প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খান আসাদ: এটি নারী ও শিশুর প্রতি যৌনসহিংসতাবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হোক

খান আসাদ : চলমান আন্দোলনটি কেবল নারী ‘ধর্ষণ’ বিরোধী থেকে নারী ও শিশুর প্রতি যৌনসহিংসতা বিরোধী আন্দোলনে পরিণত হোক। মাদ্রাসায় শত শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এদের প্রসঙ্গটিও সামনে আসুক। পুঁজিবাদের বর্তমান চরিত্রটিকে অনেকে সার্ভিলেন্স ক্যাপিটালিজম বা নজরদারী পুঁজিবাদ বলেন। মানে আমরা যাই বলি বা করি, তা নজরদারির মধ্যে আছে। দুই কারণে, [১] আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য এখন পণ্য, সেটা নিয়ে ব্যবসা করা হয়। [২] ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা’ রক্ষার নামে লুটেরা শ্রেণি সিণ্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য সারভিলেন্স আছে। পুঁজিবাদী সংবাদ মাধ্যম ‘ধর্ষণ’ শব্দটি বিক্রি করছে, মুনাফার জন্য। সহিংস পিতৃতন্ত্র এই ধরনের শব্দ শুনতে চায় ও চালু রাখতে চায়। ধর্ষণ নিয়ে কৌতুক বানায়। ধর্ষণের সহিংস বর্ণনার কপিক্যাট এফেক্ট আছে। ফলে কী ভিডিও শেয়ার করছেন ও কী ভাষা ব্যবহার করছেন, দ্বিতীয়বার ভাবুন।

নারী ও শিশুর প্রতি যৌনসহিংসতা বন্ধের সাথে পিতৃতান্ত্রিক চিন্তা, বিশ্বাস, প্রথা, সামাজিকায়ন ও সংস্কৃতি বদলানোর দাবি তোলেন। নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষা সংস্কারের দাবি তোলেন। কেবল কঠোর আইন দিয়ে হবে না। সামাজিক আন্দোলনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগান। ইনক্লুসিভ কৌশল নিন, যাতে পুলিশেরাও আপনার আন্দোলনে অংশ নেয়, যেমন নিয়েছে আমেরিকার শাদা পুলিশ। এমন সব ইস্যু বা বিতর্ক যা আন্দোলনের মূল বার্তাকে আড়াল করে, ধোঁয়াশা তৈরি করে, হিডেন এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে। আন্দোলনকারীদের বিভক্ত করে, এই ধরনের ফাঁদগুলো সম্পর্কে সচেতন হোন। জনগণই ইতিহাসের চালিকা শক্তি। সামাজিক আন্দোলনের পথেই গণক্ষমতার বিকাশ ঘটে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধের জন্য আপনার ব্যক্তি ভূমিকাও অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হোন। সাম্য ও শান্তির মানবিক পৃথিবী সম্ভব, যদি আমরা সেটার স্বপ্ন দেখি ও অর্জনের পথে সক্রিয় থাকি। ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত