঢ্য ব্যক্তিরা ভ্রমণে বের হতেন এসব জাহাজে। এক মহাসাগর থেকে আরেক মহাসাগর কিংবা এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে। এধরনের জাহাজ শিল্পে তুরস্ক অনেকটা এগিয়ে ছিল। দেশটির আলিয়াগা বন্দরে আমাদের দেশের সীতাকুণ্ডের মত জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। কোভিড মন্দায় খুব সহসা ভ্রমণের কোনো সুযোগ না থাকায় এবং এসব জাহাজ চালু রাখতে যে বিশাল খরচ তা বহনের মত অবস্থা কোম্পানিগুলোর নেই। কারণ ব্যাংক ঋণ নিয়ে কর্মচারির বেতন দিয়ে আয় না হলে কোম্পানিগুলো ঋণ খেলাপি হয়ে পড়তে পারে। এবছর আলিয়াগা বন্দরে তাই ভিন্ন চিত্র। ‘কার্নিভাল ফ্যান্টাসি’ নামে বিখ্যাত জাহাজটি গত বছর সবচেয়ে ভাল ব্যবসা করেছিল, সেটিকেও ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। শিপিং কোম্পানিগুলো লোকসান এড়াতেই নতুন ব্যবসা পরিকল্পনার চেয়ে আপাতত জাহাজগুলো ভেঙ্গে বিক্রি করে দিচ্ছে। অনেক জাহাজ বিক্রি করে দেয়াও হচ্ছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রুজ কোম্পানি কার্নিভাল করপোরেশন তাদের দুটি বড় জাহাজ ‘সান প্রিন্সেস’ ও ‘সি প্রিন্সেস’ সহ ১৮টি জাহাজ বিক্রি করে দিচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে কোম্পানিটি এর ১২ শতাংশ জাহাজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। ‘কোস্টা ভিক্টোরিয়া’র মত নামকরা জাহাজটিও বিক্রি হয়ে গেছে। এসব জাহাজ দশকের পর দশকের পর সাগরে চলেছে। যখন শিপ কোম্পানিগুলো লোকসানের মুখে পড়েছে তখন আলিয়াগায় জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে রীতিমত ‘বুম’ চলছে। জাহাজ ভাঙ্গার পর জিনিসপত্র বিক্রি বেড়েছে গত বছরের চেয়ে ৩০ শতাংশ। ট্রাভেলার সাময়িকী বলছে আরো বড় বড় জাহাজ ভাঙ্গার জন্যে আলিয়াগায় রওনা দিয়েছে এবং এ জাহাজ ভাঙ্গা চলবে আগামী ৬ মাস পর্যন্ত। সিএনএন প্রতিবেদক পিটার কেঙ্গো আলিয়াগা বন্দর সরেজমিনে ঘুরে এসে বলেছেন কোনো প্রাকৃতিক স্থানে সৈকতে এমন বড় বড় বিলাসবহুল জাহার ভেঙ্গে ফেলা দেখতে আকর্ষণীয় ও হৃদয়বিদারক উভয়ই। চকচকে চমৎকার জাহাজগুলো ঠিকই আছে কিন্তু যে অংশ ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে তা এর সঙ্গে দেখতে বড্ড বেমানান। খুব সহজে এসব জাহাজে চড়ে মনোমুগ্ধকর সেই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা মনে পড়ে যাবে কারো। এসব জাহাজ কেনার জন্যে কোনো সাড়া না পাওয়া গেলে ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে।

সৈকতে জ্বলজ্বলে জাহাজগুলোকে ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে জরাজীর্ণ অবস্থায় বেশ কয়েকটিকে ফেলে রাখা হয়েছে। সাগের ভেসে যাওয়ার সেই গৌরবময় দিনগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। জাহাজগুলো পরিণত হচ্ছে স্ক্রাপে। ড্রোন থেকে তোল ছবিতে জাহাজের অর্ধেক আগের মতই বাকি অর্ধেক কঙ্কালের মত দেখা যাচ্ছে। জাহাজের ছাদে দেখা যাচ্ছে গল্ফ মাঠ। শুধু যাত্রী নেই। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের এসব বড় বড় শিপিং কোম্পানির ভবিষ্যত অজানায় পরিণত করেছে করোনাভাইরাস। মহামারীর আগে বছরে দেড়’শ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্পে আরো অনেক জাহাজ তৈরি হচ্ছিল। সেগুলো পড়ে আছে ডকইয়ার্ডে। আবার ব্রিটেনের ফ্রেড ওলসেন ক্রুজ, হল্যান্ড আমেরিকা শিপিং কোম্পানির কাছ থেকে দুটি জাহাজ কিনেছে। ক্রুজ শিপ ঐতিহাসিক বিল মিলার সিএনএন ট্রাভেলকে বলেন আমি জানিনা বিশ্বের কোন শিপিং কোম্পানি এখন কয়টি জাহাজ কিনছে। কারণ যারা জাহাজ ভাঙ্গে তারাই এখন এসব জাহাজের বড় ক্রেতা হয়ে গেছে। তারা জাহাজ ভেঙ্গে আসবাবপত্র, বাথরুম ফিটিংস, ইনটেরিয়র বা সাজসজ্জা উপকরণ স্থানীয়ভাবে বিক্রি করছে বা সংগ্রাহকরা তা সংগ্রহ করে নিচ্ছে। মনে হচ্ছে ফিকশন মুভির মত এসব জাহাজ ভাংচুর হচ্ছে এবং লোহা লক্করের কঙ্কালে পরিণত হচ্ছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত